বৃহস্পতিবার পুণেতে হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ম্যাচের একাদশে হঠাৎ করেই চহলের নাম না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

যুজবেন্দ্র চহল (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 18 December 2025 23:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের তারকা লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চহলের (Yuzvendra Chahal) সময়টা যে একেবারেই ভালো যাচ্ছে না, তা আরও একবার স্পষ্ট হল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। মাঠের বাইরেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা ওঠানামার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সামনে এল আরও এক খারাপ খবর, একসঙ্গে দুটি গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন চহল। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় (Dengue- Chikungunya) ভোগার কারণেই সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনালে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। শেষবার তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে দেখা গিয়েছিল গত ৩০ নভেম্বর।
বৃহস্পতিবার পুণেতে হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ম্যাচের একাদশে হঠাৎ করেই চহলের নাম না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আগের কয়েকটি ম্যাচেও তিনি খেলেননি, তবে তখন তাঁর অনুপস্থিতির কারণ প্রকাশ্যে আসেনি। অবশেষে ফাইনালের দিনই নিজের শারীরিক অবস্থার (Chahal health update) কথা জানিয়ে দেন চহল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এই দুই রোগ তাঁর শরীরের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে (Syed Mushtaq Ali Trophy final)। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তাঁকে পুরো বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। পোস্টে চহল লেখেন, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনালের জন্য তিনি তাঁর দল হরিয়ানাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি দলের সঙ্গে মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো শক্তি নিয়ে বোলিং করতে ফিরবেন, এনিয়েও আশাবাদী তিনি।
৩৫ বছর বয়সি এই লেগস্পিনার টুর্নামেন্টের শুরুতে হরিয়ানার (Haryana) স্কোয়াডে ছিলেন। তবে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং আর খেলতে পারেননি। এই তিনটি ম্যাচেও তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না। মোট চারটি উইকেট পেলেও রান খরচ করেছেন বেশ কিছুটা। তারপরও ফাইনালে তাঁর অনুপস্থিতি যে দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল, তা মানছেন অনেকেই।
ফাইনালে ঝাড়খণ্ডের ব্যাটসম্যানরা হরিয়ানার বোলারদের ওপর কার্যত ঝড় তুলে দেন। নির্ধারিত ওভারে তাঁরা ২৬২ রান তুলে ফেলে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, চহলের মতো অভিজ্ঞ স্পিনার থাকলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যেত। মাঝের ওভারে তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতা দলের কাজে আসতে পারত।
সব মিলিয়ে, যুজবেন্দ্র চহলের কাছে এই সময়টা নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবার মাঠে ফিরবেন এবং নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পাবেন।