মে মাসের ১৪ তারিখ তন্বীর কাছে অভিশপ্ত এক দিন। গত বছর এই দিনে যখন মা চলে যান দীর্ঘ রোগভোগের পর সেদিন হাসপাতালে পাশেই ছিলেন তন্বী।

শেষ আপডেট: 14 May 2025 21:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের হাতে তৈরি শাড়িতে মাকে শেষযাট্রে সাজিয়ে দিয়েছিলেন তন্বী। স্থির হয়ে যেতে দেখেছিলেন ইসিজি লাইন। তাঁর প্রথম শ্বাসের সাক্ষী ছিলেন মা। আর মায়ের শেষ শ্বাসের সাক্ষী ছিলেন তিনি নিজে। মা চলে যাওয়ার এক বছর পার। আর এই দিনেই মন উজাড় করা চিঠি লিখলেন তন্বী।
চিঠির প্রতিটি লাইনে কান্না যেন জমাট বাঁধা। তন্বী লিখছেন, "আজ এক বছর কী করে হয়ে গেল তোমায় ছাড়া। এখনও রোজ ভাবি, সকালে ঘুম থেকে তুলে দেবে, ফোন করবে বার বার...জিজ্ঞাসা করবে কখন ফিরবি? টিফিন করেছিস? প্যাকআপ কখন?" কেউ আর বিরিয়ানি আনতে বলে না তন্বীকে। রাত জেগে বসেও থাকে না কেউ।
মে মাসের ১৪ তারিখ তন্বীর কাছে অভিশপ্ত এক দিন। গত বছর এই দিনে যখন মা চলে যান দীর্ঘ রোগভোগের পর সেদিন হাসপাতালে পাশেই ছিলেন তন্বী। অভিনেত্রী লিখছেন, "মনে পড়ে আজ গত বছরে তুমি যখন ছেড়ে চলে গেলে নার্সরা বলেছি আপনারা একটু বেরোন ওকে মর্গের জন্য তৈরি করব"। কিছুটা জেদ করেই থেকে গিয়েছিলেন তন্বী। দেখেছিলেন ইসিজির স্থির লাইন। দেখেছিলেন নাক-মুখ থেকে ফ্লুইড বের করার পদ্ধতি। নিজের হাতেই শাড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন মাকে।সাজিয়ে দিয়েছিলেন শেষবেলায়।
তন্বী লিখছেন, "আমায় বলতে তন্বী একটা লিপস্টিক দে, শাড়ির কুঁচিটা ধর। সেফটিপিন দে। শেষবেলাতেও সাজিয়ে দিলাম নিজে হাতে। ঠিক তুমি যেমন আঙুল কেটে দিতে আমিও তোমার আঙুল কেটে দিলাম। সেদিনও তোমায় কী সুন্দর লাগছিল মা।"
শোক কাটিয়ে উঠতে হয়। একটা বছর নিজেকে সামলেছেন তন্বী। সামলেছেন বাবাকেও। তবে মানুষ চিনতে শিখেছেন অনেকেটাই। জীবন যেন এক ঝটকায় বড় করে দিয়েছে তাঁকে। তন্বী বুঝতে শিখেছেন মায়ের বলা সেই অমোঘ কথা, "জীবনে বাবা-মাই সবচেয়ে ভাল বন্ধু, তাঁদের চেয়ে বেশি কেউ ভালবাসবে না।" তাই বিশেষ দিনে অভিনেত্রীর বিশ্বাস মা আছেন তাঁরই পাশে। মেয়ের ওঠা-নামায় তিনিই সঙ্গী। জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করলেও উপায় নেই। সম্বল শুধুই স্মৃতি আর হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা মায়ের ফটোফ্রেম।