Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের

Aparajito: রেলগাড়ি-কাশবন, সাদা-কালো ফ্রেমে পথের পাঁচালির নস্টালজিয়া! অনীকের 'অপরাজিত' ফেরাবে সত্যজিতকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়পর্দায় ফিরতে চলেছেন বিশ্ববন্দিত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। আবার যেন ফিরে যাওয়া সাদা কালো ফ্রেমে কয়েক যুগ আগে। ১৩ মে বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক অনীক দত্তের ছবি অপরাজিত (Aparajito)। তবে এই ছবি সত্যজিৎ রায়ের বায়

Aparajito: রেলগাড়ি-কাশবন, সাদা-কালো ফ্রেমে পথের পাঁচালির নস্টালজিয়া! অনীকের 'অপরাজিত' ফেরাবে সত্যজিতকে

শেষ আপডেট: 11 May 2022 08:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়পর্দায় ফিরতে চলেছেন বিশ্ববন্দিত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। আবার যেন ফিরে যাওয়া সাদা কালো ফ্রেমে কয়েক যুগ আগে। ১৩ মে বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক অনীক দত্তের ছবি অপরাজিত (Aparajito)। তবে এই ছবি সত্যজিৎ রায়ের বায়োপিক নয়। এই ছবিতে পথের পাঁচালী তৈরির কিছু নেপথ্য কাহিনি পর্দায় ফুটে উঠবে। এ যেন সিনেমার মধ্যে সিনেমা। অনীক দত্তের ছবি মানেই দর্শকদের বাড়তি প্রত্যাশা। ইতিপূর্বে পরিচালক অনীক দত্ত ভূতের ভবিষ্যৎ ,আশ্চর্য প্রদীপ, মেঘনাদবধ রহস্য, ভবিষ্যতের ভূত, বরুণ বাবুর বন্ধু ছবির মাধ্যমে দর্শক মনে স্থায়ী আসন জায়গা করে নিয়েছেন। ছবি মুক্তির আগে একান্ত আলাপচারিতায় চৈতালি দত্তের সঙ্গে।

২ মে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উদ্যোগে মুম্বইয়ে অপরাজিত ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিং হয়ে গেল। কেমন ফিডব্যাক পেলেন ? কারা এসেছিলেন?
অনীক : দেখুন নিজের মুখে নিজের কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করি। অনেক বিশিষ্টজনেরা এসেছিলেন। তাঁরা ছবিটা দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। পরিচালক শ্যাম বেনেগাল এসেছিলেন। তবে ওঁর শরীর ঠিক নেই। তাই উনি পুরো ছবিটা দেখতে পারেননি। তবে ভাল লেগেছে জানিয়েছেন । আর সেদিন অনেকদিন পর শ্যাম বেনেগালকে দেখে মিডিয়ার ভিড় ছিল উপচে পড়ার মতো। উনি বাড়িতে স্ক্রিনার পাঠিয়ে দিতে বলেছেন। বাড়িতে বসে ভালভাবে ছবিটা দেখবেন। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছি। পরে সামনে জিতুকে দেখে ওর হাত ধরে শ্যাম বেনেগাল বলেছেন ,' অনেকটাই সত্যজিৎ বাবুর কাছাকাছি।' ক্যামেরার কাজও সুব্রত মিত্রর মতো লেগেছে । সেটা শুনে তো আমার অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা।

আমার ছবির ক্যামেরার দায়িত্বে রয়েছেন সুপ্রতিম ভোল। বিখ্যাত ফিল্ম কিউরেটর মীনাক্ষী শেডডে ছবিটা দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিদেশে বহু সম্মানিত ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং স্পেশাল রেট্রোস্পেকটিভে আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । মুম্বইয়ের স্পেশাল স্ক্রিনিং-এ অনেক পরিচালক-প্রযোজক থেকে শুরু করে অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তও এসেছিলেন। ইন্দ্রনীলের ছবিটা ভাল লেগেছে।
আগামী দিনে বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়া আমরা পোস্ট করব । আলাদাভাবে আর কিছু এই মুহূর্তে বলতে চাইছি না।

এই ছবির ভাবনার ভাবনা ঠিক কত দিন আগে থেকে আপনার মাথায় এসেছিল?

