যখনই ভারতীয় সিনেমার ভয়ংকর অথচ স্মরণীয় খলনায়কদের কথা ওঠে, প্রথমেই যার মুখ মনে পড়ে, তিনি অমরীশ পুরী। তাঁর কণ্ঠ, দেহভাষা, চোখের চাহনি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অভিজাত ভয় তৈরি করতেন পর্দায়। এমন অভিনয় প্রতিভা, যিনি নায়কের থেকেও বেশি প্রভাব ফেলতেন দর্শকের মনে।

যখনই ভারতীয় সিনেমার ভয়ংকর অথচ স্মরণীয় খলনায়কদের কথা ওঠে, প্রথমেই যার মুখ মনে পড়ে, তিনি অমরীশ পুরী। তাঁর কণ্ঠ, দেহভাষা, চোখের চাহনি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অভিজাত ভয় তৈরি করতেন পর্দায়। এমন অভিনয় প্রতিভা, যিনি নায়কের থেকেও বেশি প্রভাব ফেলতেন দর্শকের মনে।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যখনই ভারতীয় সিনেমার ভয়ংকর অথচ স্মরণীয় খলনায়কদের কথা ওঠে, প্রথমেই যার মুখ মনে পড়ে, তিনি অমরীশ পুরী। তাঁর কণ্ঠ, দেহভাষা, চোখের চাহনি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অভিজাত ভয় তৈরি করতেন পর্দায়। এমন অভিনয় প্রতিভা, যিনি নায়কের থেকেও বেশি প্রভাব ফেলতেন দর্শকের মনে। খলচরিত্র মানেই নেতিবাচক নয়, বরং কখনও কখনও সিনেমার আসল মেরুদণ্ড—এ কথা অমরীশ পুরীই আমাদের শিখিয়েছেন।
২০০১-এর গদর: এক প্রেম কথা ছবিতে তিনি আশরাফ আলি চরিত্রে এমন এক পিতা, যিনি ধর্মের বিভাজনে নিজের কন্যার প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও তিনি ছিলেন নায়কের বিরুদ্ধে, তাঁর চরিত্রটি গভীরভাবে আবেগঘন ও দ্বিধাগ্রস্ত, যে একদিকে মেয়েকে ভালোবাসে, অন্যদিকে সমাজ-সংস্কারের বেড়াজালে বন্দি। অমরীশ পুরীর অনবদ্য অভিনয় সেই দ্বন্দ্বকে পর্দায় যেন জীবন্ত করে তোলে।

নায়ক: দ্য রিয়েল হিরো ছবিতে তিনি বলরাজ চৌহান, এক দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী—যার চরিত্রে তিনি রাজনীতির রাক্ষসরূপ। অনিল কাপুরের বিপরীতে তাঁর তীক্ষ্ণ সংলাপ, মুখভঙ্গি, আর ক্ষমতার দম্ভপূর্ণ আচরণ দেখে বোঝা যায় কীভাবে এক জননেতা জনগণের শত্রু হয়ে উঠতে পারে। অমরীশ পুরীর মুখে একেকটা সংলাপ যেন ছিল শব্দের আগুন।

আর মিস্টার ইন্ডিয়া ছাড়া তো অমরীশ পুরীর নাম উচ্চারণই অসম্পূর্ণ। ‘মোগ্যাম্বো খুশ হুয়া!’—এই সংলাপ আজও ভারতীয় পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামরিক পোশাক, স্বর্ণখচিত সিংহাসন আর ভয়ঙ্কর হাসি—মোগ্যাম্বো ছিলেন দুনিয়ার শাসনেচ্ছু, কিন্তু তাঁর ক্যারিশমা ছিল যেন শিশুদের কাছেও আকর্ষণীয়। কমিক অথচ বিপজ্জনক, তাঁর মতো খলচরিত্র ভারতীয় সিনেমায় আর নেই।

১৯৯৫-এর কালজয়ী প্রেমকাহিনী দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে-তে চৌধুরি বলদেব সিং চরিত্রে তিনি এক রক্ষণশীল পিতা। যদিও তিনি এখানে পূর্ণাঙ্গ ভিলেন নন, তাঁর অনমনীয় মানসিকতা প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য মূল বাধা হয়ে ওঠে। কিন্তু ছবির শেষে তাঁর পরিবর্তন, তাঁর মেয়ের প্রেম মেনে নেওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর চরিত্র দর্শকদের চোখে জল এনে দিয়েছিল। এই রকম বৈচিত্র্যময় চরিত্রও যে একজন খলনায়ক করতে পারেন, তা তিনি বুঝিয়ে দেন।

করন অর্জুন ছবিতে তিনি ছিলেন ঠাকুর দুর্জন সিং—এক নির্মম জমিদার, যিনি স্বার্থের জন্য নিজের আত্মীয়দের হত্যা করতেও পিছপা হন না। এই চরিত্রে তিনি একাধারে নিষ্ঠুর, অহংকারী এবং অতিমানবিক শক্তির অধিকারী এক জল্লাদ, যাঁর উপস্থিতি পুরো ছবির আবহ বদলে দেয়। তাঁর কণ্ঠ ও দৃষ্টিভঙ্গি যেন দর্শককে বলেই দিত, “এই মানুষটা ভালো কিছু করবে না।”

অমরীশ পুরীর চরিত্ররা কখনো সরল ‘ভিলেন’ ছিল না, বরং প্রতিটি চরিত্রেই ছিল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকের প্রতিফলন। ‘মোগ্যাম্বো’ থেকে ‘বলরাজ চৌহান’, ‘দুর্জন সিং’ থেকে ‘চৌধুরি বলদেব’—সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন যেন আলাদা এক অধ্যায়। শুধু শক্তি আর নিষ্ঠুরতা নয়, তাঁর ভেতরে ছিল শিল্পের গভীরতা—যা তাঁকে বলিউডের খলনায়কদের রাজাসিংহাসনে চিরস্থায়ী করে রেখেছে। আজও নতুন প্রজন্ম যখন কোনো খলচরিত্র দেখে, তখন তার মাপকাঠি হিসেবে প্রথমেই আসে এক নাম—অমরীশ পুরী।