চাহাল ও ধনশ্রী বর্মার বিয়ে হয়েছিল ২০২০ সালে। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। চাহাল জানালেন, তাঁদের দাম্পত্যে সমস্যা শুরু হয়েছিল বিয়ের তৃতীয় বছর থেকে।

চাহাল ও ধনশ্রী
শেষ আপডেট: 1 August 2025 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর বিয়ের খবর পেয়ে যেমন চমকে গেছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও নেটিজেনরা, ডিভোর্সের ক্ষেত্রে তা হয়নি। নৃত্যশিল্পী ধনশ্রীর সঙ্গে আলাদা থাকছিলেন বেশ কিছু বছর ধরে, শেষে ডিভোর্সের পথে হাঁটেন। তাঁদের বিচ্ছেদ হবে, তা সকলেরই জানা ছিল। ডিভোর্সের আগেই অবশ্য নতুন সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয় এবং সব মিলিয়ে একটা হজবরল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এতদিন এনিয়ে কোথাও তেমন কিছু বলেননি চাহাল। কিন্তু সম্প্রতি নেটিজেনদের একাংশ বলতে থাকে, তিনি ঠকিয়েছেন ধনশ্রীকে। আরজে মাহভাষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলেই নাকি স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন ভারতীয় তারকা। স্পষ্ট জানালেন মনের কথা। জীবনের অন্যতম খারাপ সময়, তা কাটিয়ে ওঠা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করলেন এক সাক্ষাৎকারে।
চাহাল ও ধনশ্রী বর্মার বিয়ে হয়েছিল ২০২০ সালে। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। চাহাল জানালেন, তাঁদের দাম্পত্যে সমস্যা শুরু হয়েছিল বিয়ের তৃতীয় বছর থেকে। দু’জনেই চেষ্টা করেছিলেন তা ব্যক্তিগত রাখার। ছিলও বেশ কিছুদিন। ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাসে মানিয়ে নিচ্ছিলেন দুজনে। কিন্তু বিচ্ছেদের সময়ে যখন তাঁকে ‘চিটার’ বা প্রতারক বলা হয়, তখন ভেঙে পড়েন।
চাহালের কথায়, 'ডিভোর্সের সময় যখন মানুষ আমাকে প্রতারক বলতে শুরু করল, সেটা আমি আর মেনে নিতে পারিনি। জীবনে কখনও কাউকে ঠকাইনি। আমার মতো বিশ্বস্ত লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মন থেকে কাছের মানুষদের জন্য ভাবি। কিছু চাই না, শুধু দিই। কিন্তু যখন লোকজন কিছু না জেনেই দোষ দিতে থাকে, তখন নিজেকে নিয়েই নিজের সন্দেহ তৈরি হয়।'
কঠিন সময়ে তিনি চরম মানসিক অবসাদের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার। দিনের পর দিন রাতে ঘুম হত না, কাঁদতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ক্রিকেট খেলতে খেলতেই এই মানসিক টানাপড়েন চলছিল। ফলে একটা সময় আর সামলাতে পারছিলেন না। মানসিক অবসাদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে চাহাল সক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, 'আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আত্মহত্যার কথাও ভাবতাম। ২ ঘণ্টার বেশি ঘুম হত না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এটা প্রায় ৪০-৪৫ দিন চলেছিল। আমি ক্রিকেট থেকে একটা বিরতি চেয়েছিলাম। তখন এতটাই অবস্থা খারাপ ছিল যে খেলায় মন দিতে পারছিলাম না। বন্ধুর সঙ্গে আত্মহত্যার চিন্তা শেয়ার করতাম। ভয় লাগত।'
সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, সম্পর্কে সবসময় সুখী ছিলেন না। মাঝেমধ্যে তাঁকে সুখী হওয়ার ভান করতে হতো। তাঁর মতে, দু’জন উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ একসঙ্গে থাকতে পারে না, কারণ সম্পর্কের জন্য কেউ নিজের কেরিয়ার বা স্বপ্ন ছাড়বে না।
বলেন, 'সম্পর্ক মানেই কিছুটা সমঝোতা। একজন রেগে গেলে অন্যজনকে সেটা মেনে নিতে হয়। অনেক সময় দু’জনের স্বভাব একে অপরের সঙ্গে মেলে না। আমি ভারতের হয়ে খেলতাম, ওঁরও নিজের কেরিয়ার ছিল। দু’জনেই এত ব্যস্ত থাকতাম যে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। তখন মনে হতো, প্রতিদিনই নতুন সমস্যা। আবার ভাবতাম, থাক না। যাঁরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী, তাঁদের নিজেদের জীবন থাকে, নিজস্ব লক্ষ্য থাকে। ১৮-২০ বছর ধরে কেউ একটা কিছুর জন্য লড়ে, সেটা শুধু সম্পর্কে থাকার জন্য ছেড়ে দেওয়া যায় না।'
চাহালের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, খ্যাতি ও সাফল্যের আড়ালেও একজন মানুষের জীবনে যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকতে পারে। বর্তমান সমাজে যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এখনও অনেক সময়েই ট্যাবু, সেখানে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের এই স্বচ্ছ ও খোলামেলা বক্তব্য, তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে লড়াই, খেলার মাঠে ফেরা ও ধীরে ধীরে ভাল থাকতে শেখা, অনেককে অনুপ্রেরণা জোগাবে।