অনিক (হেসে): আমি তো সন-তারিখ লিখে রাখিনি। অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম। আমার মতে সত্যজিৎ রায়ের কর্মজীবন একটা এপিকের মতো।

বিভিন্ন দিকে ছিল অবাধ বিচরণ ছিল সত্যজিতবাবুর। তাঁর কর্মকাণ্ড বহুদূর অবধি বিস্তৃত। ফলে সত্যজিতবাবুর কর্মকাণ্ড একটা ছবির মধ্যে নিয়ে আসা খুব দুরূহ ব্যাপার। সত্যজিৎ বাবুর প্রথম ছবি 'পথের পাঁচালি' তো একটা মাস্টারপিস। এই ছবি বিদেশে সম্মানিত এবং যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ যেটা জানেন না সেটা হল এই ছবি করতে গিয়ে উনি কত রকম চড়াই-উৎড়াই বাধাবিঘ্ন পার করেছেন। মানুষের লক্ষ্য যদি স্থির থাকে এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকে তবে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয় এটাই হল প্রমাণ। পথের পাঁচালী শুরুর আগেই সত্যজিতবাবু স্থির করেছিলেন আউটডোরে শ্যুটিং করবেন, যা সেই সময় ভাবাই যেত না।

আগে আউটডোরে ছবি হলে তেমন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা ছিল না। এরপর উনি লন্ডনে ছ' মাসের জন্য ট্রেনিং নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে অজস্র ছবি দেখেছিলেন। তারমধ্যে 'বাইসাইকেল থিভস' ছবি দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। সেই ছবি দেখে তিনি ভাবেন যে যেভাবে ছবি তৈরির কথা ভেবেছেন তা তৈরি করা সম্ভব। এরপর এখানে এসে ঠিক করলেন যে, পেশাদার নামীদামি কোনও স্টারকে ছবিতে নেবেন না। যাঁকে ক্যামেরাম্যান নিলেন তিনি স্টিল ছবি করতেন। আগে কোনদিনও মুভি ক্যামেরা হাতে নেননি। কিন্তু তাঁর স্টিল ছবি দেখেই সত্যজিৎ বাবুর ধারণা হয়েছিল ছবিতে লাইভ ক্যামেরা করতে পারবেন। এতটাই দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। এটা কিন্তু ওই সময়ে দাঁড়িয়ে বিরাট বড় সিদ্ধান্ত। আর আর্ট ডিরেক্টর যাঁকে নিয়েছিলেন তিনি কিছুটা কাজ আগে করেছিলেন। যাঁরা সিনেমা নিয়ে পঠন-পাঠন করেন তাঁরা একটু বেশি জানবেন।

ছবিটা তৈরি করব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই ছবির প্রস্তাব নিয়ে বাবুদা অর্থাৎ পরিচালক সন্দীপ রায়ের কাছে যাই। তখন বাবুদা আমাকে জানান যে এর আগেও দেশ-বিদেশের অনেক পরিচালক থেকে শুরু করে বড় প্রযোজনা সংস্থাকে প্রত্য়াখ্যান করেছেন। তখন বাবুদা আমার থেকে সময় চাইলেন। মাঝে লকডাউনের মধ্যে আমি আবার বাবুদাকে ফোন করি। তখন আরেকটু সময় চেয়ে আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন।

এরপর?

অনীক: কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগে আমি ফোন করে বাবুদার বাড়িতে যাই। তখন আমাকে পিঠে হাত দিয়ে বলেছিলেন তুমি ছবিটা করলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব। কিন্তু আমার এই সিদ্ধান্তটা নিতে একটু সময় লাগছে।
বাবুদার কথায় আমি আশায় বুক বেঁধেছিলাম। তারপর আমরা দু'জনে মিলে ঠিক করলাম যে সম্পূর্ণ বায়োপিক করব না। চরিত্রের নামগুলো বদল করে দেব। কোনও রকম বিতর্ক হবে না। পুরোটাই তথ্যনির্ভর হব।। ওই ইউনিটে এখন একমাত্র সৌমেন্দু রায়ই বেঁচে আছেন। বয়স হয়েছে। আমরা এরপর তাঁর কাছে যাই। আমরা বলি যে আপনি আস্তে আস্তে আমাদেরকে সব বলুন। আমরা যা প্রশ্ন করলাম উনি ধৈর্য ধরে তার উত্তর দিলেন। সৌমেন্দু রায় পরবর্তী সময়ে সত্যজিৎ বাবুর ছবিতে ক্যামেরাম্যান হয়েছিলেন । খুব বিনয়ী মানুষ। এরপর কোন দিক থেকে ছবি শুরু করব সেটা ঠিক করে আমরা বেশ কিছুটা সময় নিয়ে রিসার্চ করি। বাবুদা আমার প্রতি যথেষ্ট আস্থা রেখে ছবিটা করার লিখিত সম্মতি দেন।

