বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ইমরান হাশমি। বোল্ড সিন আর রোম্যান্টিক চরিত্রে দর্শককে বারবার চমক দিয়েছেন তিনি—‘আশিক বানায়া আপনে’, ‘মার্ডার’, ‘মার্ডার ২’-এর মতো ছবিতেই তা প্রমাণিত।

শেষ আপডেট: 24 September 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ইমরান হাশমি। বোল্ড সিন আর রোম্যান্টিক চরিত্রে দর্শককে বারবার চমক দিয়েছেন তিনি—‘আশিক বানায়া আপনে’, ‘মার্ডার’, ‘মার্ডার ২’-এর মতো ছবিতেই তা প্রমাণিত। অন্যদিকে, ইয়ামি গৌতম উঠে এসেছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে ‘ভিকি ডোনার’-এর মাধ্যমে। পরে ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এ তাঁর অভিনয় আরও প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
এবার প্রথমবারের মতো একসঙ্গে আসছেন এই দুই তারকা। তাঁদের জুটি ধরা পড়বে সুপরাণ এস. ভার্মা পরিচালিত আসন্ন কোর্টরুম ড্রামা ‘হক’-এ, যা মুক্তি পেতে চলেছে আগামী ৭ নভেম্বর, ২০২৫-এ। সম্প্রতি ছবির টিজার প্রকাশ পেয়েছে, যা দর্শকের কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শুরুতে টিজার দেখে মনে হয়েছিল, যেন এ এক প্রেমের গল্প—যার নিজস্ব টানাপড়েন, মান-অভিমান, দুঃখ-আনন্দ সবই মিশে আছে। কিন্তু ক্রমশ তা পরিণত হয় এক তীব্র কোর্টরুম লড়াইয়ে। আর এখানেই গল্পে আসে এক ঐতিহাসিক সত্যি। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য শোনালেও ছবিটি অনুপ্রাণিত বাস্তব জীবনেরকাহিনি থেকে।
সাতের দশকের শেষের দিকে এক মুসলিম মহিলা, শাহ বানো, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ন্যায়ের খোঁজে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ইন্দোরের নামজাদা আইনজীবী, মহম্মদ আহমেদ খানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল ১৯৩২ সালে। পাঁচ সন্তান—তিন ছেলে, দুই মেয়েকে নিয়ে চলছিল সংসার। কিন্তু স্বামী হঠাৎ তাঁকে এবং সন্তানদের ছেড়ে চলে যান। শুরু হয় এক লড়াই, যা ভারতীয় আইন ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে মহম্মদ আহমেদ খান বনাম শাহ বানো বেগম মামলা হিসেবে।
![]() | ![]() |
এই বাস্তব কাহিনি থেকেই নির্মিত হচ্ছে ‘হক’। ছবিতে ইয়ামি গৌতম হচ্ছেন শাহ বানো—তাঁর চরিত্রের নাম রাখা হয়েছে ‘শাজিয়া বানো’। অন্যদিকে ইমরান হাশমি অভিনয় করছেন দ্বৈত চরিত্রে—একদিকে স্বামী ‘আব্বাস’, অন্যদিকে আদালতের প্রতিপক্ষ আইনজীবী। এই গল্প শুধু ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার নয়, বরং এক মুসলিম নারীর সমঅধিকারের দাবিতে লড়াই এবং মুসলিম পার্সোনাল ল’-এর কঠিন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসবে।
এই আদালত-নির্ভর ছবির আংশিক কল্পিত রূপ পেলেও তার মর্মকথা অপরিবর্তিত। জিগনা ভোরার বই ‘বানো: ভারতের কন্যা’-র ভিত্তিতে লেখা হয়েছে কাহিনি। ছবির মূল বার্তা—ন্যায় কি সবার জন্য সমান হওয়া উচিত নয়? ভারত কি সমঅধিকারের স্বার্থে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করবে না? এমন সব প্রশ্ন তুলছে ‘হক’।
টিজারে দেখা যায়, শুরুতে দাম্পত্যের দ্বন্দ্ব। স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর টানাপড়েন। কিন্তু ব্যক্তিগত লড়াই শীঘ্রই পৌঁছে যায় আদালতে। আর সেখানেই তা রূপ নেয় এক বৃহত্তর আলোচনায়—ন্যায়, সমতা আর মানবিকতার প্রশ্নে। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে সমাজ, সমাজ থেকে গোটা জাতির চেতনা—সবই জড়িয়ে যায় এই কাহিনির সঙ্গে। বিশ্বাস, পরিচয়, স্বাধীনতা আর উদারতার ধারণা যেন একসঙ্গে মিশে যায় সেই আদালতকক্ষে।
‘শাজিয়ার’ ন্যায়ের দাবি শুধু তাঁর একার লড়াই নয়, বরং মুসলিম সমাজের প্রতিটি নারীর প্রতিনিধিত্ব। তাঁর সেই আর্তি একসময় গিয়ে ঠেকে ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে, যা বলে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা সমঅধিকারের কথা। টিজার যেন স্পষ্ট করে দেয়—এ গল্প শুধু স্বামী-স্ত্রীর নয়, এ এক সমঅধিকারের লড়াই।
১৯৮৫ সালের শাহ বানো মামলা ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যখন ধর্মীয় আইন আর নারীর অধিকার মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। মুসলিম পার্সোনাল ল’ কি সংস্কারের প্রয়োজন নেই? নারীর সুরক্ষা কি আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত নয়?—এসব প্রশ্ন একসঙ্গে ধাক্কা দেয় দেশের বিবেককে।
১৯৭৮ সালে ইন্দোর আদালতে শাহ বানো আবেদন করেছিলেন ভরণপোষণের জন্য। তিনি চেয়েছিলেন, স্বামী তাঁকে আর্থিক সাহায্য দিন, কারণ তিনি নিজে জীবিকা চালাতে পারছিলেন না। ভারতীয় ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারা অনুযায়ী, এক পুরুষকে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতেই হবে—বিবাহ চলাকালীন এবং বিবাহবিচ্ছেদের পরও। কিন্তু মোহাম্মদ আহমেদ খান যুক্তি দিয়েছিলেন,