রাজ আর শুভশ্রীর আজকের এই সুন্দর, পরিপূর্ণ সংসারের ছবি দেখে হয়তো কোথাও শতাব্দীর হৃদয়েও জন্ম নেয় এক বিন্দু শান্তি—কারণ তিনি এক সময় সেই স্বপ্নপথে রাজের পাশে ছিলেন।

রাজ-শুভশ্রী-শতাব্দী
শেষ আপডেট: 18 July 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ার চর্চিত নাম রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালক-অভিনেত্রী জুটিকে আজ অনেকে দেখে ‘সুখী দম্পতি’র প্রতিচ্ছবি হিসেবে। দুই সন্তান—ইউভান আর ছোট্ট ইয়ালিনি। তাদের নিয়ে সাজানো সংসার। রঙিন ছবির মতো তাঁদের জীবন দেখে অনেকেই আজ বলে ওঠেন, ‘স্বপ্নের জুটি’।
কিন্তু এই রাজের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক অজানা অধ্যায়, রয়েছে কিছু হারিয়ে যাওয়া নাম, কিছু মুখর স্মৃতি আর ভাঙনের ছাপ। এমনই এক গল্প রাজ চক্রবর্তীর প্রথম স্ত্রী শতাব্দী মিত্রকে ঘিরে, যাঁর নাম আজ কেবলই টলিউডের ইতিহাসের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা।
২০০০ সালের দিকে এক চ্যানেলের অনুষ্ঠানে আলাপ হয় রাজ ও শতাব্দীর। তখনকার রাজ স্ট্রাগল করছেন প্রতিনিয়ত, পরিচালক হিসেবে তখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি। চোখে শুধুই স্বপ্ন, আর সেই সময় পাশে ছিলেন শতাব্দী—যিনি নীরবে সেই স্বপ্নে নিজের বিশ্বাস যোগ করতেন। সময়ের সঙ্গে প্রেম গড়ায় সংসারে। শত বাধা পেরিয়ে, পরিবারের মত না থাকলেও, ২০০৬ সালে বিয়ে করেন তাঁরা।
শোনা যায়, শতাব্দী ছিলেন রাজের জীবনের প্রথম ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’। বিয়ের দু’বছরের মাথায় রাজের প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ মুক্তি পায়, আর তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তবে, সাফল্যের আলোর সঙ্গে সঙ্গে জীবনে এক ছায়াও এসে পড়ে। গ্ল্যামার, খ্যাতি আর টলিউডের ঝলকানিতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে সেই একান্ত সম্পর্কের নরম মুহূর্তগুলি।
দূরত্ব বাড়ে, তৈরি হয় ফাঁক। এক সময় এসে সেই সম্পর্ক শেষ হয় ২০১১ সালে আইনি বিচ্ছেদে। এরপর রাজের জীবনে আসে আরও কিছু সম্পর্ক—পায়েল সরকার, মিমি চক্রবর্তী। মিমির সঙ্গে প্রেম এমন জায়গায় পৌঁছয় যে তাঁদের নিয়ে গুঞ্জন ওঠে পুরীর মন্দিরে গোপনে বিয়েরও। কিন্তু সেই সম্পর্কও টিকেনি। মিমির বিদেশ সফরের সময় তৈরি হওয়া দূরত্বই নাকি ভাঙনের কারণ।
ঠিক তখনই জীবনে আসেন শুভশ্রী। রাজের জীবনের সব উত্থান-পতনের পর যেন হঠাৎ করে নতুন করে সাজে গল্পটা। অনেক দিন পর ফের একবার তিনি ঘর বাঁধেন। ২০১৮ সালে শুভশ্রীকে বিয়ে করেন রাজ। এরপর আসে তাঁদের প্রথম সন্তান ইউভান, আর তারপর কোল জুড়ে আসে এক কন্যা ইয়ালিনি।
আজ রাজ-শুভশ্রীর সংসার যেন এক ছবির মতো। সুখ, সাফল্য, পরিবার—সবই এক ফ্রেমে। কিন্তু এই গল্পের ছায়ায় রয়ে গিয়েছে শতাব্দী মিত্রর অবদান। যিনি ছিলেন রাজের শুরুটা আঁকা সেই ক্যানভাস। যাঁর হাত ধরে রাজ জীবনের প্রথম রঙ তুলেছিলেন।
আজ রাজের জীবনে নেই শতাব্দী। শোনা যায়, শতাব্দীও নাকি এখন বিদেশে, নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন, নতুনভাবে সংসার পেতেছেন। যদিও তাঁর বর্তমান জীবন ঘিরে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তবুও কোথাও যেন মনে হয়, জীবনের প্রতিটি মানুষই আসে কোনও না কোনও কারণেই। কেউ শুরুতে থাকে, কেউ শেষে। কেউ শুরুর আলো দেখায়, কেউ পৌঁছে দেয় গন্তব্যে।
রাজ আর শুভশ্রীর আজকের এই সুন্দর, পরিপূর্ণ সংসারের ছবি দেখে হয়তো কোথাও শতাব্দীর হৃদয়েও জন্ম নেয় এক বিন্দু শান্তি—কারণ তিনি এক সময় সেই স্বপ্নপথে রাজের পাশে ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে নেই, তবুও রাজের জীবনের গল্প পাতায় তিনি রয়েছেন—এক হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার মতো, এক ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’র ছায়া হয়ে।