ভারতের প্রথম ১০ ওভারের বোলিংয়ে পাকিস্তান ন’য়ের ওপর গড়ে রান তুলেছিল। সেই অবস্থা সামাল দিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন সূর্যকুমারের ছেলেরা। দলনেতার অকপট স্বীকারোক্তি—‘ড্রিঙ্কস ব্রেকে আমি বলেছিলাম—এখনই খেলা শুরু!’

ঝামেলায় অভিষেক-রউফ
শেষ আপডেট: 22 September 2025 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাত থাকতে মুখ কেন? আরেকটু খুলে বললে, হাতে ব্যাট-বল থাকতে অযথা স্লেজিংয়ের মানে কী?
প্রশ্নটা তুললেন অভিষেক। অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। কাল ওপেনে নেমে একা হাতে পাক বোলারদের কচুকাটা করেছেন। আর সমানে চোখে চোখ রেখে লড়ে গেছেন কখনও হ্যারিস রউফ (Harris Rauf), কখনও শাহিন শাহ আফ্রিদের (Shaheen Shah Afridi) বিরুদ্ধে। ইটের পালটা পাটকেল, ধমকের বদলে চমক ছুড়েছেন। কখনও বাউন্ডারি থেকে বল কুড়িয়ে আনার নির্দেশ, কখনও মুখ বন্ধ রাখতে বলা—ব্যাটের পাশপাশি মুখেও যোগ্য জবাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তরুণ ব্যাটার!
যদিও বিষয়টা যে উপভোগ করেননি, ম্যাচ শেষে মেনে নিয়েছেন অভিষেক। পাশাপাশি জানিয়েছেন, কেন তিনি শুরু থেকেই তেতে যান, কী কারণে পাক বোলারদের সঙ্গে পালটা উত্তর ফিরিয়ে দেন!
এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রোববার ৩৯ বলে ঝড়ো ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। শুভমান গিলের (Shubman Gill) সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতে আসে ১০৫ রান। যার সুবাদে সহজেই ১৭২-এর লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত, হাতে তখনও ছয় উইকেট।
তবে মাঠে শুধু ব্যাটিং পারফরম্যান্স নয়, অভিষেক সমর্থকদের সাবাশি কুড়িয়েছেন তাঁর এক মন্তব্যে। যেখানে খোলাখুলি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ‘অযথা খোঁচানি’ তাঁর একেবারেই ভালো লাগেনি। ব্যাট হাতে আগ্রাসী ভঙ্গিই ছিল পালটা ওষুধ।
ABHISHEK SHARMA CALLS OUT THE UNNECESSARY AGGRESSION:
"The way they were coming at us without any reason, I didn't like it at all, that's why I went after them". pic.twitter.com/FOybxW3ggw— Mufaddal Vohra (@mufaddal_vohra) September 21, 2025
ম্যাচ-শেষের প্রেজেন্টেশনে অভিষেকের গলায় আত্মবিশ্বাসী সুর। বলেছেন, ‘আজ ব্যাপারটা খুব সহজ ছিল। ওরা (পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা) কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের দিকে তেড়ে আসে। যেটা একেবারেই ভালো লাগেনি। একমাত্র এই ব্যাটিং দিয়েই আমি পালটা ওষুধ দিতে পারতাম!’ ওষুধের ডোজ যে ঠিকমতো পড়েছে, ম্যাচ শেষের ফলাফলে তা স্পষ্ট!
মাঠে রউফ (Haris Rauf) আর শাহিন শাহ আফ্রিদির (Shaheen Shah Afridi) সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিষেক আর গিল। তবে ময়দানের যাবতীয় অশান্তিকে রানের ঝড়ে ঢেকে দেন দুই ওপেনার। শুভমানের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং তারও আগে ছেলেবেলায় খেলেছেন। বন্ধুত্বের নিবিড়তা বাইশ গজের তালমিলে ধরা পড়ে। অভিষেকের মতো তিনি কথার লড়াইয়ে মেতে ওঠেন। যে বিষয়টি মেনে নিয়ে বাঁ-হাতি ব্যাটারের মন্তব্য, ‘আমরা স্কুলজীবন থেকে একসঙ্গে খেলছি। একে অপরের সঙ্গ ভীষণ উপভোগ করি। আমরা ভেবেছিলাম পারব। আর আজ সেই দিনটা এল। ও যেমন জবাব দিচ্ছিল, দেখে দারুণ লাগছিল!’
নিজের আগ্রাসী খেলার ব্যাখ্যাও দিলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘টিম আমাকে সমর্থন করে বলেই আমি এইভাবে খেলতে পারি। এই ইচ্ছেটাই দেখাতে চাই। কঠোর পরিশ্রম করছি। যদি দিনটা আমার হয়, টিমকে জেতাবই!’
ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) গলাতেও ঝরে পড়ে অভিষেক-গিল জুটির প্রশংসা। বললেন, ‘ওরা একে অপরের পরিপূরক। একেবারে আগুন আর বরফের মিশেল!’ এ দিন যদিও অপ্রত্যাশিতভাবে হোঁচট খেয়েছেন জসপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah)। চার ওভারে দিয়েছেন দশের বেশি রান। কিন্তু সূর্যকুমার তাতে বিচলিত নন। তাঁর কথায়, ‘এটা একেবারেই স্বাভাবিক। ও তো রোবট নয়। খারাপ দিন আসতেই পারে। তবে শিবম দুবে (Shivam Dube) আমাদের উদ্ধার করেছে!’ মাঠে সুযোগ হাতছাড়া নিয়েও খোঁচা মারলেন অধিনায়ক। হেসে বললেন, ‘চারটে ক্যাচ ফস্কেছে। ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ হয়তো মেল করবেন বিষয়টা নিয়ে!’
ভারতের প্রথম ১০ ওভারের বোলিংয়ে পাকিস্তান ন’য়ের ওপর গড়ে রান তুলেছিল। সেই অবস্থা সামাল দিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন সূর্যকুমারের ছেলেরা। দলনেতার অকপট স্বীকারোক্তি—‘ড্রিঙ্কস ব্রেকে আমি বলেছিলাম—এখনই খেলা শুরু!’
অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আঘা (Salman Ali Agha) মেনে নিয়েছেন, ভারতের পাওয়ারপ্লে (Powerplay) ব্যাটিংই আসল ফ্যাক্টর। যা টানটান ম্যাচ মুঠো থেকে কেড়ে নেয়। বললেন, ‘আমরা নিখুঁত খেলতে পারিনি। ধীরে ধীরে এগচ্ছি। পাওয়ারপ্লে-তেই খেলা হাত ছেড়ে বেরিয়ে গেল। ১৭০–১৮০ ভালো টার্গেট হতে পারত, কিন্তু ওই শুরুর ব্যাটিংটাই সব পার্থক্য গড়ে দেয়!’