সালটা ১৯৯০। হিন্দি সিনেমার দর্শক তখন মাধুরী দীক্ষিতের হাসি আর আমির খানের সরলতায় মুগ্ধ।

মাধুরী দীক্ষিত ও আমির খান
শেষ আপডেট: 20 June 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ১৯৯০। হিন্দি সিনেমার দর্শক তখন মাধুরী দীক্ষিতের হাসি আর আমির খানের সরলতায় মুগ্ধ। ঠিক এই সময়েই বড়পর্দায় মুক্তি পায় ‘দিল’—একটি সোজাসাপটা প্রেমের গল্প, যা বাজেটের তুলনায় আয়ের বিচারে সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। মাত্র ২ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি হওয়া ছবিটি বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তোলে।
‘দিল’ ছিল এমন একটি ছবি, যেখানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন আমির খান ও মাধুরী দীক্ষিত। আর তাঁদের রসায়ন দর্শকের এতটাই মনে ধরে যে, এই জুটিকে নিয়ে তখন বলিউডে আলাদা চর্চা শুরু হয়ে যায়। সিনেমার গল্প যেমন হৃদয় ছুঁয়েছিল, তেমনই গানগুলোও হয়েছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
তবে জানেন কি, এই ছবির একটি গানে প্রথমে কাজ করতেই রাজি হননি আমির খান। ছবির পরিচালক ইন্দ্র কুমার যখন ‘আজ না ছোড়ু তুঝে দম দমা দম’ গানের পরিকল্পনা করেন, তখনই বাধে বিপত্তি। মাধুরীর সঙ্গে স্ক্রিনে নাচবেন শুনে আমির সরাসরি না করে দেন। পরের কথা আমির নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মাধুরী এত ভাল নাচেন, ওর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে আমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ব। আমি কিছুতেই পারব না ওর সঙ্গে তালে তাল দিতে! তারপরে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হবে। তবে মাধুরী যদি জোর করে, তাহলে আমার সেখানে কিছু করার নেই।”
কিন্তু ইন্দ্র কুমারও নাছোড়। তিনি আমিরকে বোঝান, গানটি মজার, মাধুরীর নাচ থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেটার পাশাপাশি আমিরের অভিনয়ও জমে উঠবে। অনেক অনুরোধের পর শেষমেশ রাজি হন আমির খান। এবং আজ সেই গানটিও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি-ডান্স সং হয়ে উঠেছে।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়। ‘দিল’ শুধু ১৯৯০ সালের সর্বোচ্চ আয় করা ছবি হয়ে ওঠেনি, বরং এটা ছিল এমন একটা মুহূর্ত, যা আমির ও মাধুরীর কেরিয়ার গ্রাফে স্থায়ী ছাপ ফেলে দেয়।
আমির খান ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন, আর মাধুরী ঠিক একই বছরে ‘তেজাব’-এর ‘এক দো তিন’ দিয়ে ঝড় তুলেছিলেন দর্শকমনে। কিন্তু ‘দিল’—এই ছবি তাঁদের দু’জনকেই তারকাখ্যাতির নতুন মানচিত্রে পৌঁছে দেয়।