২৫ বছর বয়সে ৬৫ বছরের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে ‘সারাংশ’-এ বাদ পড়েন অনুপম খের।

অনুপম খের
শেষ আপডেট: 24 September 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনুপম খেরের প্রথম পদক্ষেপ ছিল একেবারেই অন্যরকম। মহেশ ভাট পরিচালিত সমালোচকপ্রশংসিত ছবি ‘সারাংশ’ দিয়েই বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৫ বছর, অথচ অভিনয় করতে হয়েছিল এক ৬৫ বছরের শোকাহত বৃদ্ধের চরিত্রে। শুরু থেকেই যেন পরিস্থিতি তাঁর বিপক্ষে ছিল। এমনকি ছবির ওই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটিও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়। কারণ, প্রযোজক চাইছিলেন সেই সময়ের শীর্ষ তারকা সঞ্জীব কুমারকে নায়ক হিসেবে নিতে।
সম্প্রতি এক্সপ্রেসো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের জানান, “শুটিং শুরুর মাত্র দশ দিন আগে আমাকে ‘সারাংশ’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন ২৮ বছরের এক নবাগত, কিন্তু চরিত্রটি ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের। বয়স্ক মানুষের হাঁটা-চলা, কথা বলার ভঙ্গি শেখার জন্য মাসের পর মাস প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এমনকি চরিত্রের অনুভূতি ধরে রাখতে লাঠি হাতে নিয়ে ঘুমাতাম।”
কিন্তু ঠিক শুটিং শুরু হওয়ার আগে খবর আসে, তাঁর জায়গায় নেওয়া হচ্ছে সঞ্জীব কুমারকে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অনুপম সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই ছেড়ে চলে যাওয়ার। যাওয়ার আগে একবার মহেশ ভাটের সঙ্গে দেখা করতে ফোন করেন। ভাট শান্তভাবে জানান, “প্রযোজক পরিচিত অভিনেতাকে চান। অন্য ছবিতে নিশ্চয়ই সুযোগ আসবে।”
এই উত্তর শুনে ক্ষোভে ও হতাশায় অনুপম নিজের লাগেজ গুছিয়ে ফেলেন। ছয় মাসের প্রস্তুতির পরও যদি এক নিমিষে সব শেষ হয়ে যায়, তবে এই শহরে থাকার মানে কী, এমনটাই ভাবছিলেন তিনি। শেষমেশ সাহস সঞ্চয় করে সরাসরি মহেশ ভাটের বাড়িতে পৌঁছে বলেন,
“ওই ট্যাক্সিটা দেখছেন? আমার সব জিনিসপত্র তাতে। শহর ছেড়ে যাচ্ছি। কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কথা বলতে এসেছি—আপনি বড় প্রতারক। সত্যের ওপর ছবি বানান, অথচ নিজেই অসত্য করছেন। ছয় মাসের রিহার্সালের পর আজ আমাকে সরিয়ে দিলেন। আপনাকে ব্রাহ্মণের অভিশাপ দিলাম।”
অনুপমের সেই আবেগঘন কথায় নড়েচড়ে বসেন মহেশ ভাট। তিনি তৎক্ষণাৎ প্রযোজককে ফোন করে জানান, “ওই দৃশ্যটা কেবল অনুপমই করতে পারবে।” ইতিহাস তৈরি হয় সেখান থেকেই।
‘সারাংশ’, যেখানে এক বৃদ্ধ দম্পতির সন্তানহারা বেদনা ও জীবনের অর্থ খোঁজার লড়াই তুলে ধরা হয়, মুক্তির পর সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা পায়। ছবিটি ১৯৮৫ সালে ভারতের পক্ষ থেকে অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে সরকারি এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত হয়েছিল (যদিও ফাইনাল মনোনয়ন পায়নি)।