জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার (জুনিয়র)-এর বাড়িতে এ যেন অন্য রকম এক ব্যস্ততা। এতদিন ম্যাজিকের মঞ্চে হাততালি কুড়িয়েছেন তিনি, কিন্তু এখন তিন কন্যের বিয়ে ঘিরে যে টেনশন, তা কোনও যাদু-ছোঁয়ায় উধাও করা যাচ্ছে না।

মৌবনী।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার (জুনিয়র)-এর বাড়িতে এ যেন অন্য রকম এক ব্যস্ততা। এতদিন ম্যাজিকের মঞ্চে হাততালি কুড়িয়েছেন তিনি, কিন্তু এখন তিন কন্যের বিয়ে ঘিরে যে টেনশন, তা কোনও যাদু-ছোঁয়ায় উধাও করা যাচ্ছে না। তবে আপাতত স্বস্তির হাওয়া— কারণ বড় মেয়ের পর এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন মাঝের মেয়ে, মৌবনী সরকার। আর সেই পাত্র? গবেষণা-নিবেদিত, শান্ত স্বভাব রিসার্চ অ্যানালিস্ট— সৌম্য রায়।
কিন্তু কেমন করে এমন দ্রুত সব ঠিক হল? মৌবনীর উত্তর ছিল, “বাবা যে বিজ্ঞাপনটা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই যোগাযোগ। ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে হবে। ভেবেছিলাম, এমন মানুষ পাওয়া সম্ভব না, যার সঙ্গে সারাজীবন কাটানো যায়! কিন্তু প্রথম দেখাতেই মনে হল, আমাদের ভাবনা, আমাদের ছন্দ— একই কোথাও।”
৩০ নভেম্বর ঠিক হয়েছে বিয়ের দিন। হাতে সময় মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ, আর তাতেই ঘর ভরে উচ্ছ্বাসে, গোলমাল, দৌড়ঝাঁপে। মৌবনীর ছোট বোন মুমতাজ এখন জামাইবাবুর জুতো চুরি-অপারেশনের পরিকল্পনায় ব্যস্ত; সিনেমার মতোই টাকা আদায়ে পুরো ‘ফুলপ্রুফ’ চক্রান্ত তৈরি। অন্যদিকে মানেকা আর মুমতাজ মিলে দিদির সাজপোশাক, গয়না, শাড়ি— প্রতিটা নিয়ে চলছে সমান তৎপরতা। মৌবনীর বিয়ের বেনারসি আনানো হচ্ছে বেনারস থেকে।
সৌম্যর কথায় ফিরলে— বিদেশে থাকতেন, এখন কর্মসূত্রে কলকাতায়। পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ— সব মিলিয়ে মানুষটিএকেবারেই শান্ত, বিনয়ী, সংস্কৃতিমনা। মৌবনীর চোখে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ কী? “ও খুব অ্যাকসেপ্টিং। খুবই ইন্টেলিজেন্ট। সাহিত্য ভালোবাসে— যা আমারও গভীর প্রিয়। আমার লেখা, আমার কাজ, আমার আর্ট— সব কিছুর সঙ্গে ওর সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের বাইরে থেকেও দেশের জন্য টান আছে। খুব কালচারড, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি ওর শ্রদ্ধা ভীষণ। ওর পরিবারটাও খুব ভালো— বাবা-মা, দিদি— সবাই শান্ত, মানানসই।”
বিয়ের পরিকল্পনা চলতে চলতেই মাঝেমধ্যে ওদের বাড়িতে চুপচাপ মুহূর্ত নেমে আসে। মৌবনী হেসে বলেন, “হঠাৎ মনে হয়— আর কয়েকদিন পরই তো অন্য বাড়িতে চলে যাব! মা-বাবা, দুই বোন— কখনো খুব হইহই করছে, আবার হঠাৎ চুপ। কারও সঙ্গে কেউ কথা বলছে না— যেন একটু ভয়, একটু অসহায়তা। আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যায়। এই ওঠানামাগুলোই যেন আমাদের বাড়ির আজকের গল্প।”
বাবা-মা তো বটেই, মুমতাজ আর মানেকার উত্তেজনা আরও বেশি। সারাদিন ওরা এত ছুটোছুটি করে যে মৌবনী নিজেই বলেন, “ওদের জন্য এতটা করতে পারব কি না জানি না।” বাড়িতে এসব দেখে পিসি সরকার জুনিয়র মাঝেমধ্যে আনন্দে গান গেয়ে ওঠেনই— এতটাই খুশি তিনি।
আর সৌম্য? তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রেও একই ব্যস্ততা, একই আনন্দের তাপ-উত্তাপ। মৌবনী বলেন, “আমরা দু’জন খুব ইমোশনাল জায়গা থেকে কানেক্ট করেছি। আর অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে এটা খুব কমই হয়। আমি যে পরিবার চেয়েছিলাম, ওঁরা ঠিক তেমনই।”
মজার কথা— মৌবনীর একটা ছোট আক্ষেপও আছে, “তিন বোনকে নিয়ে একটা স্বয়ম্বর সভা আর হল না!”
তবু অভিমান যাই থাকুক, বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ। বেনারসি, ঘরজোড়া সাজ, দিদি-বোনেদের খুশির চেঁচামেচি, আর কোথাও দূরে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের ভাবনায় একটু থেমে যাওয়া কনে। ম্যাজিশিয়ানের বাড়িতে বিয়ের আসর— তারও আবার শুরু বিজ্ঞাপনের সূত্রে পাওয়া পাত্র দিয়ে। সত্যিই, জীবনের কিছু মুহূর্ত হয়— যা কোনও জাদুকাঠি ছোঁয়ায় নয়, নিখাদ ভাগ্যে রচিত হয়। মৌবনী-সৌম্যর গল্প ঠিক তেমনই— আকস্মিক, সুন্দর, আর একেবারেই মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।