এই মামলার প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন হিরণ। আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “মহামান্য আদালতের উপর বিশ্বাস রেখেই গিয়েছিলাম, আদালত সেই বিশ্বাস রেখেছেন। যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই পালন করব।”

শেষ আপডেট: 13 February 2026 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডের পরিচিত মুখ, আবার রাজনীতির মঞ্চেও সক্রিয়। হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে (Hiraan Chatterjee) ঘিরে বিতর্ক যেন দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ব্যক্তিগত জীবন একেবারে জনসমক্ষে উঠে এসেছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহ এখন আর শুধু পারিবারিক নয়, প্রকাশ্য আলোচনার বিষয়।
হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়-এর দাবি, তাঁকে আইনগতভাবে ডিভোর্স না দিয়েই অভিনেতা পুনরায় বিয়ে করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেই অভিযোগ নিয়েই তিনি আইনের দ্বারস্থ হন। জানা যায়, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেন অনিন্দিতা এবং তাঁদের ১৯ বছরের মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়। পুলিশ নাকি সঙ্গে সঙ্গেই দুটি ধারায় মামলা নেয়—এ কথাও নিজেই জানিয়েছেন অনিন্দিতা।
অন্যদিকে অনিন্দিতার বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জামিন কারা নেয়? যারা পাপ কাজ করে, তারাই তো নেয়। আমি-তুমি, আমরা যারা সাধারণভাবে থাকি, তাদের তো জামিন নিতে হয় না। ও প্রমাণ করে দিক যে কিছু করেনি। সেটা তো পারছে না। উল্টে তাড়াতাড়ি গিয়ে জামিন নিতে হয়েছে। তার মানে কতটা ভয় আছে, বোঝাই যাচ্ছে। ও একটা ক্রিমিনাল।” তাঁর সংযোজন, “আমার কেসের ভিত্তি আছে বলেই পুলিশ নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুটো ধারা দিয়েছে।”
এই আইনি টানাপড়েনের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়। অনিন্দিতা ফেসবুকে লিখেছেন, “পুরুষদের উদ্দেশ্যে, চোখ বন্ধ করে ভাবুন—আপনার মতো কোনও পুরুষের সঙ্গে আপনারই কন্যা প্রেম করছেন। মুখে হাসি ফুটল?” তাঁদের মেয়ে নিয়াসার বয়স এখন ১৯। ফলে এই কথার তির কার দিকে, তা আলাদা করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না। এক মায়ের এই প্রশ্ন যেন শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিকও—মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলে দেওয়ার মতো।
এদিকে হিরণ ২০২৫ সালে ঋতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন। তবে গত ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় বিয়ে এবং স্ত্রীর ছবি প্রকাশ্যে আনেন তিনি। বেনারসের ঘাটে রীতি মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়েন বিজেপি বিধায়ক। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্ক আরও জোরদার হয়। অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীকে এখনও আইনত ডিভোর্স দেওয়া হয়নি। আর সেখান থেকেই শুরু আইনি জটিলতা।