কথা হচ্ছে অভিযুক্ত প্রযোজনা সংস্থার ক্রিয়েটিভ হেড লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্তৃত পোস্ট করে অর্ক সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।

শেষ আপডেট: 6 April 2026 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়- (Rahul Arunoday Banerjee death) এর আকস্মিক মৃত্যুর পর নানা প্রশ্ন, আবেগ এবং বিতর্কের মাঝেই সামনে এল একটি দীর্ঘ ব্যক্তিগত বক্তব্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন নিত্য রাহুলকে নিয়ে নানা লেখা সকলের নজর কাড়ছে। তবে এতদিন তিনি ছিলেন চুপ। অবশেষে দীর্ঘ পোস্ট করে একদিকে যেমন রাহুলের (Rahul Arunoday Banerjee News) সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ করলেন, ঠিক তেমনই প্রতিবাদ মিছিয়ে থাকা কিছু ইন্ডাস্ট্রির সদস্যদের কটাক্ষ করতেও পিছপা হলেন না। কথা হচ্ছে অভিযুক্ত প্রযোজনা সংস্থার ক্রিয়েটিভ হেড লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর (Leena Ganguly) ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্তৃত পোস্ট করে অর্ক সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
রাহুলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গ:
অর্ক জানান, প্রায় এক দশকেরও বেশি আগে প্রথম দেখা হলেও, ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে। ব্যক্তিগত এবং পেশাগত—দু’দিকেই রাহুলকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। বিশেষ করে নিজের প্রযোজনার শুরুর সময়ে রাহুলের সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে রাজি হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিনেতার মানবিক দিকটি তুলে ধরেন।
পোস্টে উঠে এসেছে রাহুলের কঠিন লড়াইয়ের কথাও। কাজের অনিশ্চয়তা, নতুন প্রোজেক্টের খোঁজ, নিজের ছবি বানানোর স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এক লড়াকু শিল্পীর ছবি কথা লেখেন অর্ক। তিনি জানান, একাধিকবার প্রোজেক্ট ভেস্তে যাওয়ার ধাক্কা সামলেও নতুন করে শুরু করার মানসিকতা ছিল রাহুলের। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কাটিয়ে ফের প্রিয়াঙ্কা সরকার-এর সঙ্গে সম্পর্কে ফেরার খবরও তাঁকে আনন্দিত করেছিল।
রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রসঙ্গ:
তবে এই আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি, রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে চলা বিতর্ক এবং প্রতিবাদ নিয়েও সরব হয়েছেন অর্ক। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে প্রত্যক্ষদর্শীর মতো কোনও মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রাখার কথাই বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্ক। তাঁর মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবি অমানবিক হতে পারে এবং সেই অধিকার মূলত পরিবারেরই থাকা উচিত।
প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সরব:
প্রতিবাদ মিছিল নিয়েও কড়া সুরে মন্তব্য করেছেন তিনি। অর্কের দাবি, ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেটি যেন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা প্রচারের মাধ্যম হয়ে না ওঠে। এমনকি ইন্ডাস্ট্রির কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়েও তিনি পরোক্ষে কটাক্ষ করেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে সেফটি এবং সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন। ফেডারেশন এবং ইম্পা-র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সে বিষয়ে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
পোস্টের শেষাংশে রাহুলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান অর্ক। বিশেষ করে তাঁর সন্তানের উদ্দেশে লেখা বার্তায় উঠে আসে এক আবেগঘন সুর—যেখানে তিনি সহজের উদ্দেশে লেখেন, ‘তুমি আমাকে কখনও দেখোনি কিন্তু তুমি আমার খুব আদরের। আমি জানি তুমি অলরেডি এক ঝটকায় অনেকটা বড় হয়ে গেছো, আরও বড় যখন হবে তখন নিশ্চয়ই পুরো বিষয়টা বুঝবে। কারুর কথা শুনে নয়, নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়েই বুঝবে। তখন হয়তো বুঝবে এই আঙ্কলটা তোমার বাবাকে আরো অনেকের মতনই ভালবাসত। অনেক আদর।’