অভিষেকেই নায়কোচিত ইনিংস। সঙ্গত কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার। সেই সঙ্গে প্রশ্নের ছলে কুর্নিশ: পাঞ্জাব কিংস কি তাহলে জশ ইংলিসের বিকল্প পেয়ে গেল?

কুপার কনোলি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ায় রাত আড়াইটে। পার্থ, সিডনি গভীর ঘুমে। কিন্তু ঠিক তখনই মুল্লানপুরের মাঠে তাণ্ডব চালাচ্ছেন ২২ বছরের অজি পিঞ্চহিটার কুপার কনোলি (Cooper Connolly)। খেলছেন আইপিএল। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব কিংসের প্রথম ম্যাচ। টানটান লড়াই। উইকেট পড়ছে। চাপ বাড়ছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এই তরুণ ধরে রাখলেন ধৈর্য। আগ্রাসন না খুইয়ে ধীরস্থির মাথায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৭২ রান করে পাঞ্জাবকে জিতিয়ে ছাড়লেন মাঠ। অভিষেকেই নায়কোচিত ইনিংস। সঙ্গত কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার। সেই সঙ্গে প্রশ্নের ছলে কুর্নিশ: পাঞ্জাব কিংস (Punjab Kings) কি তাহলে জশ ইংলিসের বিকল্প পেয়ে গেল?
শ্রেয়স বললেন ‘অলৌকিক’
ম্যাচ শেষে পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার আপ্লুত। বললেন, ‘রশিদ খানের বিরুদ্ধে কনোলি যেভাবে শট খেলল—দেখতে অলৌকিক লাগছিল!’ আফগান স্পিনারকে (Rashid Khan) আইপিএলের অন্যতম বিপজ্জনক বোলার মনে করা হয়—১৩৭ ম্যাচে ঝুলিতে ১৫৯ উইকেট। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে এতটুকু সমীহ জানালেন না কনোলি। ১২ বলে হাঁকালেন ২২ রান। দুটো ছক্কা—দুটোই স্ট্রেট ড্রাইভে… সরাসরি মাঠের মাঝ বরাবর উড়ে গেল। চিরাচরিত অজি আগ্রাসন। ভয়ের এতটুকু লেশ নেই।
প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারও স্তম্ভিত। তাঁর কথায়, ‘উইকেট পড়তে শুরু করল যখন, তখন ও নিজেকে আটকে রাখল। স্বাভাবিক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করে টিমকে গাইড করল—এটা পরিপক্বতার লক্ষণ!’
‘বিবিএল ট্যাক্স’ এড়ালেন কনোলি
বিগ ব্যাশ লিগ থেকে আসা এন্তার অস্ট্রেলিয়ান আইপিএলে এসে হতাশ করেছেন—এই ঘটনা এতটাই নিয়মিত, যে ক্রিকেট মহলে একটা কয়েনেজ তৈরি হয়েছে— ‘বিবিএল ট্যাক্স’। জে রিচার্ডসন, ড’আর্সি শর্ট, ম্যাথু শর্ট—অনেকেই এই ফাঁদে বন্দি। কনোলি কিন্তু সেই জাল এড়ালেন। বিবিএলে পার্থ স্কোর্চার্সের হয়ে ৩৪ ম্যাচে ৭৮৬ রান ও ২৭ উইকেট—সংখ্যাটা ঈর্ষণীয়। এই ফর্ম যে আইপিএলে কাজে লেগেছে, ঠকেনি পাঞ্জাব, সেটা প্রমাণ হল মুল্লানপুরে।
কনোলি এই মুহূর্তে স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে বোলিং করতে পারছেন না। শুধু ব্যাটার হিসেবে দলে থাকার চাপ ছিল। আপাতত সেই চিন্তা উধাও।
শন মার্শের ছায়ায় গড়ে উঠছেন
কনোলির আইডল শন মার্শ—পাঞ্জাব কিংসের কিংবদন্তি। ৭১ ম্যাচে ২৪৭৭ রান। মার্শের ব্যাটিং অনুসরণে বড় হয়েছেন কনোলি, এখনও প্রায় নিয়মিত তাঁর ভিডিও দেখেন। বলেছেন, ‘শনের কাছ থেকে সময় পেলে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলি। ওর টাইমিং, বাউন্ডারি খোঁজার ক্ষমতা—এগুলো নিজের খেলায় আনার চেষ্টা করি!’ কোচ রিকি পন্টিং (Ricky Ponting) বাকিদের মতো আশাবাদী। আগে থেকেই জনিয়েছিলেন, কনোলি দলের ভারসাম্য রক্ষার চাবিকাঠি। ম্যাচে সেটা প্রমাণিত হল। ‘শান্ত থাকো, নিজের খেলা খেলো!’—পন্টিংয়ের এই বার্তা তরুণ ব্যাটার অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, জশ ইংলিস (Josh Inglis) গত মরসুমে পাঞ্জাবের শেষ দিকের ধাক্কা সামলে দিয়েছিলেন। তিনি এবার লখনউয়ে। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই কনোলি জানিয়ে দিলেন—অনুরাগীদের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ওয়ান ডাউনের ‘নতুন জেনারেল’ চলে এসেছে।