‘হুইল অব ফরচুন’-এর মঞ্চে অক্ষয় কুমারের রসিকতায় উঠে এল টুইঙ্কলের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের মজার বেডরুম সিক্রেট।

অক্ষয় কুমার, টুইঙ্কল খান্না
শেষ আপডেট: 22 January 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) মানেই রসিকতা, আর ফের একবার তার প্রমাণ মিলল জনপ্রিয় গেম শো ‘হুইল অব ফরচুন’-এর ভারতীয় সংস্করণে। সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে অক্ষয়কে, আর সেই শোয়েরই এক বিশেষ পর্বে সহ-অভিনেতা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটির ফাঁকে উঠে এল দাম্পত্য জীবনের একের পর এক মজার গল্প।
অনুষ্ঠানের মাঝেই অক্ষয় আচমকা প্রশ্ন ছুড়ে দেন শ্রেয়স তলপাড়ের দিকে, স্ত্রী রেগে গেলে তিনি কীভাবে তা টের পান? উত্তরে একেবারে সিরিয়াস মুখে, কিন্তু হালকা হাসি চেপে রেখে শ্রেয়স জানান, তাঁর স্ত্রীর রাগ বুঝতে কোনও কথার দরকারই পড়ে না। কখনও রিমোট ছুড়ে মারলে বোঝা যায় তিনি বেশি টিভি দেখছিলেন, আবার ফোন ছোড়া মানেই ফোনে সময় কাটানোটা মাত্রা ছাড়িয়েছে। এই ‘নীরব সতর্কবার্তা’ দেখেই নিজের ভুল ধরে ফেলেন তিনি। শ্রেয়সের এই ব্যাখ্যায় হাসিতে ভেঙে পড়ে গোটা সেট। রীতেশ দেশমুখ মজা করে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন, আর জেনেলিয়া দেশমুখ হাসি সামলাতে না পেরে চোখ মুছতে থাকেন।
একই পর্বে রীতেশের সঙ্গে সুখী দাম্পত্যের সহজ সূত্রও ভাগ করে নেন অক্ষয়। তাঁর মতে, সংসার ভাল রাখার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র একটাই, সময়মতো ‘সরি’ বলতে জানা। এরপর অক্ষয় জানতে চান, রীতেশ ও জেনেলিয়া কতদিন ধরে একসঙ্গে রয়েছেন। রীতেশ জানান, ১০ বছরের প্রেম আর ১৪ বছরের দাম্পত্য, মোট ২৪ বছরের পথচলা। সঙ্গে সঙ্গেই অক্ষয়ের ঠাট্টা, “২৫ বছরের দাম্পত্য যাঁদের, তাঁদের কাছ থেকেই শেখা উচিত। আগে ‘সরি’ বলা শিখে নাও!”
নিজের সংসারের গল্পেও কম রসিক নন অক্ষয়। স্ত্রী টুইঙ্কলের সঙ্গে ঝগড়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি জানান, টুইঙ্কল রেগে আছেন কি না, তা বোঝার জন্য তাঁর একেবারে নিজস্ব পদ্ধতি আছে। অক্ষয়ের কথায়, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ই নাকি সব পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ, তখন তাঁর পাশের বিছানার অংশ ভেজা থাকে, রাগের মাথায় টুইঙ্কল সেখানে জল ঢেলে দেন!
এই পর্বের বাইরে বাস্তব জীবনেও টুইঙ্কলের সঙ্গে ২৫ বছরের দাম্পত্য উদ্যাপন করেছেন অক্ষয়। সেই উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর একটি মজার নাচের ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সঙ্গে লেখেন দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা, যেখানে ধরা পড়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা আর হাসি-ঠাট্টায় ভরা দাম্পত্যের গল্প। অক্ষয় লেখেন, ২০০১ সালে বিয়ের দিন টুইঙ্কলের মা তাঁকে বলেছিলেন—অদ্ভুত পরিস্থিতিতেও হাসতে প্রস্তুত থাকতে, কারণ তাঁর মেয়েও ঠিক তেমনই। ২৫ বছর পর বুঝেছেন, সেই কথাটা একদমই ভুল ছিল না। রসিকতার সুরে তিনি আরও যোগ করেন, টুইঙ্কল নাকি সোজা হয়ে হাঁটতে রাজি নন, জীবনের পথে তিনি নাচতে নাচতেই এগোতে ভালবাসেন।