আজ, ৮ জুলাই, নীতু কাপুরের জন্মদিন। ফিরে দেখা যাক এই উজ্জ্বল অভিনেত্রীর জীবনের গল্প, যিনি ছোট থেকেই আলো ছড়িয়েছেন রূপোলী পর্দায়, শুধু তাই নয়, জীবনের প্রতি ধাপে ছুঁয়ে গিয়েছেন মানুষের হৃদয়।

শেষ আপডেট: 8 July 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, ৮ জুলাই, নীতু কাপুরের জন্মদিন। ফিরে দেখা যাক এই উজ্জ্বল অভিনেত্রীর জীবনের গল্প, যিনি ছোট থেকেই আলো ছড়িয়েছেন রূপোলী পর্দায়, শুধু তাই নয়, জীবনের প্রতি ধাপে ছুঁয়ে গিয়েছেন মানুষের হৃদয়।
১৯৫৮ সালের এই দিনেই দিল্লির এক জাট শিখ পরিবারে জন্ম নীতু কাপুরের। আসল নাম হরনীত কৌর সিং। ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল টান ছিল তাঁর। মাত্র ৮ বছর বয়সে ‘বেবি সোনিয়া’ নামে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ‘সূরয’ ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে বলিউডে অভিষেক, আর তার পরেই 'দো কলিয়াঁ' ছবির যমজ চরিত্র গঙ্গা ও যমুনার মাধ্যমে দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নেন। ‘বচ্চে মন কে সচ্চে’ গানের সেই নিষ্পাপ হাসি আজও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন। শৈশবে বাবা দর্শন সিংয়ের অকালপ্রয়াণ তাঁর জীবনে নেমে এনেছিল এক শূন্যতা। এরপর পরিবার চলে আসে মুম্বইয়ের পেডার রোডে, এবং সেখানেই হিল গ্রেঞ্জ হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন নীতু।

১৯৭৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন 'রিকশাওয়ালা' ছবিতে, রণধীর কাপুরের বিপরীতে। এরপর ‘লেকর হাম দিওয়ানা দিল’ গানে মন জয় করে নেন তরুণ দর্শকদের। কিন্তু ভাগ্যে লেখা ছিল অন্য এক প্রেমগাথা—ঋষি কাপুরের সঙ্গে। ‘জহরিলা ইনসান’ ছবির সেটেই শুরু হয় সেই মিষ্টি প্রেম। ঋষির কিশোরসুলভ কাণ্ডকারখানা ধিরে ধিরে নীতুর মনে জায়গা করে নিতে থাকে। প্রেমের টেলিগ্রাম থেকে শুরু করে ইউরোপ থেকে পাঠানো চিঠি—সব মিলিয়ে এক রূপকথার মতো গল্প।
সাতের দশকে একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন ঋষি ও নীতু—‘খেল খেল মে’, ‘কভি কভি’, ‘অমর অাকবর অ্যান্টনি’ আর ‘দুসরা আদমি’—সব ছবিই সুপারহিট। দু’জনের ঝলমলে রসায়ন ছিল পর্দায়।

১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি, সেই প্রেম পূর্ণতা পায়। বিয়ের হয় দু’জনের। তখন নীতুর বয়স মাত্র ২১। তারপর অভিনয় জগত থেকে বিদায় নেন, কিন্তু জীবন নিয়ে কোনও আক্ষেপ ছিল না তাঁর। পরিবারই ছিল তাঁর প্রাধান্য। কন্যা ঋদ্ধিমা ও পুত্র রণবীর এর জন্ম হয়। ঋদ্ধিমা আজ একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার, রণবীর আজকের অন্যতম সুপারস্টার। প্রথমে চেম্বুরে রাজ কাপুরের বাড়িতে থাকতেন তাঁরা, তারপর চলে যান পালি হিলের ‘কৃষ্ণা’ বাংলোয়।

শাশুড়ি কৃষ্ণা রাজ কাপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অসাধারণ। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “আমি ওঁকে আমার মায়ের থেকেও বেশি ভালোবাসতাম।” ২০১৮ সালে শাশুড়ির প্রয়াণে তিনি লিখেছিলেন, “তিনি ছিলেন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”
২০০৯ সালে দীর্ঘ ২৬ বছর পর ‘লাভ আজ কাল’ ছবিতে ঋষি কাপুরের সঙ্গে ফিরলেন বড় পর্দায়। এরপর ‘দো দুনি চার’, ‘জব তক হ্যায় জান’, ‘বেশরম’-এ অভিনয় করে আবারও প্রমাণ করলেন, তাঁর জাদু আজও অমলিন। পেয়েছেন একাধিক সম্মান ও পুরস্কার। ২০১১ সালে পান 'লাইফটাইম জোড়ি অ্যাওয়ার্ড', তাও আবার সেই ঋষি কাপুরের সঙ্গে।
![]() | ![]() | ![]() |
২০২০ সালে ঋষি কাপুরের মৃত্যু নীতুর জীবনে এক গভীর শূন্যতা আনে। তবে নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই ছড়িয়ে দেন ইতিবাচক বার্তা, জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং প্রিয়জনদের মূল্য বোঝানোর কথা। একবার তিনি লেখেন, “বড় হোক বা ছোট, আমাদের সবার মনে লড়াই চলে। বিলাসবহুল বাড়ি থেকেও কেউ সুখী নাও হতে পারে, আবার কিছু না থাকলেও কেউ হতে পারে সবচেয়ে খুশি। সবই মনের খেলা। কৃতজ্ঞতা, আশা আর কঠোর পরিশ্রম—এই তিনেই জীবনের আসল সাফল্য। পরিবারই সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

নীতু কাপুর আজ শুধু একজন অভিনেত্রী নন, এক মা, স্ত্রী, কন্যা ও একজন সত্যিকারের যোদ্ধা—যিনি জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে নিজেকে চিনিয়েছেন। আজ ৬৭ বছর বয়সেও তিনি রীতিমতো ফিট, স্টাইলিশ এবং তরুণদের মতো অনুপ্রেরণাদায়ী।