আলো আর ছায়ার ভাষা তিনি শিখেছেন নিজের চোখ দিয়ে। ক্যামেরার ফ্রেমে জীবনের সূক্ষ্মতম স্পন্দনকে ধরে রাখার নেশায় বুঁদ হয়ে যিনি বড় হয়েছেন, আজ তাঁর হাত ধরে ভারত পৌঁছে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের আসরে। সিনেমাটোগ্রাফার অর্ণব লাহা—কলকাতার ছেলে, এসআরএফটিআই-এর প্রাক্তনী, যাঁর নাম আজ বিশ্ব চলচ্চিত্র মানচিত্রে জ্বলজ্বল করছে এক নতুন দীপ্তিতে।

অর্ণব লাহা
শেষ আপডেট: 7 August 2025 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলো আর ছায়ার ভাষা তিনি শিখেছেন নিজের চোখ দিয়ে। ক্যামেরার ফ্রেমে জীবনের সূক্ষ্মতম স্পন্দনকে ধরে রাখার নেশায় বুঁদ হয়ে যিনি বড় হয়েছেন, আজ তাঁর হাত ধরে ভারত পৌঁছে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের আসরে। সিনেমাটোগ্রাফার অর্ণব লাহা—কলকাতার ছেলে, এসআরএফটিআই-এর প্রাক্তনী, যাঁর নাম আজ বিশ্ব চলচ্চিত্র মানচিত্রে জ্বলজ্বল করছে এক নতুন দীপ্তিতে।
এশিয়ার ৪০টি দেশের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয়েছে মাত্র ২৪ জন উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাকে। তাঁদের মধ্যেই একমাত্র ভারতীয় প্রতিনিধি অর্ণব। বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অন্তর্গত বিশেষ প্রজেক্ট ‘বাফা’-র (BAFA) জন্য সরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর এই পথচলায় তাঁর সঙ্গী একজন ইরানি পরিচালক। যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাণ করতে চলেছেন তাঁরা—যার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে এই উৎসবেই।
এই প্রজেক্টে অংশ নেওয়া শুধু সম্মানজনক নয়, এটা এক নতুন দিগন্তের দিকচিহ্নও বটে। কারণ বুসান শুধু এশিয়ার বৃহত্তম চলচ্চিত্র উৎসব নয়, কান, ভেনিস, বার্লিন, টরন্টোর সঙ্গে এটি বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম। অর্ণবের হাতে তাই ধরা পড়ছে এক অনন্য সুযোগ, যেখান থেকে ভবিষ্যতের বহু দরজা খুলে যেতে পারে।

অর্ণব
তবে আজকের এই সাফল্য একদিনে আসেনি। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাল্টিমিডিয়া আর অ্যানিমেশনে পড়াশোনার শুরু। তারপর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। সেখান থেকেই ছবির ভাষা শেখা, ক্যামেরা ধরে জীবনের গল্প বলা। ২০২২ সালে তাঁর সিনেমাটোগ্রাফিতে তৈরি ‘হর্স ফ্রম হেভেন’ ভারতের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল অস্কার এন্ট্রি হয়েছিল ‘বেস্ট লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম’-এর বিভাগে। যদিও ছবিটি মূল তালিকায় জায়গা পায়নি, কিন্তু অর্ণব তখনই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—এ লড়াই থেমে যাওয়ার নয়।
এরপর একে একে এসেছে ‘কালার্ড সুইটস’, ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’, ‘টার্মাইটস’ এবং ২০২৫-এর ‘ধ্রুবর আশ্চর্য জীবন’—যা কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
অর্ণব শুধু সিনেমাটোগ্রাফার নন। তিনি একজন চিত্রকর, আলোকচিত্রশিল্পী, প্রোডাকশন ডিজাইনার, গল্পকারও। তাঁর হাতে
ক্যামেরা থাকুক বা তুলি—প্রতিটা কাজে উঠে আসে নিখুঁত বাস্তবতার নিদর্শন। এমনকি বিজ্ঞাপন দুনিয়াতেও তাঁর স্টুডিও ‘টেট্রিস’ কাজ করেছে ওয়ানপ্লাস, বিএমডব্লিউ, টাটা মোটরস, অ্যাডিত্য বিড়লা, মেরলিন-এর মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে।
এই তো এখনই তাঁর ব্যস্ততা চূড়ান্ত। সেপ্টেম্বরেই পাড়ি দেবেন বুসানে। সেখানে ২০ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, একের পর এক অনলাইন সেশন, সিনেমা তৈরির হোমওয়ার্ক—সবমিলিয়ে চলছে রীতিমতো যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি।
আর এই যাত্রার প্রতিটি ধাপ যেন অর্ণবকে আরও এক ধাপ করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের কাছাকাছি। যে স্বপ্নে একদিন দেখা দিয়েছিল শুধু ক্যামেরার চোখে, আজ তা বাস্তবের আলোয় ঝলমল করছে।