অস্ট্রেলিয়ার বোলিং কিংবদন্তি ম্যাকগ্রা-ওয়ার্ন থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ তারকা রুট—সবাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন। যদিও বাকনর প্রসঙ্গে তাঁর ক্লিন সুইপ-ই এখন সমাজমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে।

শচিন ও বাকনর
শেষ আপডেট: 26 August 2025 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে জমানায় ডিআরএস (DRS) ছিল না। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অদ্ভুত, অযৌক্তিক কিংবা ভুল মনে হলে রিভিউ-টিভিউ তো দূর অস্ত, বিক্ষোভ এমনকি বিস্ময়ও প্রকাশ করা যেত না। তাতে শাস্তির ভয় ছিল। রাগে গজগজ করতে করতে বাইশ গজ ছাড়তে হয়েছে অনেককে।
অপর প্রান্তের উইকেটের পেছনে আম্পায়ার স্টিভ বাকনর (Steve Bucknor) দাঁড়িয়ে থাকলে অবধারিতভাবে কপাল পুড়ত যাঁর, উল্টোপাল্টা সিদ্ধান্তে মাথা ঝাঁকিয়ে সাজঘরে পা বাড়াতেন নিশ্চিত, তাঁর নাম শচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। ক্যারিবিয়ান আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার বরাত পেয়েছেন মানেই আজব কোনও সিদ্ধান্তে আউট হবেন। যেন এটাই ভবিতব্য, এতটাই অমোঘ!
ক্রিকেটার-জীবনে এই নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ কোনও মন্তব্য করেননি শচিন। বজায় রেখেছেন সহবত। কিন্তু এবার যখন ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ থাকার দায় নেই, সবকিছু চুকেবুকে গিয়েছে, তখন বাকনারকে নিয়ে মতামত জানালেন তিনি। যদিও সেটা ভব্যতা বজায় রেখে, রসিকতা মিশিয়ে। রেডিটের (Reddit) এক ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে (Ask Me Anything Session) এক ভক্তের প্রশ্ন ছিল: বাকনারকে নিয়ে কিছু বলুন। জবাবে স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় মাত্র একটি বাক্যে মন্তব্য করলেন শচিন। বললেন, ‘যখন আমি ব্যাট করছি, দয়া করে তাঁকে বক্সিং গ্লাভস পরতে দিও (যাতে আঙুল তুলতে না পারেন)!’
শুধু বাকনার নন, আরও অনেক প্রসঙ্গে অকপট মেজাজে ধরা দেন শচিন। প্রশ্ন উঠেছিল, কখনও কি ইচ্ছে করে ভুল শট খেলে কোনও বোলারের ছন্দ ভাঙার চেষ্টা করেছেন? শচিনের উত্তর, ‘হ্যাঁ, অনেকবার। যেটা মনে পড়ছে সেটা ২০০০ সালে নাইরোবিতে ম্যাকগ্রার বিরুদ্ধে!’ সেটা ছিল আইসিসি নকআউট ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ৬৬ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছিলেন শচিন। ৩৭ বলে ৩৮ রান করেন। দুই বাউন্ডারির পাশাপাশি মেরেছিলেন তিনটি ছক্কা—সবকটা ম্যাকগ্রার বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ভারত ম্যাচ জেতে ২০ রানে। সেই জয়ের নায়ক ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার নামা যুবরাজ সিং। ৮০ বলে দুরন্ত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন।
এরপর এক ভক্ত জানতে চান, জো রুটকে নিয়ে তাঁর শুরুয়াতি ধারণা কেমন ছিল? শচিন জবাব দেন, ’১৩ হাজার টেস্ট রান পার করা এক অসাধারণ সাফল্য। এখনও তিনি দুর্দান্ত খেলে চলেছেন। ২০১২ সালে নাগপুরে যখন টেস্ট অভিষেক হল, আমি তখনই সতীর্থদের বলেছিলাম, তোমরা ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অধিনায়ককে দেখছ। সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল ওর উইকেট বুঝে খেলার ক্ষমতা আর স্ট্রাইক রোটেশনের দক্ষতা। তখনই জানতাম, ও বড় মাপের ক্রিকেটার হতে চলেছে!’
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং কিংবদন্তি ম্যাকগ্রা-ওয়ার্ন থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ তারকা রুট—সবাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন। যদিও বাকনর প্রসঙ্গে তাঁর ক্লিন সুইপ-ই এখন সমাজমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে। বক্সিং গ্লাভস পরানো হলে বিতর্কিত ‘আউট’থেকে রেহাই পেতেন আর রেকর্ডের তালিকাও কিছুটা বাড়ত! রসিকতার আড়ালে প্রচ্ছন্ন বিষাদকে আড়াল করতে পারলেন না শচিন।