কুলদীপ যাদবের কোচ কপিল পাণ্ডে দুজনের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন। ইংল্যান্ডে সু্যোগ না পেয়ে তাঁর ছাত্র যদি ‘খোঁচা খাওয়া বাঘ’ হন, তাহলে বরুণ ধারাবাহিকতা দেখাতে ‘ক্ষুধার্ত’-ব্যাখ্যা কপিলের।

বরুণ ও কুলদীপ
শেষ আপডেট: 19 August 2025 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জার্সির রং পালটে গেলে কি ভাগ্যের রেখাও বদলে যায়?
প্রশ্নটা এই মুহূর্তে দুজনের মাথায় আছড়ে পড়ার কথা। একজন শুভমান গিল (Shubhman Gill)। যিনি ইংল্যান্ডে লাল বলের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রান করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক সফরে পিছিয়ে পড়েও ফিরিয়ে এনেছেন সমতা। অথচ মাস ফুরোতে না ফুরোতেই টি-২০ এশিয়া কাপে তাঁর জায়গা না পাওয়া সংক্রান্ত যুক্তি প্রবল হয়ে উঠেছে। হাওয়ার হালচাল দেখে মনে হচ্ছে, টিম ইন্ডিয়ার চূড়ান্ত দলের টিকিট তাঁর হাতে আসবে না।
অন্যজন কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। ইংল্যান্ডে পাঁচটি টেস্টে ড্রেসিং রুমে বসে। সতীর্থদের মাঠে নামতে দেখেছেন। হয় ড্রিঙ্কস পৌঁছে দিতে ছুটে গিয়েছেন, নয়তো কোচের কোনও বিশেষ নির্দেশ জানাতে। তবু বল হাতে ময়দানে দেখা যায়নি কুলদীপকে। এই নিয়ে বিতর্ক উঠেছে বিস্তর। তা সত্ত্বেও টিম ম্যানেজমেন্ট অলরাউন্ডার খেলানোর তত্ত্বে অনড় থাকায় শিকে ছিঁড়েছে রবীন্দ্র জাদেজার। কুলদীপ ব্রাত্য।
অথচ ক্রিকেটের কী মহিমা! ফর্ম্যাট বদলে যেতেই আচমকা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন তিনি। টেস্টে যিনি অবহেলিত, তিনিই কিনা টি-২০ ময়দানে প্রবলভাবে চর্চিত! আওয়াজ উঠেছে, কুলদীপকে এশিয়া কাপে খেলানো হোক। আরবের ময়দান, যা কিনা বরাবর স্পিনসহায়ক, সেখানে তীক্ষ্ম, ধারালো হয়ে উঠতে পারেন এই অভিজ্ঞ চায়মাম্যান।
সওয়াল অমূলক নয়। গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার অন্যতম কাণ্ডারী। পাঁচ ম্যাচে দশ উইকেট। এখনও পর্যন্ত কেরিয়ারে ৪০টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। তুলেছেন ৬৯ উইকেট। দু’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট। তীক্ষ্ম ফ্লিপার, বিষাক্ত স্পিন নিয়ে টার্নিং পিচে বিপজ্জনক। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ময়দানে টি-২০ না খেললেও ওয়ান ডে-তে নামার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা ছাড়া ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের এশিয়া কাপেও জার্সি গায়ে গলিয়েছেন। ফলে কুলদীপের পালে হাওয়া বইছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
আরও একজন এই আবহে হঠাৎ করে চর্চায়। তিনি বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakaravarthy)। রহস্যস্পিনার। আইপিএলে নজর কাড়েন। জাতীয় দলের হয়ে গত বছর অভিষেকের পর প্রত্যাশা পূরণে সফল। বছর তেত্রিশের বরুণের হাতে ন’ধরনের ভেল্কি। টি-২০ ফর্ম্যাটে দু’বার পাঁচ উইকেট তুলেছেন, ওয়ান ডে-তে একবার। সেটাও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্র্যান্ড মঞ্চে। অর্থাৎ, চাপ সামলে বড় পারফরম্যান্স দেখানোর ধক যে তাঁর রয়েছে, সেটা এতদিনে প্রমাণ করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেরিতে এসেছেন ঠিকই, অভিজ্ঞতার ভাঁড়ারও তেমন সমৃদ্ধ নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্মের নিরিখে তাঁকে আবহেলা করাটা নির্বাচকদের পক্ষে বেজায় কঠিন।
এই প্রসঙ্গে কুলদীপ যাদবের কোচ কপিল পাণ্ডে দুজনের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন। ইংল্যান্ডে সু্যোগ না পেয়ে তাঁর ছাত্র যদি ‘খোঁচা খাওয়া বাঘ’ হন, তাহলে বরুণ ধারাবাহিকতা দেখাতে ‘ক্ষুধার্ত’-ব্যাখ্যা কপিলের। বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষরা কুলদীপকে বরাবর ভয় পায়। এখন বরুণকে ভয় পেতে শুরু করেছেন। ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা, তাহলে সেটা স্মরণীয় রাত হতে চলেছে!’ কেন? কপিলের জবাব, ‘কুলদীপ আর বরুণ ওদের ভাবার সুযোগই দেবে না। পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলবে!’
এই জুটিকে মাঠে দেখা যাবে কিনা সেটা জানা যাবে আজ।