অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত সংযত, নীরব প্রকৃতির। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা— এসব থেকে তিনি দূরেই থাকতে পছন্দ করেন।

শন বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 5 November 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত সংযত, নীরব প্রকৃতির। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা— এসব থেকে তিনি দূরেই থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু কখনও কখনও নীরবতা ভাঙতে হয়, কারণ চুপ থাকা মানে অনুমতি দেওয়া নয়। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে একটি পোস্টে সেই নীরবতা ভাঙলেন শন।
‘আমি সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লিখি না,’ শুরু করেছেন তিনি। ‘কিন্তু এবারে মনে হচ্ছে বলা জরুরি, কারণ এতদিন ধরে বিষয়টা উপেক্ষা করলেও এখন তা উদ্বেগের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।’
সম্প্রতি বৃন্দাবন সফরের সময় একাধিক ছবি ও রিল পোস্ট করেছিলেন শন। ভক্তির অনুভবে ভরা, অন্তরের শান্তি খোঁজার এক যাত্রার মুহূর্ত ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শুভ মুহূর্তেও নেটিজেনদের একাংশের মন্তব্য যেন বিষের মতো ঢুকে গেল শান্ত সেই ছবিগুলোর ফাঁকে।

শন লিখেছেন, ‘আমার সেই পোস্টগুলির নিচে যে মন্তব্যের বন্যা বয়ে গেল, তা আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে— বিশেষ করে সম্পর্কের প্রসঙ্গে। অথচ ওই রিল বা ছবির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্কই নেই।’
এমন মন্তব্য তিনি আগেও দেখেছেন, কিন্তু সে সময় চুপ ছিলেন। এবার আর পারলেন না। ‘যে মন্তব্যগুলো করা হচ্ছে, সেগুলো শুধু উসকানিমূলকই নয়, অবমাননাকরও। তাই বলতেই হল— যারা এভাবে কিছু বলতে চান, দয়া করে নিজেকে সংযত করুন। আমি এমন আচরণ প্রশ্রয় দিই না,’ স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিনেতা।
শন মনে করালেন, ‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যা ইতিমধ্যেই সংঘাত ও ঘৃণায় ভারাক্রান্ত। একে অপরের প্রতি একটু মমতা দেখানো খুব বেশি কঠিন নয়। আমি আমার দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করি, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
তবু এই ভালোবাসার ভিড়েই লুকিয়ে থাকে কিছু কটু শব্দ। শন বুঝেছেন— অতিরিক্ত নরম হওয়া, অতিরিক্ত নীরব থাকা, অনেক সময় মানুষকে এমন সাহস দেয় যাতে তারা অন্যের সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। ‘সোশ্যাল মিডিয়া সেই সুযোগ করে দিয়েছে— সবাই ভাবছে, তারা যা খুশি বলতে পারে। আমি সবার মতামতকে সম্মান করি, কিন্তু আঘাতকারী, অমায়িক কথাগুলো উপেক্ষা করা যায় না,’ লিখেছেন তিনি।

একজন নেটিজেনের মন্তব্য যেন আচমকাই আগুনে ঘি ঢেলে দিল। তিনি লিখেছিলেন, “আপনার জন্য এক মডেল তাঁর আট বছরের সম্পর্ক ভেঙে ফেলেছেন। একসঙ্গে থাকতেন তাঁরা। সব জেনেও আপনি কীভাবে সেই সম্পর্কে জড়ালেন? কর্মফল একদিন না একদিন সবাইকেই ভুগতে হয়— আপনাদেরও সুখ আসবে না।” এই কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য চোখে পড়তেই শান্ত অভিনেতার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে বিরক্তি উগরে দেন শন বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই দ্রুতগামী, প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে হয়তো মানুষ ভুলে যাচ্ছে সহানুভূতি কীভাবে প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু শন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘একটু সদয় হওয়া, একটু ভেবে কথা বলা— এতটুকুই তো দরকার পৃথিবীটাকে সুন্দর করতে।’
শেষে তিনি লিখেছেন এক প্রার্থনার মতো করে, “ঈশ্বর আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।’
শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্টে একটিই বার্তা— সংযম দুর্বলতা নয়, কিন্তু যখন চুপ থাকা অন্যায়ের সমর্থন হয়ে ওঠে, তখন প্রতিবাদই হয়ে ওঠে প্রার্থনা। তাঁর এই নীরব প্রতিবাদ যেন এক সুর— যা শেখায়, মমতার মধ্যে এখনও বেঁচে আছে মানুষের মর্যাদা।