সম্প্রতি নিজের জীবনের এক গভীর শূন্যতার কথা অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে এক আবেগে ঘন পোস্ট করলেন। প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন তিনি ১০ বছর হয়ে গেল।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 27 January 2026 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, দর্শকের হৃদয়ে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী মানালি দে (Manali De)। পর্দায় যতটাই প্রাণবন্ত, বাস্তব জীবনে ঠিক ততটাই সংবেদনশীল অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের জীবনের এক গভীর শূন্যতার কথা অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে এক আবেগে ঘন পোস্ট করলেন। প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন তিনি ১০ বছর হয়ে গেল। স্মৃতির পাতায় নজর যেতেই চোখ ভিজল জলে। যাঁকে ছাড়া আজও অভিনেত্রীর প্রতিটি দিন অসম্পূর্ণ, তিনি আর কেউ নন, মানালির মা।
মায়ের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ইনস্টাগ্রামে একগুচ্ছ স্মৃতিমাখা ছবি পোস্ট করেন মানালি। ছবিগুলোর প্রতিটিতেই লুকিয়ে রয়েছে ভালবাসা আর হারানোর ব্যথা। প্রথম ছবিতে চুড়িদার পরা মানালিকে দেখা যায় মায়ের পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে। আরেকটি ছবিতে দুর্গাপুজোর সিঁদুরখেলার মুহূর্ত, যেখানে মেয়ের সঙ্গে মায়ের মুখেও ফুটে উঠেছে আনন্দ। একটি পুরনো ছবিতে ধরা পড়েছে মানালির শৈশব।
এই ছবিগুলোর সঙ্গে এক আবেগঘন পোস্ট লেখেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “দেখতে দেখতে তোমায় ছাড়া দশটা বছর কেটে গেল মা। এমন কোনও দিন নেই যেদিন তোমায় মনে পড়ে না। এখন আর কেউ আমাকে ‘বাবুন’ বলে ডাকে না। যত দিন যাচ্ছে, তোমাকে মিস করাটা যেন আরও বেড়েই চলেছে।” মায়ের হাতের রান্না, ছোটখাটো ঝগড়া, সবকিছুর কথাই উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। বিশেষ করে মায়ের হাতের খিচুড়ির স্বাদ যে আজও কোনও রান্নায় খুঁজে পান না, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন মানালি।
পোস্টের শেষ ভাগে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে লেখেন তিনি, “তোমাকে খুব অল্প সময় পেয়েছি কাছে। কী আর করা যাবে, মেনেই নিতে হবে। তুমি আমার মধ্যে থেকেই যেও সারা জীবন। আমি বাপিকে দেখে রাখছি। আশা করি তুমি দাদু আর দিদার সঙ্গে ভাল আছ। আর যদি কিছু বলার থাকে, স্বপ্নে এসো—বাকি কথা তখন হবে।” এই কথাগুলো যেন মুহূর্তের মধ্যেই ছুঁয়ে যায় পাঠকের মন।
উল্লেখ্য, মানালি দে-কে দর্শক শেষবার দেখেছেন ‘দুগ্গামণি ও বাঘমামা’ ধারাবাহিকে। যদিও ধারাবাহিকটি খুব বেশি দিন চলেনি, তবুও মানালির অভিনয় নজর কেড়েছিল। এর আগে ‘বউ কথা কও’, ‘কার কাছে কই মনের কথা’-র মতো জনপ্রিয় মেগাতেও তিনি দর্শকের ভালবাসা কুড়িয়েছেন। শুধু টেলিভিশন নয়, ‘গোত্র’, ‘প্রাক্তন’-এর মতো ছবিতেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু আজ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে, তিনি শুধু এক মেয়ে—যে আজও মায়ের স্মৃতিতে ভিজে থাকেন প্রতিদিন।