প্রাক্তন অধিনায়কের বক্তব্য বড় বিতর্কের দরজা খুলে দিল। ভারতীয় ক্রিকেট কি শুধুই ভবিষ্যতের দিকে তাকাবে, নাকি অভিজ্ঞতার শক্তিকে আরও একবার কাজে লাগাবে? উত্তর এখনও অজানা।

ধোনি-বিরাট-রোহিত
শেষ আপডেট: 4 February 2026 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব বেশিদিন নয়৷ মেরেকেটে দেড় দশক আগেও দেশের সবচেয়ে ‘জ্বলন্ত’ প্রশ্ন ছিল: সলমন খান কবে আর কাকে বিয়ে করছেন? ১৫ বছর বাদে সওয়ালের ধারা বদলে গিয়েছে৷ এখন লোকের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন: রোহিত ও বিরাট কি সাতাশের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলবেন?
এমনিতেই সচিন-পরবর্তী ভারতীয় ক্রিকেটের দুই চর্চিত তারকা তাঁরা। ব্যাটে সাফল্য, অধিনায়ক হিসেবেও জিতেছেন অগুনতি খেতাব, সিরিজ৷ কেরিয়ারের গোধূলিতে আচমকাই বদলে গিয়েছে সমীকরণ৷ একদিকে অধিনায়কত্ব হারানো, তারপর দল থেকে বাদ পড়া—রোহিতের ভাগ্য-বিপর্যয়ের পিছুপিছু হেঁটেছে বিরাটের দুর্যোগ৷ যার প্রতিক্রিয়াতেই লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর৷ যৌথ না হলেও প্রায় পিঠোপিঠি সিদ্ধান্ত।
এই সূত্রে আশঙ্কা ঘনিয়েছে বিশ্বকাপে খেলা-না খেলা নিয়ে। কেউ পক্ষে রায় দিয়েছেন, কেউ বিপক্ষে৷ আবার এড়িয়ে যাওয়ার মুখও কম নয়। এতদিন এই নিয়ে রা কাড়েননি যাঁরা, মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) তাঁদের অন্যতম৷ প্রাক্তন অধিনায়ক অবশেষে এতদিনে নীরবতা ভাঙলেন।
বয়স নয়, ধোনির বিচারে আসল মাপকাঠি পারফরম্যান্স
প্রশ্নটা এড়াতে চেয়েছিলেন ধোনি। কিন্তু সঞ্চালকের অনুরোধে শেষমেশ মুখ খুলতে বাধ্য হন। রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)—দু’জনেরই কি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা রয়েছে? পাল্টা প্রশ্নের ছলে ধোনির উত্তর নির্ভেজাল—‘কেন নয়?’ যুক্তিও স্পষ্ট। বয়স কোনও ফ্যাক্টর নয়। পারফরম্যান্স আর ফিটনেসই শেষ কথা। কেউ যদি খেলতে পারে, শরীর যদি সায় দেয় আর মাঠে নামার খিদে যদি থাকে—তাহলে থামাবে কে? ধোনির কথায়, ‘২২ বছর বয়স হলেও যদি ফিট না থাকে, সমস্যা। আবার ৩৮-৩৯ হলেও যদি পারফর্ম করে, তাতে আপত্তির কিছু নেই।’এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত—রোহিত বা বিরাটকে নিয়ে আগাম রায় দেওয়ার কোনও জায়গা নেই।
গম্ভীর–আগরকরের ভাবনার বিপরীতে ধোনির দর্শন
এই বক্তব্য ধোনিকে বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনার বিপরীত মেরুতে দাঁড় করায়। জাতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকার (Ajit Agarkar) ভবিষ্যৎ গড়ার প্রশ্নে বারবার ‘তরুণীকরণে’র কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য—আগামীর দল বানাতে গেলে অভিজ্ঞতার ভার কমাতে হবে। ধোনি এই লাইনে হাঁটতে নারাজ। তাঁর প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা আসে কীভাবে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০–২৫টা ম্যাচ খেললেই কি কেউ ‘পরিণত’ হয়ে যায়? উত্তর: হয়তো না। অভিজ্ঞতা তৈরি হয় বছরের পর বছর চাপের মধ্যে দিয়ে। ধোনির মন্তব্য: ‘২০ বছরের অভিজ্ঞ কাউকে চাইলে, সেটা শুধু সচিন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) ক্ষেত্রেই সম্ভব।’ অর্থাৎ, রোহিত–বিরাটের মতো ক্রিকেটারদের গুরুত্ব শুধু রানের খাতায় নয়, পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতাতেও বিচার করা প্রয়োজন বলে মত মাহির।
শেষ সিদ্ধান্ত কার?
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জায়গায় ধোনির বক্তব্য অন্যদের থেকে আলাদা। তাঁর মতে, কে খেলবে আর কে খেলবে না—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মূলত খেলোয়াড়ের। কেউ যদি মনে করে, সে এখনও দেশের জন্য দিতে পারে, আর নির্বাচকেরা যদি দেখেন পারফরম্যান্সে খামতি নেই—তাহলে বয়সের দোহাই দিয়ে দরজা বন্ধ করা অন্যায়। রোহিত ও বিরাট দু’জনই আপাতত এক ফরম্যাটে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স বলছে, ব্যাট এখনও কথা বলছে… সশব্দে, সজোরে। ধোনির অভিজ্ঞ চোখে রো-কো জুটির জন্য সাতাশের বিশ্বকাপ কোনও ‘অসম্ভব স্বপ্ন’ নয়। তবে শর্ত দুটো—চাই ফিটনেস আর নিয়মিত রান।
সব মিলিয়ে প্রাক্তন অধিনায়কের বক্তব্য বড় বিতর্কের দরজা খুলে দিল। ভারতীয় ক্রিকেট কি শুধুই ভবিষ্যতের দিকে তাকাবে, নাকি অভিজ্ঞতার শক্তিকে আরও একবার কাজে লাগাবে? উত্তর এখনও অজানা। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত—রোহিত ও বিরাটের অধ্যায় শেষ বলে ধরে নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।