গত বছরের এই সময়ে, ঢুলের হৃদপিণ্ডে ১৭ মিমি ছিদ্র ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে অস্ত্রোপচার করতে হয়। কিন্তু তিনি কয়েক মাসের মধ্যেই ক্রিকেটে ফিরে আসার সাহসই শুধু দেখাননি, ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।

যশ ঢুল
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স মাত্র ২২। এর মধ্যেই জেতা হয়ে গিয়েছে অধিনায়ক হিসাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি। সঙ্গে আইপিএল চুক্তি, রঞ্জি ট্রফি অভিষেকে জোড়া সেঞ্চুরি। দলীপ ট্রফি অভিষেকে সেঞ্চুরি। ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারা যশ ঢুলের (Yash Dhull) কৃতিত্বের শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় দলের দরজাও দ্রুত খুলে যাবে দিল্লির এই তরুণের কাছে।
কিন্তু এক বছর আগেই যশের কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত। এমন দুঃস্বপ্নই দেখছিলেন দিল্লির এই ব্যাটার। ব্যাট করতে নামলেই হাঁফ ধরে যাচ্ছিল, সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট। ঢুলের মনে হচ্ছিল প্রিয় বাইশ গজে আর হয়তো নামতে পারবেন না।
গত বছরের এই সময়ে, ঢুলের হৃদপিণ্ডে ১৭ মিমি ছিদ্র (17 millimeter hole in heart) ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে অস্ত্রোপচার (Surgery) করতে হয়। কিন্তু তিনি কয়েক মাসের মধ্যেই ক্রিকেটে ফিরে আসার সাহসই শুধু দেখাননি, ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে যশ ধুলের সর্বশেষ পোস্টটি ছিল রহস্যময়। তাতে লেখা আছে, 'এখনও এখানে'। যদিও এর সঠিক অর্থ বোঝা কঠিন। তবে এই দু’টি শব্দ সম্ভবত দিল্লির ব্যাটারের মধ্যে এখন যে স্বস্তির অনুভূতি ছড়িয়ে রয়েছে তা প্রকাশ করে।
অস্ত্রোপচারের এক বছর পর দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে উত্তরাঞ্চলের হয়ে ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ধুল। নিজেই এখন বুঝতে পারছেন, কঠিন সময় তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। উত্তরাঞ্চলকে দলীপের শেষ চারে তুলে ঢুল বলেছেন, “'কঠিন সময় আমাকে নিজের সম্পর্কে, আমার খেলা সম্পর্কে, আমার জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে, কীভাবে উন্নতি করতে হবে। অনেক কিছু ঘটেছে। এখন আমি কেবল আমার খেলা উপভোগ করি, এতে সময় ব্যয় করি এবং এটি আমাকে অনেক আনন্দ দেয়।”
যশ এখন বুঝতে পেরেছেন, উত্থান-পতন তাঁর জীবনের মতোই কেরিয়ারেরও একটি অংশ। তিনি বলেন, “আমাকেও এই ধরণের সমস্যাগুলি সামলাতে হবে। উত্থান-পতন আসতেই থাকবে। আমাকে সেগুলির মোকাবেলা করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। তবে এখন আমি কেবল বর্তমানে বেঁচে থাকতে চাই। আমি অতীত বা ভবিষ্যতের কথা ভাবতে চাই না। আমি কেবল আমার কাছে থাকা সুযোগগুলি কাজে লাগাতে এবং সেগুলি উপভোগ করতে চাই।”
এই ২২ বছর বয়সি খেলোয়াড় সেই কঠিন সময়ে স্নুকার খেলতেন, যা তাঁকে জীবন এবং খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে সাহায্য করেছিল। যশ বলেছেন, “সেই সময় আমি স্নুকার খেলার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করতাম। স্নুকার আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল। আমার মন প্রায়শই এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াত, আমি খুব বেশি মনোযোগ দিতে পারতাম না। স্নুকার আমাকে আরও মনোযোগী করে তুলেছে।”
দলীপ ট্রফি নিয়ে ঢুল বলেছেন, "ঘরোয়া মরশুম শুরুর ঠিক আগে এটি আমাদের জন্য ভাল প্ল্যাটফর্ম। শীর্ষ পেশাদার খেলোয়াড়রা এখানে খেলছেন। এটি আসন্ন মরশুমের জন্য ভাল প্রস্তুতি।" এর আগে ঢুল দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) তাঁর সাদা বলের প্রতিভাও দেখিয়েছিলেন। ডিপিএলে তিনি মাত্র আট ম্যাচে ৮৭ গড়ে এবং ১৬৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৪৩৫ রান করেছিলেন। দিল্লির এই ব্যাটার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফির মতো ঘরোয়া সাদা বলের টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে ডিপিএলের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন।