বাবার মন্তব্যের সঙ্গে কখনও প্রকাশ্যে একমত হননি যুবরাজ। এবারের পডকাস্টে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হল।

যুবি-ধোনি-কপিল
শেষ আপডেট: 2 April 2026 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগরাজ সিং (Yograj Singh) বরাবর বিতর্কিত। কপিল দেবকে নিয়ে, ধোনিকে নিশানা করে আকছার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ছেলে যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh) ঠিক উলটো। কোনও দিন সেভাবে উল্টোপাল্টা কিছু বলে ঝামেলা পাকাননি। বাবার সঙ্গে তিনি একমত? যদি না হন, তাহলে যোগরাজের আলটপকা মন্তব্যে অস্বস্তি হয় না?
এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে এতদিন চুপ ছিলেন। এবার পডকাস্টে মুখ খুললেন যুবি। বললেন, ‘কপিল দেব ও এমএস ধোনির কাছে ক্ষমা চাইতে চাই!’ এই একটি বাক্যেই বুঝিয়ে দিলেন, বাবার সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই একমত নন।
যোগরাজকে কী বলেছিলেন?
পডকাস্টে সরাসরি প্রশ্ন—বাবার ইন্টারভিউ দেখলে খারাপ লাগে? সওয়াল করার সময় যোগরাজের ছবি স্ক্রিনে ছিল। যুবরাজ সেদিকে ইঙ্গিত করে উত্তর দেন—‘বাবাকে বলেছি, এটা ঠিক নয়!’ ব্যস, এটুকুই। এর মধ্যেই অনেক অকথিত বার্তা ছড়িয়ে দেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অলরাউন্ডার।
যোগরাজ কী বলেছিলেন?
যোগরাজ সিং ক্রিকেট মহলে বিতর্কিত নাম। পাঞ্জাবের নামকরা কোচ। কিন্তু মুখে লাগাম নেই। ২০২৫ সালে এক ইউটিউব চ্যানেলে জানালেন, কপিল দেব (Kapil Dev) অকারণে তাঁকে দল থেকে বাদ দেন। আর সেই রাগে পিস্তল নিয়ে অধিনায়কের বাড়িতে চড়াও হন তিনি। বড়সড় কিছু হয়নি। তার কারণ কপিলের মা। স্রেফ তাঁর কথা শুনে, মুখের দিকে তাকিয়ে সে যাত্রা রেহাই পান ভারতের প্রাক্তন দলনেতা।
ধোনিকে (MS Dhoni) নিয়েও একই রকম রুষ্ট যোগরাজ। জানান, অধিনায়কত্বের কায়েমি শক্তিবলে দল ধ্বংস করেছিলেন মাহি। যুবরাজকে কখনও দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি বলেও ক্ষোভ ছিল তাঁর। এই কথাগুলো নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর বিতর্ক ঘনিয়ে ওঠে।
যুবরাজ: দুই বিশ্বকাপের নায়ক
যুবরাজ সিং ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা মুখ। ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ছয় ছক্কা, ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট, তাও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করতে করতে… ক্রিকেটের চিরকালীন রূপকথায় লেখা থাকবে। সেই যুগে সচিন, সেহওয়াগ, ধোনি, জাহিরের পাশাপাশি যুবরাজ ছিলেন খেতাব জয়ের অন্যতম ভরসা। দলনায়ক না হলেও তাঁর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, বাবার মন্তব্যের সঙ্গে কখনও প্রকাশ্যে একমত হননি যুবরাজ। এবারের পডকাস্টে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হল। কপিল ও ধোনির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে বুঝিয়ে দিলেন—ক্রিকেট মাঠে সতীর্থ, অগ্রজ ছিলেন যাঁরা, তাঁদের তিনি অটুট সম্মান করেন।