মাধুরী দিক্ষিত প্রস্তুত। দীর্ঘদিন পর থ্রিলার জঁরে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত নতুন সিরিজ ‘মিসেস দেশপাণ্ডে’-র ট্রেলার মুক্তি পেতেই ছড়িয়েছে উত্তেজনা—কারণ এখানে যে মাধুরীকে দর্শকরা দেখছেন, তাঁকে তারা আগে কখনও দেখেননি।

শেষ আপডেট: 2 December 2025 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধুরী দিক্ষিত (Madhuri Dixit) প্রস্তুত। দীর্ঘদিন পর থ্রিলার জঁরে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত নতুন সিরিজ ‘মিসেস দেশপাণ্ডে’-র ট্রেলার মুক্তি পেতেই ছড়িয়েছে উত্তেজনা—কারণ এখানে যে মাধুরীকে দর্শকরা দেখছেন, তাঁকে তারা আগে কখনও দেখেননি। শান্ত, নিরীহ, ‘ভোলি সি সুরত’-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার অতীত, আর সেই অতীতের নাম—একজন সিরিয়াল কিলার।
ট্রেলারটি শুরু হয় মাধুরীর সুরেলা কণ্ঠে ‘ভোলি সি সুরত’ গাওয়ার দৃশ্যে। পরক্ষণেই আসে চমক—নির্দয় খুন! এরপরই ধরা পড়ে তাঁর অতীতের এক ঝলক—জেলখানার অন্ধকারে বসে মাধুরীর সংলাপ, “আমি তো ভেতরে আছি… তাহলে আমার পদ্ধতি নকল করছে কে?” এখান থেকেই মিলল গল্পের ধারা—নিরীহ মুখোশের আড়ালে গোপন দানব, এবং সেই দানবের পুরনো পাপকে নকল করে শহরে এক নতুন খুনি!
‘মিসেস দেশপাণ্ডে’-তে মাধুরী অভিনয় করেছেন এমন এক মহিলার চরিত্রে, যিনি ২৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক সিরিয়াল কিলার। হঠাৎ করেই শহরজুড়ে তাঁর পুরনো স্টাইলে নতুন খুন শুরু হলে পুলিশ পৌঁছে যায় তাঁর কাছে। কিন্তু তিনি সাহায্য করবেন এক শর্তে—তদন্ত দলের সঙ্গে কাজ করবেন তাঁর বহুদিনের দূরত্বে থাকা ছেলে, যিনি এখন একজন গোয়েন্দা। মা-ছেলের দগদগে সম্পর্ক, চাপা বেদনা, বহুদিনের অভিমান আর অতীতের আগুন—এই অশান্তির মাঝেই এগোয় তদন্ত।
ফরাসি সিরিজ ‘লা মন্ত’–র সরকারিভাবে রিমেক এই ভারতীয় রূপান্তরটি মনস্তাত্ত্বিক সাসপেন্স আর আবেগঘন ড্রামার একটি তীব্র মিশ্রণ। গল্প যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়—‘মিসেস দেশপাণ্ডে’র শান্ত হাসি আর নিষ্পাপ চাহনি আসলে এক গভীর অন্ধকারের ছদ্মবেশ।
মাধুরীর সঙ্গে অভিনয়ে রয়েছেন সিদ্ধার্থ চাঁদেকর (ছেলের ভূমিকায়), প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়, কেভিন দাভে এবং অর্জুন পাণ্ডে। অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত এই সিরিজটি মুক্তি পাবে ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ জিওহটস্টারে।
২০২২ সালে নেটফ্লিক্সে দ্য ফেম গেম প্রত্যাশামতো সাফল্য না পেলেও, মিসেস দেশপাণ্ডে নিয়ে মাধুরীর প্রত্যাবর্তনে নতুন আশা। আগের মতো গ্ল্যামারাস তারকা নয়, এবার তিনি আসছেন রুদ্ধশ্বাস চরিত্রে—এক ভবঘুরে অন্ধকারের অধিকারিণী, এক সিরিয়াল কিলার।
ট্রেলার শেয়ার করে মাধুরীর লেখাও জড়াল রহস্যকে আরও পাকিয়ে—“কখনও কখনও কিলারকে ধরতে কিলারেরই সাহায্য লাগে।” ট্রেলার দেখেই সোশ্যাল মিডিয়া উচ্ছ্বসিত। কেউ লিখেছেন, “ক্রিপটিক স্মার্কে শিরশিরে শিহরণ!” আরেকজনের মন্তব্য, “মাধুরীকে এই রূপে ভাবিনি কোনওদিন… কিন্তু অসাধারণ লাগছে!” কেউ আবার জানিয়েছেন, “গ্রে শেডে মাধুরী—এটা না দেখলে চলবে না।”
উত্তেজনা, অপ্রকাশিত সত্য আর অপূর্ণ সম্পর্কের দহন নিয়ে এগোচ্ছে মিসেস দেশপাণ্ডে—শেষ পর্যন্ত কি সত্যিই এক খুনি অন্য খুনিকে ধরতে পারবে? নাকি অন্ধকারই অন্ধকারকে ঢেকে দেবে? উত্তর মিলবে ১৯ ডিসেম্বরের পর… আর সেই উত্তরের পথটি কি আরও নতুন প্রশ্ন তৈরি করে দেবে না?