আজ ৪৪ বছর বয়সে, হুক্কার সঙ্গে নাম জড়ালেও তাতে তাঁর কেরিয়ারের কণামাত্র ক্ষতি হবে না। ধোনি মানেই বরফশীতল অধিনায়ক। যিনি চাপের উত্তুঙ্গ মুহূর্তেও একের পর এক সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিণতি দেখিয়েছেন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 4 September 2025 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্ধদশক পুরনো এক সাক্ষাৎকারের কয়েকটি লাইন ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তাতেই ঘনিয়েছে বিতর্ক—মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) নাকি খেলোয়াড়দের ঘরে বসে হুক্কা খেতে ভালোবাসতেন! ইরফান পাঠানের (Irfan Pathan) সেই জং ধরা মন্তব্যকে টেনে এনে মিম, জোকস, সমালোচনায় মেতেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই বক্তব্য, এত শত চর্চা কি ধোনির সাফল্য, তাঁর অর্জন আর উত্তরাধিকারের নিরিখে সত্যিই প্রাসঙ্গিক?
সওয়াল উঠছে। তার কারণ, ধোনির খ্যাতি গড়েছে তাঁর বাইশ গজের পারফরম্যান্স। যিনি ভারতকে এনে দিয়েছেন জোড়া বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার গৌরব, তাঁকে আজ ‘হুক্কার ধোঁয়া’ দিয়ে বিচার করাট কি আদৌ সঙ্গত?
ইরফান অবশ্য তখনও নাম না করে বলেছিলেন, ‘আমার কারও ঘরে গিয়ে হুক্কা সাজিয়ে দেওয়ার অভ্যেস নেই। আমি সেটা করিনি!’ সেটাই এখন ‘ধোনির হুক্কা কাহিনি’ হিসেবে নতুন মোড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এই অভিযোগ না নতুন, না অপ্রকাশিত, না এক্সক্লুসিভ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ ইস্যুর খোঁজে। তাই সাদামাটা বক্তব্যকে ফেনিয়ে-ফাঁপিয়ে, রং চড়িয়ে বাজার গরমের চেষ্টা!
ধোনি কী করেছিলেন? হয়তো কিছু খেলোয়াড়কে অন্যদের চেয়ে বেশি ভরসা করেছিলেন। কিন্তু সেটাই তো তাঁর নেতৃত্বের ধরন! চাপ সামলানোর ক্ষমতা, বড় মঞ্চে ম্যাচ জেতানোর কৌশল—এসব বিচার করেই অধিনায়ক তাঁর যোদ্ধা বেছে নেন। আর ধোনির ফলাফলই প্রমাণ করে, তাঁর বাছাইয়ে কোনও ভুল ছিল না।
আজও তিনি তর্কাতীতভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল নেতা। রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকর আর সৌরভ গাঙ্গুলি যখন প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালেন, তখন নির্বাচক দিলীপ বেঙ্গসরকার ধোনির হাতে তুলে দিলেন নেতৃত্ব। অল্পদিনের মধ্যে তিনি তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক… অতঃপর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০১৪-তে টেস্ট থেকে অবসর নিলেন, ২০১৬-তে সাদা বলের নেতৃত্ব ছাড়লেন—যখন দল অভিজ্ঞ, পরিণত অবস্থায়। দুনিয়ার সেরা টিমের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়তে বুক কাঁপে না!
আজ ৪৪ বছর বয়সে, হুক্কার সঙ্গে নাম জড়ালেও তাতে তাঁর কেরিয়ারের কণামাত্র ক্ষতি হবে না। ধোনি মানেই বরফশীতল অধিনায়ক। যিনি চাপের উত্তুঙ্গ মুহূর্তেও একের পর এক সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিণতি দেখিয়েছেন। তাই ক্লাবঘরে কে কী করলেন, সেই ধোঁয়ার আড়ালে ইতিহাসের স্বচ্ছ রেকর্ড, স্পষ্ট পরিসংখ্যান ঢেকে যেতে পারে না। ধোনির আসল উত্তরাধিকার রয়ে যাবে মাঠে, ট্রফিতে, সোনালি স্মৃতিতে আর লাখো সমর্থকের বিশ্বাসে।