বছর দুই বাদে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আসে আরও বড় আঘাত। ২০০৯-এ শ্রীলঙ্কা সফরের পর একদিনের দল থেকে ছিটকে যান।

ইরফান পাঠান
শেষ আপডেট: 15 August 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলকে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরার পরও জায়গা গেল। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ড সফরশেষে বুঝে গেলেন, অধিনায়ক এমএস ধোনির পরিকল্পনায় তিনি আর নেই।
অবসরের পাঁচ বছর বাদে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ইরফান পাঠান। জানালেন, গ্যারি কার্স্টেনের মুখে শোনা এক লাইনের সংক্ষিপ্ত উত্তরই তাঁর কাছে সবকিছু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার করে দেয়।
মাত্র উনিশ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট অভিষেক। দুরন্ত সুইং, গতি আর ধারালো লাইন-লেংথে প্রথম ম্যাচ থেকেই নজর কাড়েন ইরফান। এক বছরের মধ্যে ঢুকে পড়েন ওয়ান ডে দলে। হয়ে ওঠেন সব ফরম্যাটের নির্ভরযোগ্য সদস্য। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম টি–টোয়েন্টি ম্যাচেও জায়গা করে নেন।
কিন্তু বছর দুই বাদে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আসে আরও বড় আঘাত। ২০০৯-এ শ্রীলঙ্কা সফরের পর একদিনের দল থেকে ছিটকে যান। সেই সময়ে টি–টোয়েন্টি-র চেয়ে ওয়ান ডে-র গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। এরপর দীর্ঘ তিন বছর ওই ফরম্যাটে আর ডাক মেলেনি।
ইরফানের কথায়, ‘২০০৯ সালে আমরা নিউজিল্যান্ডে ছিলাম। তার আগে আমি আর ইউসুফ (পাঠান) শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ জেতাই। ২৭–২৮ বলে ৬০ রান দরকার ছিল। সেখান থেকে জয় হাসিল করি। অন্য কেউ এমন অবস্থায় ম্যাচ জেতালে অন্তত এক বছরের মধ্যে বাদ যেত না!’
অথচ সেই সফরে প্রথম তিনটি লড়াইয়েই বেঞ্চে। চতুর্থ ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল। শেষ ম্যাচেও সুযোগ পেলেন না। পাঠানের স্মৃতিচারণ, ‘তখন গ্যারি স্যারকে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি কিছু উন্নতি করার দরকার হয়, বলে দিতে পারেন। আসলে জানতে চাইছিলাম, কারণটা ঠিক কী?’
জবাবে কার্স্টেনের উত্তর শুনে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। ইরফানের কথায়, ‘গ্যারি স্যার বললেন—‘আমার হাতে নেই!’ এটাই ছিল তাঁর হুবহু বক্তব্য। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে কার হাতে? তিনি নিরুত্তর। আমি কিন্তু জানতাম রাশ কার দখলে। প্রথম একাদশ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অধিনায়কেরও থাকে। তখন অধিনায়ক ছিলেন ধোনি। আমি বলব না, সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল কি ভুল। কারণ, প্রত্যেক দলনেতা নিজের মতো টিম চালানোর অধিকারী!’
যদিও গূঢ় কারণ ছাড়া দ্বিতীয় আরেকটি কারণও তুলে ধরেন কার্স্টেন। ইরফানের ভাষায়, ‘তিনি বলেছিলেন, ৭ নম্বরে ব্যাটিং অলরাউন্ডারের কথা। আমার ভাই ইউসুফ ব্যাটিং আর আমি ছিলাম বোলিং অলরাউন্ডার। দু’জনের ধরন আলাদা। অথচ দলে জায়গা একটি। যদিও এখন জিজ্ঞেস করলে সবাই বলবে, দুই ধরনের অলরাউন্ডারই দলে রাখা উচিত!’
২০১২ সালে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু তখন ব্যাপক পালাবদল ঘটে গিয়েছে। উঠে এসেছে নতুন মুখ, সম্ভাবনাময় একের পর এক প্রতিভা। ভুবনেশ্বর কুমার, ইশান্ত শর্মা—প্রত্যেকে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে ফেলেছেন। ফলে চর্চিত কামব্যাক সত্ত্বেও মাত্র ১২টি ওয়ান ডে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান ইরফান পাঠান, ২০২০ সালে ঘোষণা করেন আনুষ্ঠানিক অবসর।