রাজেশ খান্নার (Rajesh Khanna) জীবনের উত্থান-পতনের আড়ালে যে এক নিঃসঙ্গ আত্মার গল্প লুকিয়ে ছিল, তা প্রকাশ্যে এসেছে গৌতম চিন্তামণি-র লেখা বই ‘ডার্ক স্টার: দ্য লোনলিনেস অব বিইং রাজেশ খান্না’-য় (Dark Star: The Loneliness of Being Rajesh Khanna)।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 29 July 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দি সিনেমার প্রথম 'সুপারস্টার' রাজেশ খান্নার (First Superstar of Hindi cinema) অনুরাগীদের সংখ্যা প্রায় সমুদ্রসমান। অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরও দর্শকরা ভুলতে পারেননি তাঁর। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চিত ছিলেন। ২০১২ সালে প্রয়াত হন রাজেশ খান্না (Rajesh Khanna)। এবার সামনে এল রহস্যে মোড়া এক ঘটনা। 'ডার্ক স্টার' বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৪টি বন্ধ স্যুটকেস। সবকটিই ছিল উপহারে ভর্তি।
রাজেশ খান্নার (Rajesh Khanna) জীবনের উত্থান-পতনের আড়ালে যে এক নিঃসঙ্গ আত্মার গল্প লুকিয়ে ছিল, তা প্রকাশ্যে এসেছে গৌতম চিন্তামণি-র লেখা বই ‘ডার্ক স্টার: দ্য লোনলিনেস অব বিইং রাজেশ খান্না’-য় (Dark Star: The Loneliness of Being Rajesh Khanna)। এই বইতে যেমন রয়েছে তাঁর বলিউড কেরিয়ারের দুর্দান্ত উত্থানের বর্ণনা, তেমনই উঠে এসেছে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের গল্প, যিনি সেলিব্রিটির জৌলুসে বাঁচতেন, কিন্তু সেই জৌলুসের মধ্যেই রয়ে গেছে একাকীত্ব।
এই আত্মজীবনীমূলক বইয়ের এক অংশে জানা গেছে, বিদেশ ভ্রমণের সময় রাজেশ খান্না কেনাকাটি ভালবাসতেন। রাজকীয় আচরণ ছিল তাঁর স্বভাবজাত। বন্ধু, পরিচিতদের জন্য নানা কিছু কিনে আনতেন তিনি। কিন্তু সেই সব উপহার তিনি অনেক সময় কাউকেই দিতেন না। এমনকি কখনও কখনও স্যুটকেস খোলারও প্রয়োজন বোধ করতেন না।
চিন্তামণি লিখেছেন, ২০১২ সালে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পরে বান্দ্রায় তাঁর ‘আশীর্বাদ’ বাংলোয় পাওয়া গিয়েছিল ৬৪টি বন্ধ স্যুটকেস। প্রতিটি স্যুটকেস ছিল বিদেশ থেকে আনা উপহারে ভরা। কিন্তু সেগুলির অধিকাংশই কাউকে দেওয়া হয়নি। কোনওটির প্যাকেটও খোলা হয়নি।
বইয়ে লেখা হয়েছে, 'প্রতিবার বিদেশে যাওয়ার পর তিনি উপহার নিয়ে ফিরতেন। কখনও সেগুলি তিনি যাঁদের জন্য এনেছেন, তাঁদের হাতে তুলে দিতেন, আবার কখনও ভুলে যেতেন। অনেক সময় স্যুটকেস পর্যন্ত খোলার প্রয়োজন মনে করতেন না। তাঁর মৃত্যুর পরে ‘আশীর্বাদ’ বাংলোয় এমন প্রায় ৬৪টি বন্ধ স্যুটকেস খুঁজে পাওয়া যায়। যিনি সবাইকে নিয়ে থাকতে ভালবাসতেন, অতিথি আপ্যায়ন উপভোগ করতেন, এমন একজন মানুষের জন্য এটা একেবারেই অদ্ভুত ঘটনা।'
এই স্যুটকেসগুলি যেন রাজেশ খান্নার নিঃসঙ্গ জীবনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইয়ে আরও বলা হয়েছে, এক সময় তাঁর বাংলোয় বহু মানুষ আনাগোনা করতেন। পুরনো দিনের গল্প বলতেন তিনি, সহ-অভিনেতাদের স্মরণ করতেন, সেইসব মানুষদের কথা বলতেন যাঁরা হয়তো তখন আর জীবিত ছিলেন না। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিও ২০০০ সালের পর অনেক বদলে গিয়েছিল।
চিন্তামণি লেখেন, 'রাজেশ খান্নার নিঃসঙ্গতা কোনও লুকোনো ব্যথা ছিল না। সেটি কেবল তারকাসুলভ খ্যাতির পরিণতিও নয়। বরং তাঁর ভিতরেই বাসা বেঁধেছিল নিঃসঙ্গতা। স্যুটকেসগুলির মতোই তা ছিল অনেকটা খোলা চোখের আড়ালে থাকা বাস্তব।'
সব শেষে লেখক এই স্যুটকেসগুলিকে খান্নার জীবনের প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছেন। 'তাঁর হৃদয়ের স্যুটকেসে যেন তালাবন্ধ ছিল একাকীত্বের আকাঙ্ক্ষা। এই বোধটা বরাবর ছিল তাঁর মধ্যে। কিন্তু বাইরের জগৎ হয় এই তারকার আলোয় অন্ধ ছিল, নয়তো তাঁর ছায়ার গভীরতায় হারিয়ে গিয়েছিল।'
২০১২ সালের ১৮ জুলাই প্রয়াত হন রাজেশ খান্না। তার আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। ২৩ জুন মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ৮ জুলাই তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। তবে আবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। ১৮ জুলাই নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা।