গাভাসকরের সারকথা খুব সরল। বিরাটের কাছ থেকে শেখার বিষয় রান নয়, শট নয়—চিন্তাভাবনা। পরিস্থিতি বুঝে খেললে ধারাবাহিকতা আসবেই।

বিরাট ও গাভাসকর
শেষ আপডেট: 19 January 2026 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরাট কোহলি (Virat Kohli) কেন আলাদা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু কভার ড্রাইভ, ফিটনেস বা শতরানের সংখ্যা দেখলে চলবে না। সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) বিষয়টা খুব সোজা করে ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিরাটকে আলাদা করে যে জিনিসটা, সেটা মানসিকতা। পরিস্থিতি বোঝা। প্রত্যাশার ফাঁদে না পড়া।
নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের হার সত্ত্বেও বিরাটের ১২৪ রানের ইনিংস আবার সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। ৩৩৮ রান তাড়া করতে নেমে দল হারলেও, ইনিংসটার গঠন ছিল পাঠ্যবইয়ের মতো। গাভাসকর বলছেন, তরুণ ব্যাটারদের এখানেই শেখার আছে।
ইমেজ নয়, কাজটাই আসল
গাভাসকরের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—বিরাট কোনও ‘ইমেজ’-এ আটকে থাকেন না। অনেক ব্যাটার মনে করেন, তাঁদের একটা নির্দিষ্ট স্টাইল ধরে রাখতে হবে। কেউ ভাবেন, তিনি আগ্রাসী, তাই সবসময় মারতেই হবে। কেউ আবার ভাবেন, তিনি নোঙর, তাই শুরুতে ধীর হওয়াই বাধ্যতামূলক।
বিরাট এই জায়গায় আলাদা। পরিস্থিতি যা দাবি করে, সেটাই করেন। কখনও শুরুতে সময় নেন, কখনও প্রথম দিকেই ফাঁকা জায়গা খুঁজে বাউন্ডারি মারেন। তাঁর মাথায় এটা নেই যে দর্শক বা বিশেষজ্ঞ কী আশা করছেন। মাথায় একটাই প্রশ্ন—এই মুহূর্তে দলের জন্য সবচেয়ে সঠিক শট কোনটা?
গাভাসকরের ভাষায়, এই মানসিক স্বাধীনতাই তাঁকে ধারাবাহিক করে তুলেছে। তরুণদের জন্য বার্তাটাও পরিষ্কার—নিজেকে কোনও লেবেলে আটকে রাখবে না।
রান চেজ মানে শুধু মারধর নয়
ওয়ানডে চেজে বিরাটের দক্ষতা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। কিন্তু গাভাসকর যেটা তুলে ধরেছেন, সেটা হল চেজের ‘গতি’ বোঝার ক্ষমতা। বিরাট জানেন কখন ম্যাচ হাতের বাইরে যেতে পারে, আর কখন ঝুঁকি না নিলেও চলবে।
এই ম্যাচেই দেখা গেছে, অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও তিনি অযথা তাড়াহুড়ো করেননি। স্ট্রাইক ঘুরিয়েছেন। সিঙ্গল-ডাবল নিয়েছেন। পরে সুযোগ পেলে বড় শট খেলেছেন। এটা কোনও ম্যাজিক নয়, এটা হিসেব।
তরুণ ব্যাটারদের সমস্যা অনেক সময় এখানেই—স্কোরবোর্ড দেখে ভয় পেয়ে যান। গাভাসকর বলছেন, বিরাট ভয় পান না। তিনি জানেন, ম্যাচ শেষ হয় শেষ ওভারে।
হাল ছাড়ার প্রশ্ন নেই
গাভাসকরের তৃতীয় পর্যবেক্ষণটা মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হলেও বিরাট শেষ পর্যন্ত লড়ে যান। এই ম্যাচেও সেটাই হয়েছে। শেষদিকে আউট হওয়াটা দুর্ঘটনা—কিন্তু চেষ্টা থামেনি।
এই জায়গায় তরুণ অলরাউন্ডার হর্ষিত রানা (Harshit Rana)-র ইনিংসের কথাও টেনেছেন গাভাসকর। তাঁর মতে, হর্ষিত বুঝেছিলেন তাঁর কাজ কী—নামী ব্যাটারের পাশে দাঁড়িয়ে ভয় না পাওয়া, সুযোগ পেলে মারধর করা। প্রত্যাশার বোঝা না নিয়ে খেলাটাই আসল শিক্ষা।
গাভাসকরের সারকথা খুব সরল। বিরাটের কাছ থেকে শেখার বিষয় রান নয়, শট নয়—চিন্তাভাবনা। পরিস্থিতি বুঝে খেললে ধারাবাহিকতা আসবেই। ইমেজ রক্ষা করতে গেলে ক্রিকেট কঠিন। কাজটা ঠিকঠাক করলে ক্রিকেট আপনাআপনি সহজ হয়ে যায়। এই কারণেই বিরাট কোহলি শুধু বড় নাম নন। তিনি একটা মানসিক মডেল। আর তরুণদের জন্য সেটাই সবচেয়ে বড় পাঠ।