
শেষ আপডেট: 22 February 2022 07:32
প্রথম যখন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানশালি আপনাকে গাঙ্গুবাই চরিত্রের অফার দেন আপনি নাকি অফিস থেকে ছুটে পালিয়ে গেছিলেন?
আলিয়া: (খুব হেসে) হ্যাঁ সত্যিই। এরকম একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে আমি তো এর আগে কোনওদিন অভিনয় করিনি। আর সঞ্জয় স্যার এই চরিত্রের জন্য আমাকে ভেবেছেন সেটা আমার কাছে ছিল খুবই বিস্ময়ের। তখনকার মতো পালালেও, পরে আমিই ফোন করে ওঁকে জানাই যে আমি এই চরিত্রে অভিনয় করব। ঠিক যেভাবে উনি আমাকে নির্দেশ দেবেন, অক্ষরে অক্ষরে সে কথা মেনে চলব। ঠিক তাইই করেছি।
'গাঙ্গুবাই' হয়ে ওঠার প্রস্তুতি কতটা কঠিন ছিল?
আলিয়া: যেহেতু আমি একটু উঁচু স্বরে কথা বলি, তাই আমাকে নিচু স্বরে কথা বলা অভ্যাস করতে হয়েছিল। লুকসের পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, হাঁটাচলা, কথা বলার ধরন- এগুলো দীর্ঘদিন ধরে রপ্ত করতে হয়েছে। দীর্ঘ দু'বছর নানা ঝড়ঝাপটা উপেক্ষা করেও এই ছবির শুটিং হয়েছে। টানা দু'বছর চরিত্রটার মধ্যে বাস করেছি, তাই শ্যুটিং শেষে গাঙ্গুবাই চরিত্রের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসাটাই আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল।
ছবিটা নিয়ে তো অনেক বিতর্ক রয়েছে। 'গাঙ্গুবাই' নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আলিয়া: দেখুন, এরকম একটা আত্মজীবনীমূলক ছবি করতে গেলে অনেক সময় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আশা রাখি, ছবিটি মুক্তির পর দর্শক তার উত্তর দেবে। সব থেকে আনন্দের বিষয় এবছর ৭২তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটা দেখানো হয়েছে। এই ছবি বার্লিনেল স্পেশালের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়াতে আমরা প্রত্যেকেই রীতিমতো গর্বিত। আর যেহেতু এটাই পরিচালক সঞ্জয় স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ, তাই রীতিমত উৎকণ্ঠায় আছি। বক্সঅফিসে যদি ছবিটা সাফল্য পায় আমি ভীষণ খুশি হব।
এস হুসেন জাইদির লেখা বই 'মাফিয়া কুইন্স অফ মুম্বই' অবলম্বনে এই ছবি, আর নায়িকা গাঙ্গুবাঈ চরিত্রে আপনি। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানশালি মূল গল্প কতটা অবিকৃত রেখে চিত্রনাট্য লিখেছেন?
আলিয়া: সেটা তো ছবি দেখলেই বোঝা যাবে। গাঙ্গুবাই চরিত্র আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গেছে। গাঙ্গুবাইকে আমি অন্তত কোনোদিন ভুলব না।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে গাঙ্গু তাঁর বাবার হিসেবরক্ষক রমনিক লালের প্রেমে পড়ে। তারপর বিয়ে করে সেই পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে গুজরাট থেকে পালিয়ে মুম্বই চলে আসে। কিন্তু ভালোবেসে বিয়ে করা বর গাঙ্গুর অজান্তেই তাঁকে কামাঠিপুরার এক পতিতালয়ে মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। এরপর ডন করিম লালার গ্যাং-এর একাধিক সদস্য গাঙ্গুকে ধর্ষণ করে। কিন্তু এতেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যায়নি। গাঙ্গু সরাসরি ন্যায় বিচারের জন্য করিম লালার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই করিম লালার মন জয় করে নেয় গাঙ্গু। করিম লালা বোনের সম্মান দেয় গাঙ্গুকে। এরপর অন্ধকার জগতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গাঙ্গু হয়ে ওঠে দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেত্রী। মুম্বাইয়ের সর্ববৃহৎ গণিকালয় কামাঠিপুরায় সংস্কারের কাজ শুরু করেন গাঙ্গুবাই। তারপর ষাটের দশকে তিনি কীভাবে কামাঠিপুরার সর্বময় কর্ত্রী হয়ে উঠেন সেটাই ছবিতে দেখানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গাঙ্গুবাঈ মহিলা যৌনকর্মীদের অধিকারের জন্য অনেক লড়াই করেছেন।
পরিচালক প্রযোজক সঞ্জয়লীলা বানশালির সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
আলিয়া: উনি নিজেই তো একটা ইনস্টিটিউশন। ওঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি, যা আগামী দিনে আমাকে পথ চলতে ভীষণভাবে সাহায্য করবে।