খেতাব জয় শুধু ট্রফি নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। লর্ডস থেকে ডিওয়াই পাটিল—দুই বল, দুই সময়, এক ইতিহাসের সেতুবন্ধন। এক বল গাভাসকরের হাতে, আরেকটা হরমনপ্রীতের পকেটে—মিলেজুলে ভারতীয় ক্রিকেটের মিলনবিন্দু!
.jpeg.webp)
হরমনপ্রীত ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 6 November 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপজয়ের (Women’s World Cup 2025) পর দৃশ্যটা অমলিন—দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) শেষ ব্যাটার নাদিন ডি ক্লার্কের (Nadine de Klerk) ক্যাচটা ধরামাত্র পকেটে বল পুরে ফেলেছিলেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur)। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে মোদী (Narendra Modi) যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলটা নিজের কাছে রাখলেন কেন?’ একেবারে সরলভাবে উত্তর দিলেন হরমন—‘এটা ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল, স্যার। শেষ ক্যাচটা আমার হাতেই আসবে, ভাবিনি। কিন্তু যখন এল, মনে হল—এটা আমার কাছে থাকা উচিত।’
একটি বল। আর তার মধ্যেই লুকিয়ে ভারতের মেয়েদের ক্রিকেটের ৪২ বছরের অপেক্ষার বীজ! ১৯৮৩ সালে লর্ডসে (Lord’s) বিশ্বকাপ জয়ের পর যেমন সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) ম্যাচ বল নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটান হরমন।
গত ২ নভেম্বর নবি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে (DY Patil Stadium) দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবার মহিলা ওডিআই বিশ্বকাপ জেতে ভারত। শেষ মুহূর্তের ওই ক্যাচেই সাফল্যে সিলমোহর। খেলা শেষ, উল্লাসে মাঠ ভাসছে—এর মধ্যেই দলের অধিনায়ক নিঃশব্দে বলটা পকেটে পুরে ফেলেছিলেন। কারও নজর না পড়লেও ক্যামেরা ধরেছিল ইতিহাসের নবজন্মের প্রতীকী মুহূর্তকে!
মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখার সময় এই নিয়েই মজার কথোপকথন। হরমন আবেগে আপ্লুত। বলেন, ‘আমার জীবনের কষ্ট, পরিশ্রম, ব্যর্থতা—সব যেন এক লহমায় গলে গেল। মনে হল, এই বলটাই আমার পথচলার প্রতীক।’
ফাইনালে (Final) হরমনের নেতৃত্বে ছন্দে ছিল ভারত। শেফালি বর্মাকে (Shafali Verma) হঠাৎ বোলিংয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু করান তিনি—সুনে লুস (Sune Luus) ও মেরিজান ক্যাপের (Marizanne Kapp) উইকেট তুলে নেন শেফালি। ব্যাট হাতে সেই শেফালিরই ৮৭ রান আর দীপ্তি শর্মার (Deepti Sharma) ৫ উইকেট—দলে ভারসাম্য আনে হরমনের সিদ্ধান্ত।
খেতাব জয় শুধু ট্রফি নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। লর্ডস থেকে ডিওয়াই পাটিল—দুই বল, দুই সময়, এক ইতিহাসের সেতুবন্ধন। এক বল গাভাসকরের হাতে, আরেকটা হরমনপ্রীতের পকেটে—মিলেজুলে ভারতীয় ক্রিকেটের মিলনবিন্দু!