ম্যাচের আগে মানসিক যুদ্ধ শুরু। পাকিস্তানের সামনে প্রশ্ন একটাই—পুরনো ভূত কি আবার ফিরে আসবে? যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা কিন্তু পরিষ্কার—‘চাপটা তোমাদেরই, আমাদের নয়।’

টিম আমেরিকা
শেষ আপডেট: 10 February 2026 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান। টি–২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) গ্রুপ–এ ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে। কারণ একটাই—২০২৪ বিশ্বকাপে সেই অবিশ্বাস্য রাত! সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয় আমেরিকা (USA)। সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরেই গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গিয়েছিল বাবর আজমের দল। এক বছর পর রিম্যাচ। আর সেই লড়াইয়ের আগের দিনই পুরনো ক্ষতটা খুঁচিয়ে দিলেন মার্কিন অলরাউন্ডার মহম্মদ মহসিন (Mohammad Mohsin)। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—‘আমরা আগেও জিতেছি। চাপ আমাদের নয়, ওদের উপর!'
‘হারানোর কিছু নেই, চাপ পুরো পাকিস্তানের’
ম্যাচের আগের সাংবাদিক সম্মেলনে পাকিস্তানকে নিয়ে একটুও রাখঢাক করেননি মহম্মদ মহসিন (Mohammad Mohsin)। বক্তব্য, আগের বিশ্বকাপের জয়টাই এখন তাঁদের বড় আত্মবিশ্বাস। ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে আমরা যা যা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম, সেগুলো নিয়েই আলোচনা করেছি। কারণ আমরা ওদের একবার হারিয়েছি। তাই চাপটা পুরোপুরি পাকিস্তানের উপর। এই বিশ্বকাপে হারানোর কিছু নেই। আমরা শুধু আমাদের যাত্রাটা উপভোগ করছি!’ সাফ বললেন মহসিন।
নতুন অধিনায়ক সলমন আলি আঘার (Salman Ali Agha) নেতৃত্বে খেলছে পাকিস্তান। কিন্তু নাম পাল্টালেও স্মৃতি বদলায় না। ২০২৪ বিশ্বকাপের সেই লজ্জাজনক বিদায় এখনও পাকিস্তান ক্রিকেটের স্মৃতিতে লেপ্টে রয়েছে। সেই জায়গাটাকেই মানসিক অস্ত্র বানাতে চাইছে আমেরিকা।
পাকিস্তানের জয়ের আড়ালে প্রশ্ন
টুর্নামেন্ট অভিযান পাকিস্তান শুরু করেছে নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) বিরুদ্ধে জয় দিয়ে। কিন্তু সেই ফলাফল যতটা সহজ, বাস্তবে ততটা ছিল না। ১৪৮ রানের লক্ষ্যে নামা পাকিস্তান মিডল ওভারে হঠাৎ ধসে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ফাহিম আশরাফের (Faheem Ashraf) ঝোড়ো ইনিংসেই কোনওমতে তিন উইকেটে ম্যাচ জেতে তারা। মহম্মদ মহসিনের (Mohammad Mohsin) কথায়, ‘ওই ম্যাচে পাকিস্তানকে খুব একটা স্বচ্ছন্দ দেখায়নি। মাঝের ওভারগুলোয় চাপ পড়লেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’
উল্লেখযোগ্য বিষয়, শেষ ওভারে ম্যাক্স ও’ডাউডের (Max O'Dowd) ক্যাচ ফসকে না গেলে ফল অন্যরকমও হতে পারত। অর্থাৎ, পাকিস্তানের জয় যতটা আত্মবিশ্বাস জোগানোর কথা, তার চেয়ে বেশি প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
আগের চেয়ে শক্তিশালী আমেরিকা, আত্মবিশ্বাস আকাশছোঁয়া
শুধু মুখের কথা নয়। মাঠের পারফরম্যান্সেও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের (India) বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হারলেও সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) দলকে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছিল তারা। এক সময় ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৭৭/৬। শেষ পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়া ১৬১ তুললেও লড়াই সহজ ছিল না। এই প্রসঙ্গে মহসিনের বক্তব্য, ‘আমরা আগেরবারের তুলনায় অনেক বেশি স্কিলফুল দল। ব্যাটিং আমাদের শক্তি, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ আমাদের বোলিং ইউনিটকে ভীষণ আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।’
অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের (Monank Patel) নেতৃত্বে এই মার্কিন দলটা যে আর নিছক ‘অ্যাসোসিয়েট’ তকমায় আটকে নেই, সেটাও স্পষ্ট। মহসিনের মন্তব্য, ‘আগের বিশ্বকাপের জয়ের আত্মবিশ্বাসটা আমরা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। এবার হয়তো আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী আমরা।’
সব মিলিয়ে, ম্যাচের আগে মানসিক যুদ্ধ শুরু। পাকিস্তানের সামনে প্রশ্ন একটাই—পুরনো ভূত কি আবার ফিরে আসবে? যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা কিন্তু পরিষ্কার—‘চাপটা তোমাদেরই, আমাদের নয়।’