নতুন বছরের প্রাক্কালে কলকাতার বাতাসে যখন উৎসবের গন্ধ, আলো-ঝলমলে শহরের ভিড়ে যখন সুর শোনার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র, ঠিক তখনই এক নাম ঘিরে অপেক্ষার রঙ গাঢ় হয়ে উঠেছিল—এ আর রহমান।

শেষ আপডেট: 30 December 2025 14:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের প্রাক্কালে কলকাতার বাতাসে যখন উৎসবের গন্ধ, আলো-ঝলমলে শহরের ভিড়ে যখন সুর শোনার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র, ঠিক তখনই এক নাম ঘিরে অপেক্ষার রঙ গাঢ় হয়ে উঠেছিল—এ আর রহমান। তেরো বছর পর তাঁর কলকাতা প্রত্যাবর্তন যেন শুধুই একটি কনসার্ট নয়, শহরের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক স্মৃতির পুনর্জন্ম। সামনে বসে তাঁর গান শোনার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন অগণিত মানুষ। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই, প্রত্যাশার আকাশে হঠাৎ জমে উঠল মেঘ।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, জানুয়ারির ১১ তারিখে কলকাতায় পা রাখছেন না এ আর রহমান। অর্থাৎ, যে দিনে শহর তাঁর গান শুনে নতুন বছরকে আরও রঙিন করে তুলতে চেয়েছিল, সেই দিন আর সুরের আলোয় ভরবে না মঞ্চ। খবর ছড়াতেই হতাশা আর প্রশ্ন একসঙ্গে ভিড় জমাল—তবে কি এবারের মতো বাতিলই হয়ে গেল এই বহু প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠান?
তবে পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায়নি আশা। জানা গিয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির বদলে এপ্রিলেই কলকাতায় আসবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সুরকার। ১১ এপ্রিল, বিকেল পাঁচটায়, শহর আবার নতুন করে তাঁর গানে ভিজবে—এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আয়োজকেরা। যাঁরা এপ্রিলের অনুষ্ঠানে থাকতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও রাখা হয়েছে বিকল্প পথ—৩০ জানুয়ারির মধ্যে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ইমেলের মাধ্যমে জানালে টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
তবু প্রশ্ন থামেনি। কেন পিছিয়ে গেল অনুষ্ঠান? কেন এই শেষ মুহূর্তের বদল? গুঞ্জনে উঠে আসছে অন্য এক স্মৃতি—সাম্প্রতিক ‘মেসি-কাণ্ড’। লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা শহর দেখেছিল, তা এখনও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে। ভাঙচুর, জলের বোতল ছোড়া, আগুন জ্বলার দৃশ্য, আহত মানুষের আর্তনাদ—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর অধ্যায়। সেই ঘটনার রেশ গিয়ে পড়েছিল সমাজমাধ্যমেও; ফুটবলারের সঙ্গে ছবি তোলা বহু পরিচিত মুখকে সেদিন নির্মম ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল।

অনেকের ধারণা, সেই অঘটনের স্মৃতি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। হয়তো সেই কারণেই আরও সময় চাইলেন রহমান, আরও একটু দূরত্ব রেখে এলেন। নিশ্চিত কিছু বলা না গেলেও, অনুরাগীদের মনে এই অনুমানই ঘুরপাক খাচ্ছে।
তবু কলকাতা জানে অপেক্ষা করতে। জানে, কিছু সুর দেরিতে এলেও তার গভীরতা কমে না। জানুয়ারির রাত যদি নীরব থাকে, তবে এপ্রিলের সন্ধ্যা আরও বেশি করে গান শোনাবে—এই বিশ্বাসেই এখন শহর বুক বাঁধছে। কারণ, এ আর রহমান মানে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, একটি অনুভূতি। আর সেই অনুভূতির জন্য অপেক্ষা করতে কলকাতা কখনও কার্পণ্য করে না।