যে ছবি নিয়ে এখন গোটা রাজ্য জুড়ে ধুন্ধুমার দ্য বেঙ্গল ফাইলস। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর এই ছবির ট্রেলার মুক্তি নিয়েই শুরু থেকেই চলছে দারুণ বিতর্ক।

সৌরভ দাস
শেষ আপডেট: 25 August 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে ছবি নিয়ে এখন গোটা রাজ্য জুড়ে ধুন্ধুমার দ্য বেঙ্গল ফাইলস। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর এই ছবির ট্রেলার মুক্তি নিয়েই শুরু থেকেই চলছে দারুণ বিতর্ক। ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় ওঠে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ। ছবিতে অভিনয় করেছেন অনুপম খের, পল্লবী যোশি, মিঠুন চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, দর্শন কুমার, পৌলমী দাস, নমশি চক্রবর্তীর মতো তারকারা।
অনেকে মনে করছেন, ছবিটি রাজ্য সরকার বিরোধী এবং রাজনৈতিক প্রচারে ভরপুর। আবার একাংশের দাবি—ছবিটি মুক্তি পেলে, অন্ধকারে ঢাকা এক অধ্যায় সামনে এসে যাবে। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে সৌরভ দাসকে। তাঁর চরিত্রের নাম ‘গোপাল পাঁঠা’।
ট্রেলারে গোপাল-রূপী সৌরভকে বলতে শোনা গিয়েছে—“ভারত আজ থেকে হিন্দুরাষ্ট্র হবে।” দাবি উঠেছে, চরিত্রটি বেছে বেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করেছে। আর এখানেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সৌরভ।
কারণ, একসময় সক্রিয়ভাবে তিনি যুক্ত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে। রাজনৈতিক মঞ্চেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাহলে মমতা সরকারের বিরোধিতার ছবিতে কেন কাজ করলেন তিনি? শান্ত সুরেই উত্তর দিয়েছেন সৌরভ—“আমাকে যে চরিত্র দেওয়া হয়েছে, আমি শুধু সেটাই জানি। এর বাইরে কিছু নয়। আমি যদি কোনওদিন হিটলারের চরিত্রে অভিনয় করি, তার মানে এই নয় যে আমি নাৎসি সমর্থক। এটা নিছক অভিনয়, শিল্পের জায়গা থেকে।”এই এক কথাতেই যেন পরিষ্কার হয়ে যায় সৌরভের দৃষ্টিভঙ্গি—শিল্পীর একমাত্র দায় চরিত্রকে সত্যি করে তোলা, রাজনৈতিক রং মেশানো নয়।
তবুও বিতর্ক থেমে থাকেনি। সামাজিক মাধ্যমে চলছে একের পর এক কটাক্ষ। এমন পরিস্থিতিতেই হঠাৎ নিজের আবেগী কথাগুলো লিখে ফেললেন সৌরভ। সম্প্রতি বাবার অস্ত্রোপচার হয়েছে।
হাসপাতালে চেতনা ফেরার পর প্রথমেই বাবার প্রশ্ন—“তোর সম্বন্ধে এভাবে খারাপ কথা বলছে কেন?” উত্তর দিতে পারেননি অভিনেতা, শুধু চোখ ভিজে উঠেছিল অজান্তেই। নিজের লেখায় সৌরভ লিখলেন—জীবনে টিকে থাকা যেন এক অবিরাম লড়াই। চারপাশে শুধু বিষ আর নেতিবাচকতা। অথচ একটু দয়া দেখাতে কি এতটাই কষ্ট হয়? শিল্পকে ভালোবেসেই একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমে আজকের জায়গায় পৌঁছেছেন। তবুও যা ফিরছে, তা যন্ত্রণা অনেক বেশি, গৌরব নয়। একজন শিল্পীর পরিবারের পক্ষে এসব তির্যক মন্তব্য কতটা অসহনীয়, সেটাই ধরা পড়েছে তাঁর কথায়।
তবে হতাশার ভিড়েও আশার আলো দেখেছেন তিনি। লিখেছেন—“আমরা এগিয়ে যাব, পরিবারের পাশে থেকে, তাদের নিরাপদে রেখে। আমরা ঈশ্বরের সন্তান। হারিয়ে যাওয়ার আগে স্বপ্নগুলো ছোঁয়ার চেষ্টা করবই। আমি গর্বিত আমার যাত্রা নিয়ে, যদিও মনে হয় এই যাত্রার শুরুটা এখনও হয়নি।”

সৌরভ দাসের এই আত্মকথন যেন মনে করিয়ে দেয়—তারকারাও আসলে মানুষ। তাঁদেরও কষ্ট আছে, দুঃশ্চিন্তা আছে, স্বপ্ন আছে। আর সেইসব কিছুর মধ্যেই জেগে থাকে শিল্পের প্রতি অনিঃশেষ ভালোবাসা। অবশেষে, বিতর্ক আর সমালোচনার মাঝেও সৌরভের বিশ্বাস একটাই—শিল্প কখনও থেমে থাকে না, স্বপ্নই পথ দেখায়। জীবন নামের এই নদীতে তিনি ভেসে চলবেন, স্বপ্নের পাল তুলে।