ভারতের প্রথম ইনিংসে জাদেজার একটি ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ-হাতের আঙুলে চোট পান বশির। চোট এতটাই গুরুতর, যে পরে অস্ত্রোপচার করে আঙুলে দুটি পিন বসাতে হয়।

শোয়েব বশির
শেষ আপডেট: 18 August 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বল নয়। বলা উচিত ব্রহ্মাস্ত্র!
ইংল্যান্ড টিমের চোখে লর্ডসের ম্লান বিকেলকে আরও মলিন করে তুলছিলেন দুজন—মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj) ও রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)। টেস্ট জয়ের রাস্তা আস্তে আস্তে আরও জটিল হচ্ছিল। ঐতিহাসিক বিজয় দখলের পথে এগিয়ে চলেছিল টিম ইন্ডিয়া (Team India)।
ঠিক তখনই অধিনায়ক বেন স্টোকস (Ben Stokes) ডেকে নেন তরুণ অফ স্পিনার শোয়েব বশিরকে (Shoaib Bashir)। বাঁ-হাতে চোট, ব্যথায় কাতর। তবু দায়িত্ব বুঝে নিলেন তিনি। আর সেখানেই বদলে গেল খেলার ছবি। আউট করলেন সিরাজকে। ছিনিয়ে আনলেন জয়।
সিরাজকে আউট করা ডেলিভারি আজীবন মনে রাখবেন বশির। বল ব্যাটে লেগে পিচে পড়ল। তারপর ঘুরে গিয়ে সোজা উইকেটে লেগে গড়িয়ে দিল স্টাম্প। সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ড শিবিরে উল্লাস। বছর একুশের বশিরের কথায়, ‘আমি আসলে দেখতে পাইনি বেল পড়েছে কি পড়েনি। আশপাশের প্রতিক্রিয়া দেখে নিশ্চিত হই। তখন শুধুই স্বস্তি। সেই অনুভূতি সারাজীবন মনে থাকবে। ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসের মাঠে ভরা গ্যালারির সামনে এর চেয়ে বড় কিছু হয় না!’
যে বল ম্যাচ জিতিয়েছে, তার আড়ালে কোনও রহস্য রয়েছে? গুরুমন্ত্র জুগিয়েছেন কেউ? বশির জানালেন প্রাক্তন স্পিনার মঈন আলির নাম। দ্বিতীয় টেস্টে (এজবাস্টনে) প্রথমবার ক্যারম বলে সিরাজকে আউট করেন। সেই সাহস জুগিয়েছিলেন মঈন! বশিরের বক্তব্য, ‘এজবাস্টনে প্রথমবার মঈন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়। অনেক কথা হয়। উনি বলেন, ‘ক্যারম বলটা ব্যবহার করো, নিজের ওপর ভরসা রাখো!; ওঁকে ছোট থেকে দেখে আসছি। তাই তাঁর উৎসাহ আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার!’
এরপর প্র্যাকটিস সেশনে নিজেকে আরও শানিত করে তোলেন। তরুণ অফ স্পিনারের কথায়, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরেই ভ্যারিয়েশন অনুশীলন করছিলাম। কিন্তু আত্মবিশ্বাস পাইনি। মঈন যখন ইংল্যান্ডের ক্যাম্পে এলেন, সাহস পেলাম। এজবাস্টনে ধীর গতির ক্যারম বলে সিরাজকে আউট করেছিলাম। তারপর থেকে ওঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি!’
ভারতের প্রথম ইনিংসে জাদেজার একটি ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ-হাতের আঙুলে চোট পান বশির। চোট এতটাই গুরুতর, যে পরে অস্ত্রোপচার করে আঙুলে দুটি পিন বসাতে হয়। সেই চোট সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে তুলে নেন। শুধু তাই নয়, ব্যাট হাতে জোফ্রা আর্চারের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের জন্য ৭ রানও যোগ করেন। নিজের ব্যাটিং নিয়ে বশিরের মন্তব্য, ‘স্ক্যান করার পরই বুঝেছিলাম চোটটা গুরুতর। কিন্তু ঠিক করি, ব্যাট করবই। প্রথম বলে বুমরার বাউন্সার, পরের বলে ইয়র্কার। ব্যথা হচ্ছিল। কিন্তু জানতাম, অন্তত পাঁচ-দশ রানও যদি বাড়ানো যায়, সেটা ম্যাচের ফল পাল্টে দিতে পারে!’
ভারতের লক্ষ্য ছিল ১৯৩ রান। ১১২-এ ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। কিন্তু জাদেজা একা লড়ে যাচ্ছিলেন। প্রথমে বুমরাহ (৫৪ বলে ৫ রান) আর পরে সিরাজকে (২৯ বল টিকে ছিলেন) সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই বশিরের জাদু। বাঁ-হাত ব্যান্ডেজে মোড়া। কিন্তু বল হাতে ঘূর্ণি তুললেন। জো রুটকে সিলি পয়েন্টে এনে চাপ তৈরি করা হয়েছিল। বশিরের ব্যাখ্যা, ‘আমি যতটা সম্ভব স্পিন করতে চেয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো, লেংথ থেকে বলটা হঠাৎ উঠে গেল!’