ফিরদৌসুল হাসানের মতো একজন প্রযোজকও পেলাম, যাঁর সঙ্গে আমি ইতিপূর্বেও 'মেঘনাদবধ রহস্য' ছবি তৈরি করেছি। তিনিও রাজি হয়ে গেলেন। ছবি শুরু করলাম। মাঝে কত যে বাধাবিপত্তি এসেছে। বারে বারেই মনে হয়েছে ছবিটা বন্ধ করে দিতে হবে। অবশেষে ছবিটা শেষ হয়েছে এটাই আনন্দের। 'পথের পাঁচালি ' ছবি তৈরির কিছুটা নেপথ্য কাহিনি এই ছবিতে ফুটে উঠবে । 'পথের পাঁচালী' নাম এই ছবিতে ' পথের পদাবলী'। সত্যজিৎ রায়ের নাম পরিবর্তন করে ছবির মূল চরিত্র অপরাজিত রায় নাম রাখা হয়েছে। ছবিতে সব চরিত্রদের নামের বদল হয়েছে। ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনের ব্যানারে ছবিটি মুক্তি পাবে।

পরিচালক সন্দীপ রায়ের কাছ থেকে কী ধরনের ইনপুট পেয়েছেন ?

অনীক: যখন 'পথের পাঁচালি' ছবিটি তৈরি হয়েছিল তখন বাবুদা খুবই ছোট ছিলেন। ফলে বাড়িটার কথা তাঁর মনে আছে। কোন জায়গায় কী কী ছিল বাড়িতে সেটাও কিছু কিছু বলেছেন । এছাড়াও বাবুদার থেকে পারিবারিক অনেক ইনপুট পেয়েছি, যা বাইরের লোকের অজানা। বাবুদা আর আমি একই স্কুলের ছাত্র। বাবুদা আমার সিনিয়র। আমার জন্য এটাও একটা অ্যাডভান্টেজ। বাবুদার সম্মতি না পেলে এবং রিসার্চের ক্ষেত্রে উনি সাহায্য না করলে এই ছবিটা তৈরি হত না। আমি সত্যি বাবুদার কাছে কৃতজ্ঞ।

অপরাজিত ছবি করতে গিয়ে আপনাকে অনেক রিসার্চের মধ্যে দিয়ে নিশ্চয়ই যেতে হয়েছে। সেই সময়টা কত দিনের ছিল? এই রিসার্চে আপনি কাদের সাহায্য পেয়েছেন?

অনীক : রিসার্চ করতে তো বছরখানেক সময় লেগেছে। সেই সময় লকডাউনের জন্য অনেকটা সময় আমরা পেয়েছিলাম। রেফারেন্স খুঁজে বের করা, কোনটা ছবিতে রাখব আর কোনটা রাখব না ইত্যাদি এসব খুঁটিনাটি অনেক কিছু চিন্তা ভাবনা করে কাজটা করতে হয়েছে। যেহেতু এটা বায়োপিক নয় তাই আমাদের একটু স্বাধীনতা থাকলেও আমরা যতটা পারি ততটাই করেছি ।

পরিচালক সন্দীপ রায় ছাড়া রিসার্চের কাজে আপনি আর কার কার থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন ?

অনীক: দেবাশিস মুখোপাধ্যায়কে সত্যজিৎ রায় বিশারদ বলা হয়। তাঁর কাছে আমার স্ক্রিপ্ট পাঠিয়েছিলাম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের কাছেও স্ক্রিপ্ট পাঠিয়েছিলাম। এছাড়া শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকেও আমি অনেক সাহায্য পেয়েছি। আমার ছবিতে ৮১ বছর বয়সে তাঁর ডেবিউ হল। উনি সত্যজিৎ রায়কে বহুবার ইন্টারভিউ করেছেন। তাঁরর মতো চলচ্চিত্র সমালোচক খুব কমই আছেন।

