শহরের আকাশে বেজে উঠবে অন্য এক সুর, অন্য এক আলো। ‘স্বপ্নবন্ধন’। সুরের মায়ায় গাঁথা এক অনন্য আয়োজন, যেখানে ভালোবাসার নোট আর আশার বাঁধনে থাকবে একেকটি মুহূর্ত। ২৯শে আগস্ট, কলকাতার কলামন্দিরে বসছে এই আবেগঘন আসর।

শহরের আকাশে বেজে উঠবে অন্য এক সুর, অন্য এক আলো
শেষ আপডেট: 20 August 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের আকাশে বেজে উঠবে অন্য এক সুর, অন্য এক আলো। ‘স্বপ্নবন্ধন’। সুরের মায়ায় গাঁথা এক অনন্য আয়োজন, যেখানে ভালোবাসার নোট আর আশার বাঁধনে থাকবে একেকটি মুহূর্ত। ২৯শে আগস্ট, কলকাতার কলামন্দিরে বসছে এই আবেগঘন আসর।
গোটা অনুষ্ঠানটির আড়ালে রয়েছে এক অসাধারণ গল্প। সুন্দরবনের দুর্গম গ্রাম থেকে উঠে আসা ছোট্ট-ছোট্ট শিশুদের স্বপ্নকে লালন করছে কথাকলি স্বপ্নপুরণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ২০১২ সালে সূচনার পর থেকে এই সংস্থা ছড়িয়ে দিচ্ছে শিক্ষার আলো, তৈরি করছে প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পথ। শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, নারীদের জন্য আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার, আর গোটা সমাজের জন্য উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এসবের মধ্যেই বোনা রয়েছে স্বপ্নপুরণের মূল দর্শন।
এই নিরলস পথচলার মুখ, প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক শতরূপা মজুমদার। শিক্ষকতা দিয়ে শুরু, তারপর গ্রামীণ শিক্ষার মডেল তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ—সবকিছুর মধ্যেই তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। বহু পুরস্কার, সম্মান, স্বীকৃতি এসেছে, কিন্তু তাঁর কাছে আসল জয়—শত শত শিশুর হাসি আর নতুন জীবনের আলো।

এবার সেই স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে আয়োজন করা হয়েছে ‘স্বপ্নবন্ধন’। অনুষ্ঠানের কিউরেটর হিসেবে থাকছেন শ্রীময়ী পিউ কুণ্ডু। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রিয়দর্শিনী ঘোষ বাওয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। গানে মুগ্ধ করবেন দুর্নিবার সাহা। সঙ্গী হচ্ছেন ঈশা বন্দ্যোপাধ্যায়—ওয়েলনেস পার্টনার হিসেবে।
সন্ধ্যা নামবে, আলো জ্বলবে, আর শুরু হবে সুরের ম্যাজিক। কিন্তু এই আয়োজন শুধুই সংগীতের নয়, এর ভেতর লুকিয়ে আছে এক গভীর মানবিক উদ্দেশ্য। সুন্দরবনের প্রান্তিক কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা আর আশার আলো ছড়িয়ে দিতে—এই সঙ্গীত সন্ধ্যার প্রতিটি সুর হয়ে উঠবে প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
২৯শে আগস্ট সন্ধ্যা ছ’টা থেকে কলামন্দিরের মঞ্চে যখন বাজবে ‘স্বপ্নবন্দন’-এর সুর, তখন হয়তো শহরের বুক জুড়ে ভেসে উঠবে সুন্দরবনের শিশুদের হাসি। সেই হাসি হবে ভালোবাসার, সেই হাসি হবে আশার। কারণ, শেষমেষ প্রতিটি সুরের অন্তরালে রয়েছে একটাই প্রতিশ্রুতি—কোনও স্বপ্ন যেন অন্ধকারে চাপা না পড়ে, প্রতিটি শিশুর জীবনই যেন আলোয় ভরে ওঠে।
এই সুরেলা সন্ধ্যা তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি হয়ে উঠবে এক সেতুবন্ধন—ভালোবাসা আর আশার বাঁধনে গড়া, হৃদয়ের গভীর থেকে জন্ম নেওয়া এক টুকরো আলোর উৎসব।