৯ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে তিনি দেখাচ্ছেন—বিশ্বাসটা ভুল ছিল না। কেন গম্ভীর এত গুরুত্ব দেন, সেই উত্তর এবার আরও স্পষ্ট—যোগ্যতা, গতি, স্কিল, আর লং-টার্ম প্রোজেক্ট হিসেবে সম্ভাবনা বিপুল।

সন্দীপ ও হর্ষিত
শেষ আপডেট: 2 December 2025 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতে দল বাছাই নিয়ে বরাবর সমালোচকদের নিশানায় গৌতম গম্ভীর। আর যাঁকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক, তাঁর নাম হর্ষিত রানা (Harshit Rana)। সত্যি কি রানা বারবার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য? আদৌ অলরাউন্ডার তিনি? নাকি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে যে ‘সদ্ভাবে’-র শুরু, তার ক্ষীর খেয়েই চলেছেন তরুণ খেলোয়াড়? এমন অজস্র প্রশ্ন আর সম্ভাবনা আছড়ে পড়েছে। তা সে প্রেস কনফারেন্স হোক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্স!
এই নিয়ে সরাসরি কোনওদিন মুখ খোলেননি গম্ভীর (Gautam Gambhir)। এড়িয়ে গেছেন। অতিসম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রাঁচির মাঠে দুরন্ত ওপেনিং স্পেলে ফের চর্চায় হর্ষিত। আর সেই সূত্রে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতীয় পেসার সন্দীপ শর্মার (Sandeep Sharma) একটি পুরনো পডকাস্টের ক্লিপ। যেখানে তিনি কারণ ভেঙে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন—ঠিক কেন রানা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে এত মূল্যবান প্রোজেক্ট।
সন্দীপের যুক্তি পরিষ্কার—হর্ষিত কোনও আবেগের কারণে দলে নেই। তিনি এমন এক বিরল ‘স্কিলসেটে’র মালিক, যাঁকে সময় দিলে ভারতের ভবিষ্যৎ বোলিং বিভাগ শক্তপোক্ত হবে। তাঁর কথায়, ‘একবার প্রতিভা চিহ্নিত করলে ওকে পরিণত হওয়ার সময় দিতে হয়। হর্ষিত ১৪০-এর উপর গতি তুলতে পারে। লম্বা, শক্তপোক্ত গড়ন—দু’বছর ধরে কাজ করলে দারুণ বোলার হয়ে উঠবে!’
এই মন্তব্য সেই সময় খুব একটা আলোচনায় আসেনি। কিন্তু রাঁচির ম্যাচের পর হঠাৎই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। যে খেলায় প্রথম ওভারেই রানা তুলে নেন রায়ান রিকেলটন (Ryan Rickelton) এবং কুইন্টন ডি কককে (Quinton de Kock)। একদিকে ইনসুইংয়ে বোল্ড, অন্যদিকে সামান্য মুভমেন্টে বাইরে নিয়ে গিয়ে ক্যাচ—দু’ধরনের বলে উইকেট শিকার। পরে সাজঘরে ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ তারকা ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে (Dewald Brevis)। তিনটি ব্রেকথ্রু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়! ৩৫০ রান তুলে ভারত লড়াই জিতে নেয় ১৭ রানে।
এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে সন্দীপের কথা মান্যতা পেয়েছে। ফাস্ট বোলারদের তৈরি করা সবসময়ই এক ধরনের ‘হিসেবি ঝুঁকি’। পাঁচ জনকে নিলে দু’জন সফল হয়, বাকিরা ব্যর্থ। কিন্তু সুযোগ না দিলে কোনও সম্ভাবনাই বিকশিত হবে না। রাঁচির রাত আরও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিল—হর্ষিতকে শুধু কোচ নয়, অধিনায়ক কেএল রাহুল-ও (KL Rahul) ভরসা করছেন। ম্যাচের পর রাহুলের ভাষায় ‘স্পেশাল’… লম্বা, জোরে বল করা, হার্ড লেংথ হিট করা—এমন পেসারের অপেক্ষাতেই নাকি ছিল ভারত।
The difference between someone who played international cricket and someone who is just an internet troll is huge when you ask their opinion about Harshit Rana.
Sandeep Sharma ✅️ https://t.co/Nx9GdwII8c pic.twitter.com/zYp1dIDxze— Abhishek (@vicharabhio) December 1, 2025
যদিও এতে বিতর্ক শেষ হয়নি। অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রাক্তন খেলোয়াড় কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত (K. Srikkanth) তাঁকে ‘গম্ভীরের ইয়েস ম্যান’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কোচ সেই মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উড়িয়ে দেন। আর রানা তখনও নিজের জায়গা প্রমাণে ব্যস্ত। এখন ৯ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে তিনি দেখাচ্ছেন—বিশ্বাসটা ভুল ছিল না। কেন গম্ভীর এত গুরুত্ব দেন, সেই উত্তর এবার আরও স্পষ্ট—যোগ্যতা, গতি, স্কিল, আর লং-টার্ম প্রোজেক্ট হিসেবে সম্ভাবনা বিপুল।