এই ছবিতে দেখা যাবে যে অপরাজিত রায়কে তিনি ইন্টারভিউ করছেন। সত্যজিৎ রায় এখানে অপরাজিত রায়। এছাড়া সৌমেন্দু রায়ের থেকে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমেরিকার অধ্যাপক পৃথ্বীরাজ চৌধুরী আমাকে অনেক তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। তাঁর লেখা 'ইতি অপু 'সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় পাঠ করেছিলেন। কিছুদিনের জন্য আমেরিকার থেকে কলকাতায় চলে আসেন । কিছুটা সময় আমার ছবির শ্যুটিং আর পোস্ট প্রোডাকশনে তিনি ছিলেন। শ্রীপর্ণা মিত্র যিনি রায় পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠ তিনি স্ক্রিপ্টের কাঠামো তৈরি করেন। মূল চিত্রনাট্যে আমার সঙ্গেই উৎসব মুখোপাধ্যায় এবং শ্রীপর্ণা মিত্রেরও অবদান রয়েছে।

সত্যজিৎ রায়ের বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের কোনও একটা অংশকে এই ছবিতে আপনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন কী ?

অনীক: আমি পথের পাঁচালির ভাবনার যে সূত্রপাত সেখান থেকে শুরু করেছি। সত্যজিতবাবু বিজ্ঞাপনে চাকরি করতেন । সেই অফিসটা ছবিতে দেখানও হয়েছে। পাশাপাশি যেই সময়ে তিনি প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করছেন, সেই সময়টাকে তুলে ধরেছি। তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কীভাবে দেখতেন এবং কীভাবে অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে গেছিলেন সেটা ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তারপর সিনেমা তৈরির পোকাটা এতটাই তাঁর মধ্যে চাগার দিয়েছিল যে তখন তাঁকে অফিস থেকে ট্রেনিংয়ে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। ওখান থেকে ফিরে এসে তারপরে উনি কাজ শুরু করেন। নানা রকম বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে তবেই পথের পাঁচালি ছবি তৈরি করতে পেরেছিলেন। প্রথমেই ছবি তৈরির জন্য টাকা নিয়ে ধাক্কা খান। সে কথা আমরা সবাই জানি যে অর্থের জন্য দুই থেকে আড়াই বছর ছবিটা তৈরি করতে সময় লেগেছিল।

যেহেতু পথের পাঁচালির সূত্রপাত থেকে আপনার ছবির শুরু সেক্ষেত্রে কোনও বিশেষ সময়কে অপরাজিত ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে কী?

অনীক : মূলত তাঁর কর্মজীবন থেকে পথের পাঁচালী তৈরির সময়টুকু ছবিতে আছে। তবে তার একটু সময় আগে খুব অল্প সময়ের জন্য তাঁর কলেজের অংশ দেখা যাবে । আমার গল্পের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই রেখেছি। এছাড়াও তার একটু পরের সময় রয়েছে সেটা এক্ষুনি আমি নির্দিষ্ট করব না।

বিজয়া রায় ,পণ্ডিত রবিশঙ্কর এঁদেরকে আপনি ছবিতে কীভাবে দেখাচ্ছেন ?

অনীক: (হেসে) সবই যদি বলে দিই তবে আর ছবি কেন দর্শক হলে গিয়ে দেখবেন। ওটা না হয় একটু সাসপেন্স থাক।

আপনার ছবিতে সুরারোপ করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র ?

অনীক: হ্যাঁ দেবু হল একজন মিউজিক স্কলার । সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গীতের ওপর দেবু একটা বই লিখেছেন। খুব শিগগিরই প্রকাশিত হবে। সত্যজিৎ বাবুর কয়েকটা ছবিতে দেবু ভায়োলিন বাজিয়েছেন।

প্রায় এক বছর আগে এই ছবির ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছিল। যেখানে আবীর চট্টোপাধ্যায়কে মুখ্য চরিত্রে দেখা গেছে। কিন্তু সেটা পরিবর্তিত হয়ে জিতু কমল এই চরিত্রে অভিনয় করলেন। এই পরিবর্তন কেন ?

