পডকাস্টে পেরেন্টিং নিয়ে খোলামেলা অভিষেক বচ্চন। ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে মেয়ে আরাধ্যাকে বড় করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নয়, উদাহরণে বিশ্বাস করেন তিনি।

অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বর্যা রাই, আরাধ্যা বচ্চন
শেষ আপডেট: 5 April 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারে সন্তানের শিক্ষার ক্ষেত্রে মা-বাবার আলাদা করে কোনও নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকা উচিত নয়, এমনটাই মনে করেন অভিষেক বচ্চন (Abhishek Bachchan)। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও পেরেন্টিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সন্তানকে কীভাবে বড় করে তোলা হচ্ছে, তার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হল নিজের আচরণ। তাঁর মতে, সন্তানকে শুধু উপদেশ দিয়ে শেখানো নয়, বরং নিজেরা উদাহরণ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে জরুরি।
অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রাইয়ের বিবাহিত জীবন ১৮ বছরের। তাঁদের মেয়ে আরাধ্যাও এখন টিনএজ়ার। পেরেন্টিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, অনেক সময় বাবারা ভালো শিক্ষক হতে পারেন না, কারণ আবেগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে ফেলে। তাই তিনি ও ঐশ্বর্যা দু’জনেই চেষ্টা করেন, মেয়ের সামনে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে। তাঁদের বিশ্বাস, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল তা শুধু বলে শেখানো নয়, বরং আচরণের মাধ্যমে দেখানোই নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারে। কারণ বর্তমান প্রজন্মের পৃথিবী আগের প্রজন্মের থেকে অনেকটাই আলাদা।
অভিনেতা আরও জানান, তাঁদের বাড়িতে কখনও মা-বাবার দায়িত্ব আলাদা করে ভাগ করা হয়নি। যেমন— বাবা আত্মরক্ষা শেখাবেন আর মা সহানুভূতি শেখাবেন, এমন কোনও ধারণায় তাঁরা বিশ্বাস করেন না। বরং দু’জনেই একসঙ্গে মেয়েকে শেখানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের কাছে সন্তানকে বড় করে তোলা কোনও প্রতিযোগিতা নয়— কে বেশি ভালো মা বা বাবা, সেই ভাবনাও নেই। অভিষেকের মতে, ঐশ্বর্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মানই এই পেরেন্টিংয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে।
আলাপচারিতার মাঝেই মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে একটি মজার ঘটনাও শোনান অভিষেক। একদিন টিভি দেখার সময় তিনি মেয়েকে এক গ্লাস জল এনে দিতে বলেন। আরাধ্যা প্রথমে প্রশ্ন করলেও পরে জল এনে দেয়। কিছুক্ষণ পর সে একইভাবে বাবাকে জল এনে দিতে বলে। তখন অভিষেক তাকে নিজেই জল নিয়ে নিতে বলেন। আরাধ্যা তখন পাল্টা প্রশ্ন করে— সে যদি বাবার জন্য জল আনতে পারে, তবে বাবা কেন তার জন্য আনতে পারবেন না? এই যুক্তির সামনে অভিষেকের কোনও উত্তর ছিল না। সেই মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পারেন, মেয়ের কথার মধ্যে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আর সেই ঘটনার পর থেকে মেয়ের সঙ্গে তর্ক না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।