সবকিছুর আড়ালে অদ্ভুত মনস্তত্ত্বের গল্প খুব একটা কানে আসে না। সিরাজের স্বীকারোক্তি তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে শুধু মুখরোচক নয়, শিক্ষণীয়ও হয়ে উঠল।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 6 October 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে আগুনঝরা স্পেল, আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা, আর উইকেট নেওয়ার পর সেই চেনা গর্জন—বোলিং অ্যাকশন থেকে শুরু করে উইকেট শিকারের সেলিব্রেশন—মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj) ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন ভারতের (India) পেস আক্রমণের কাণ্ডারী।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড সিরিজে জসপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। কিন্তু পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিতর্কও। সেই সুবাদেই অ্যান্ডারসন–তেন্ডুলকর ট্রফির (Anderson-Tendulkar Trophy) এক নতুন গল্প সামনে এল। ফাঁস করলেন সিরাজই। জানালেন, গোটা সিরিজে একবারও জো রুটের (Joe Root) সঙ্গে কথা বলেননি তিনি—এমনকি তাকিয়েও দেখেননি! কারণ? সিরাজের কথায়: ‘নিজের আগ্রাসন ধরে রাখতে চেয়েছি!’
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জে’ খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সিরাজ হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি খুব রেগে যাই। কিন্তু উইকেট পেলেই রাগটা কেটে যায়। জো রুটকে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। বিশ্বমানের ব্যাটার। কিন্তু ও যখন আমার মুখোমুখি হয়, কখনও রাগ দেখায় না—সবসময় হেসে থাকে! ওর দিকে তাকালেই আমারও মুখে হাসি চলে আসে। তাই ঠিক করেছিলাম, ইংল্যান্ড সফরে ওর দিকে তাকাব না, কথা বলব না। ও যদি নন-স্ট্রাইকার এন্ডে থেকেও কথা বলতে আসে, আমি অন্য দিকে হাঁটতে চলে যেতাম!’
রুট অবশ্য আগেই মন্তব্য করেছিলেন, সিরাজের আগ্রাসন ‘আংশিক অভিনয়’। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রুট বলেন, ‘ও একজন যোদ্ধা, দারুণ চরিত্র। কিন্তু ওর ওই ‘রাগ’-টা একটু অভিনয় মেশানো। দেখলেই বোঝা যায়, ভেতরে ভীষণ ভালো মানুষ!’
এই কথা এরপর সিরাজের কানে পৌঁছেছে। তবে শুনেও তিনি শান্ত। ঠান্ডা মাথায় বলেন—‘আমি সত্যিই রেগে যাই। একজন ব্যাটার যদি আমাকে চার মারে, মুহূর্তে মাথা গরম! মনে হয়, এটা কীভাবে হল? কিন্তু উইকেট পেলেই সব মুছে যায়!’
সিরাজের দাবি, মাঠে এই ট্রেডমার্ক আগ্রাসনটা শেখা দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইনের (Dale Steyn) থেকে। বলেন, ‘ময়দানের বাইরে আমি একদম শান্ত মানুষ। কিন্তু দেশের হয়ে নামলে অন্য কিছু কাজ করে। তখন আমি শুধু ভাবি—আমার বল কীভাবে আরও ধারালো হবে। স্টেইনকে দেখে শিখেছি, ফাস্ট বোলারের জন্য আগ্রাসন মানে জীবন। কেউ তোমাকে চার মারল, আর তুমি যদি হেসে দাও—তাহলে সেটা ক্রিকেট নয়। কিছু একটা উত্তাপ থাকা চাই!’
সিরাজ আসলে নিজের মতো থাকতে চান—না অভিনয়, না বাড়াবাড়ি। বলেন, ‘অফ দ্য ফিল্ড আমি একদম ফুরফুরে। কিন্তু মাঠে পা রাখলে যুদ্ধ শুরু। নিজের ছন্দ, নিজের আবেগ ধরে রাখার জন্যই আমি রুটের সঙ্গে কোনও কথাই বলিনি। ওর দিকে তাকালে আমার রাগ কেটে যেত, তাই দূরত্ব রাখাই ছিল কৌশল।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরাজের পারফরম্যান্স ছিল ধারাবাহিক। বল হাতে তাঁর স্পেলেই বারবার চাপে পড়েছে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং। কিন্তু সবকিছুর আড়ালে অদ্ভুত মনস্তত্ত্বের গল্প খুব একটা কানে আসে না। সিরাজের স্বীকারোক্তি তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে শুধু মুখরোচক নয়, শিক্ষণীয়ও হয়ে উঠল।