অনীক : প্রথম আমি জিতু কমলকে দেখিনি। এক বছর আগে আমার মনে হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের মতো একদম হুবহু দেখতে ওরকম মানুষ তো আমি পাব না। কিন্তু এমন একজনকে আমার প্রয়োজন যে মোটামুটি লম্বা বাকি অভিনয়টা করিয়ে নেওয়া যাবে। আবীরের সঙ্গে আমি 'মেঘনাদবধ রহস্য ' ছবিতে কাজ করেছিলাম। তখন আমি দেখেছিলাম ওঁকে অনেকগুলো জিনিস করিয়ে নেওয়া যায়। তাই প্রথম আবীরের কথা ভাবি। কিন্তু কিছুদিন যেতেই কয়েকটা জিনিস হতে লাগল সেটা হল লকডাউনের পর আবীরের অনেক আগের থেকেই নানা জায়গায় কমিটমেন্ট ছিল। কিন্তু সেটা কলকাতার বাইরে। আর যদি চুক্তিতে সই হয়ে যায় তাহলেএদিক-ওদিক করা যায় না । প্রথমেই আবীরের ডেট নিয়ে সমস্যা হল। আমিও ঠিক করেছিলাম আবীরকে চুলে কোনও উইগ ব্যবহার করাব না। কারণ সেটা কৃত্রিম লাগে। ফলে চুলের ক্ষেত্রে আমার ভাবনাটা ঠিক হল। যদি কৃত্রিমভাবে কিছু করতে যেতাম সেক্ষেত্রে মেজর কম্প্রোমাইজ হয়ে যেত। সবমিলিয়ে যখন আবীরের ডেট নিয়ে চূড়ান্ত সমস্যা দেখা দিল তখন আমাকে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হল।

ইতিমধ্যে আমি জিতুকে দেখে ফেলেছি । জিতুকে দেখে আমার মনে হয়েছে ওঁর মুখশ্রী সত্যজিৎ বাবুর খুব কাছাকাছি। কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ঘাড় ঘোরানো, সিগারেট ধরানো, খাওয়া ইত্যাদি করিয়ে নিতে হবে বলে মনে হয়েছে। এরপর জিতুর যখন লুক টেস্ট হল তখন দেখলাম সত্যজিৎ বাবুর মত শুধু লাগছিল তা নয়, জিতুর বসা বা মাথা ঘোরানো, সিগারেট খাওয়া এগুলো একেবারে নিখুঁত। তখন আমার মনে হল জিতু পারবে। তখনই আমি সেখানে অন স্পট দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম জিতুকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আর যদি জিতুকে আগে আমি দেখতাম তবে প্রথমেই আমি জিতুকেই পছন্দ করতাম। তাই আবীরের জায়গায় জিতু কমলকে ছবিতে নিলাম।

মেককাপের জাদুকর সোমনাথ কুন্ডুর হাতের ছোঁয়ায় জিতু কমলকে যথার্থ সত্যজিৎ রায়ের মতো লাগছে, আপনি কতটা কৃতিত্ব দেবেন?

অনীক: আসল ভেল্কিটা তো সোমনাথই দেখালেন। যখন মেকআপ নিয়ে মেকআপ রুম থেকে জিতু বেরলেন তখন মনে হল যেন আসল সত্যজিৎ রায়। সোমনাথের কৃতিত্ব অনেকটাই। আমি স্কেচটা করে দিয়েছিলাম । রঙের প্রলেপ সোমনাথ দিল। রং মনো-ক্রোমাটিক বা কালার যেটাই হোক সেইটা দিয়েই রিয়ালিস্টিক ছবি ফুটে ওঠে। আর বেসিক যে স্ট্রাকচারটা সেটা পেন্সিলে আমি করেছিলাম। রঙ তুলির কাজটা সোমনাথ করেছেন। তাঁর মেকআপ দেখে তো মুম্বইতে সকলে চমকে গেছেন ।

জিতু কমল অভিনয় কেমন করলেন?

অনীক: খুব ভাল অভিনয় করেছেন। ওয়ার্কশপ করার অত সময় ছিল না। এই ছবি প্রথম আউটডোর করার পর একটু গ্যাপ ছিল। তারমধ্যে জিতুর আগে যে কমিটমেন্ট গুলো ছিল সেগুলো ও শেষ করেছেন। আমি জিতুর বউয়ের কাছ থেকে শুনেছি যে জিতু নিজের মতো করেও অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন । কিছু উচ্চারণ ঠিক করার জন্য বিপ্লব দাশগুপ্তকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সেখানে জিতুকে কিছুটা ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে। বাকিটা তো আমি করিয়ে নিয়েছি। সবকিছু যে পাখি পড়ার মতো বলে দিয়েছিলাম তা কিন্তু নয়।

ছবির শুটিং আউটডোর কোথায় হয়েছে?
অনীক : বোলপুরে ।


```