স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল হাভেলিটি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তার কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তার মধ্যেই ভূমিকম্পের কম্পনে হাভেলির একটি অংশ ভেঙে পড়ে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 5 April 2026 12:30
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: পেশোয়ারের ঐতিহাসিক কাপুর হাভেলি (Kapoor Haveli)-র ভবিষ্যৎ কী? এ প্রশ্ন একাধিকবার ফিরে এসেছে আলোচনায়। দিনে-দিনে নষ্ট হচ্ছে এই মহল। ফলে আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এল এই হাভেলি প্রসঙ্গ। প্রবল বৃষ্টি এবং শুক্রবার গভীর রাতে হওয়া ভূমিকম্পে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এই স্থাপনা, যা একসময় বলিউডের কিংবদন্তি স্টার রাজ কাপুর (Raj Kapoor)-এর পৈতৃক ভিটে ছিল।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল হাভেলিটি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তার কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তার মধ্যেই ভূমিকম্পের কম্পনে হাভেলির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। খাইবার পাখতুনখোয়া হেরিটেজ কাউন্সিলের কর্তা শাকিল ওয়াহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, কম্পনের জেরে একটি দেওয়াল ধসে পড়েছে। যদিও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবু বাকি অংশের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।
২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার এই হাভেলিটিকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। তবু দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নিলে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে এই মূল্যবান স্থাপত্য।
পেশোয়ারের এই হাভেলি একসময় ছিল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। প্রায় চল্লিশটি ঘর নিয়ে গড়া এই বিশাল প্রাসাদের দেওয়ালজুড়ে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ, ফুলের নকশা ও ঝরোখার সৌন্দর্য।
এই বাড়িতেই জন্ম হয়েছিল রাজকাপুর (Raj Kapoor) এবং তাঁর ভাই ত্রিলোক কাপুর (Trilok Kapoor)-এর। তাঁদের বাবা পৃথ্বীরাজ কাপুর (Prithviraj Kapoor)-এর হাত ধরেই কাপুর পরিবার ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরে অভিনয়ের টানে পৃথ্বীরাজ কাপুর বম্বে চলে যান। দেশভাগের সময়, কাপুর পরিবার স্থায়ীভাবে ভারতে চলে আসে, পেশোয়ারে থেকে যায় তাঁদের এই পৈতৃক ভিটে।
পরবর্তী সময়ে কাপুর পরিবারের একাধিক সদস্য এই হাভেলিতে এসেছেন। নব্বইয়ের দশকে ঋষি কাপুর (Rishi Kapoor) ও রণবীর কাপুর (Randhir Kapoor)-ও এই বাড়ি ঘুরে দেখেন এবং সংরক্ষণের দাবি জানান।
১৯৪৭ সালের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই হাভেলি আজ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে। ধসে পড়া দেওয়াল যেন শুধু একটি স্থাপনার ক্ষয় নয়—এ এক ইতিহাসের ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে পারে।