নতুন বছরের শুরুতেই বড় ঘোষণা অরিজিৎ সিংয়ের। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন, প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আর কোনও নতুন কাজ নেবেন না। কী বললেন গায়ক?

অরিজিৎ সিং
শেষ আপডেট: 27 January 2026 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের শুরুতেই এক ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে গেল ভারতীয় সংগীতজগৎ। কোটি কোটি অনুরাগীর আবেগে ধাক্কা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) জানিয়ে দিলেন, প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে তিনি আর কোনও নতুন কাজ গ্রহণ করবেন না। অর্থাৎ, সিনেমার পর্দায় তাঁর সেই চেনা, আবেগমাখা কণ্ঠে নতুন গান শোনার সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ হতে চলেছে।
নতুন বছরের শুভেচ্ছাবার্তায় অরিজিৎ লেখেন, “সবাইকে নতুন বছরের অনেক শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তবে জানাতে চাই, এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনও নতুন অ্যাসাইনমেন্ট নেব না। এখানেই আমি ইতি টানছি। এই যাত্রাটা সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বার্তাই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ঘোষণায় হতবাক গোটা ইন্ডাস্ট্রি। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড থেকে টলিউড, প্রায় সব ভাষার সিনেমায় হিট গানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন অরিজিৎ। প্রেম, বিচ্ছেদ কিংবা আশা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল প্রজন্মের আবেগের ভাষা। অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য জনপ্রিয়তা এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন।
তবে আচমকা এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনেকে মনে করছেন, হয়তো সিনেমার গানের বাইরে স্বাধীন সংগীত বা লাইভ কনসার্টেই এবার বেশি মনোযোগ দেবেন তিনি। আবার কারও মতে, ব্যক্তিগত কোনও কারণও থাকতে পারে এই সিদ্ধান্তের পিছনে। স্পষ্ট উত্তর না মিললেও জল্পনা তুঙ্গে।
‘আশিকি ২’ ছবির কালজয়ী গান ‘তুম হি হো’ অরিজিৎ সিংয়ের জীবনে এনে দিয়েছিল আমূল পরিবর্তন। এই একটিমাত্র গানই তাঁকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শিখরে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি গায়ককে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অরিজিৎ হয়ে ওঠেন ভারতীয় সংগীতজগতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত কণ্ঠগুলির অন্যতম।
হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, তামিল, তেলেগু, মারাঠি ও কন্নড় একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজের বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তিন শতাধিক ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে ফিল্মফেয়ার, ঝুলিতে জমেছে অসংখ্য সম্মান ও স্বীকৃতি। স্পটিফাই, ইউটিউব এবং অন্যান্য ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বের সর্বাধিক শ্রোতাসম্পন্ন ভারতীয় শিল্পীদের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম সারিতেই উঠে আসে।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’ দিয়েই সংগীতজগতে তাঁর যাত্রা শুরু। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরেই তিনি ধীরে ধীরে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে একজন শীর্ষস্থানীয় গায়ক হয়েছেন।