একদিকে টুর্নামেন্ট আয়োজন, অন্যদিকে কূটনীতি—দুইয়ের সংঘাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় বোঝা এখন আইসিসি ও জয় শাহর কাঁধে।

জয় শাহ ও মুস্তাফিজুর
শেষ আপডেট: 5 January 2026 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। অথচ তার আগেই প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) আচমকা ভেন্যু বদলের অনুরোধে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council)। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে নতুন করে গোটা টুর্নামেন্টের সূচি সাজানোর কাজ শুরু করতে হয়েছে আইসিসিকে। আর এই অগ্নিপরীক্ষা সামাল দিতে সক্রিয় ভূমিকায় আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)।
জটিলতার সূত্রপাত ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েন থেকে। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (Board of Control for Cricket in India) আচমকাই আইপিএলে (Indian Premier League) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের (Mustafizur Rahman) চুক্তি বাতিল করার নির্দেশ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (Kolkata Knight Riders)। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) প্রকাশ্যে বিষয়টিকে ‘জাতীয় অপমান’ বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর নির্দেশে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়—ভারতে নির্ধারিত বিশ্বকাপ ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) সরিয়ে নেওয়া হয়। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়, ‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা’।
মূল সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায় (Kolkata)—৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির (Italy) বিরুদ্ধে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের (England) বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium), নেপালের (Nepal) বিরুদ্ধে। এখন সেই পুরো পরিকল্পনাই কার্যত বাতিলের মুখে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের (Indian Express) রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসিসি ইতিমধ্যেই বিকল্প সূচি তৈরির কাজ শুরু করেছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক মাস আগে এমন পরিবর্তন মানে ভয়াবহ লজিস্টিক সমস্যা—ভেন্যু বুকিং, হোটেল, নিরাপত্তা, সম্প্রচার সূচি—সবকিছু নতুন করে সাজাতে হবে। শ্রীলঙ্কায় শেষ মুহূর্তে এত বড় আয়োজন সামলানো কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আসিফ নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে কড়া ভাষায় বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও দেশের অপমান আমরা মেনে নেব না। দাসত্বের দিন শেষ।’ তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—যদি কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে খেলতে না পারেন, তাহলে জাতীয় দলও সেখানে নিরাপদ বোধ করবে না। যদিও এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও ক্রিকেটীয় প্রস্তুতি থামায়নি বাংলাদেশ। সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। নেতৃত্বে থাকছেন লিটন কুমার দাস (Litton Kumar Das)। কিন্তু দল ঘোষণা হলেও সওয়াল থেকে যাচ্ছে—এই দল আদৌ কোথায় খেলবে?
সব মিলিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের আগে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে বিশ্বক্রিকেট। একদিকে টুর্নামেন্ট আয়োজন, অন্যদিকে কূটনীতি—দুইয়ের সংঘাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় বোঝা এখন আইসিসি ও জয় শাহর কাঁধে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন কি না, সেটাই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের নজরে।