গোপাল মুখোপাধ্যায়, ওরফে গোপাল পাঁঠা। মধ্য কলকাতার মলঙ্গা লেনের বাসিন্দা গোপাল সাধারণের প্রাণ বাঁচাতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। সাক্ষাৎ মসিহার মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন ত্রাতা হিসেবে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 21 August 2025 17:35
সালটা ছিল ১৯৪৬। দিনটা ১৬ অগস্ট। ইতিহাসের কালো দিন। মহম্মদ আলি জিন্না ও সুরাবর্দি খাঁর নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল 'দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং' ওরফে 'ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে'। কলকাতার রাজপথ ভেসেছিল রক্তগঙ্গায়। মুসলিম লিগের হাতে খুন হয়েছিলেন কতশত সাধারণ মানুষ, যাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন হিন্দু। এই সময়ই এক নামের আবির্ভাব হয়েছিল ঘূর্ণির মতো। তিনি গোপাল মুখোপাধ্যায়, ওরফে গোপাল পাঁঠা। মধ্য কলকাতার মলঙ্গা লেনের বাসিন্দা গোপাল সাধারণের প্রাণ বাঁচাতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। সাক্ষাৎ মসিহার মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন ত্রাতা হিসেবে।
বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'-এ এসেছে গোপাল পাঁঠা প্রসঙ্গ। ওই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌরভ দাস। গোপাল-রূপী সৌরভকে ছবির ট্রেলারে বলতে শোনা গিয়েছে, 'ভারত আজ থেকে হিন্দুরাষ্ট্র হবে'। এও দাবি করা হয়েছে বেছে বেছে মুসলিমদেরই খুন করেছিলেন তিনি। অথচ, দ্য ওয়াল যখন গোপাল মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি পৌঁছয় তখন উঠে এল এক অজানা অধ্যায়। যা নিজ মুখে তুলে ধরলেন নাতি শান্তনু।

তাঁর দাবি, দাদুর ইতিহাস বিকৃত করেছেন পরিচালক। ছবিতে তাঁকে তুলে ধরা হয়েছে কসাই হিসেবে। তাঁর কথায়, "অনেকেই হয়তো জানেন না, দাঙ্গার সময় আমাদের বাড়ির ঠিক সামনে হাতে টানা রিক্সা চালাতেন রহিমচাচা। তখন তিনি খুবই ছোট। ওই দিন (১৬ অগস্ট) যখন মুসলিম লিগ নির্বিচারে মানুষ মারছে তখন রহিমচাচা এসে আশ্রয় চান আমার দাদুর কাছেই। দাদু কিন্তু তাঁকে ফিরিয়ে দেননি। বরং নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন ১০/১৫ দিন টানা। রহিমচাচা আজও রিক্সা চালান এই চত্বরেই। তাঁর কাছে দাদু যেন স্বয়ং উপরওয়ালা।"
সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন মানুষটি, দাবি করেছেন নাতি- নাতনিরা। তাই বিবেকের সঙ্গে একেবারেই সহমত নন কেউই। বাবা-মায়ের পরেই নেতাজির স্থান ছিল তাঁর কাছে। আর্ত-পীড়িতদের সেবায় নিজের বাড়ির ঠিক পাশেই ১৯৪৬ সালে গোপাল মুখোপাধ্যায় খুলেছিলেন এক সমিতি যার নাম 'আর্তত্রাণ সমিতি'। মরচে পড়া, ছাল-চামড়া উঠে যাওয়া সেই সাইনবোর্ড নিজস্ব স্বকীয়তায় আজও জ্বলজ্বল করছে মলঙ্গা লেনের বাড়ির পাশেই। তার ট্যাগলাইন 'ইত্তেফাক, ইদমাদ, কুরবানি'-- তাও কিন্তু আবার লেখা উর্দুতেই!

ইতিমধ্যেই পরিচালকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন শান্তনু। সুবিচার মিলবে, প্রত্যাশা তাঁর। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এই ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা। দেখতে যাবেন? প্রশ্ন করতেই ছলছল চোখে তাঁর উত্তর, "না। ইতিহাস যিনি বিকৃত করেছেন তিনি যে সত্যি তুলে আনবেন না তা তো বলাই যায়। কী হবে দেখতে গিয়ে? দাদুর ইতিহাস সামনে আসুক আমরাও চাই। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে একবারটিও যোগাযোগ না করে কীভাবে ওই পরিচালক এত বড় ছবি বানিয়ে ফেললেন তা কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকছে না।"