আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর ভারতে বসছে পুরুষদের বিশ্বকাপ। এই আয়োজন নিয়ে আশাবাদী গুকেশ।

গুকেশ ও দিব্যা
শেষ আপডেট: 4 August 2025 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় দাবায় এখন স্বর্ণযুগ। একসঙ্গে একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ দাবাড়ু উঠে এসেছেন, যা আগে কখনও, কোনওদিন দেখা যায়নি। আর এই উদীয়মান তারকাদের তালিকায় সাম্প্রতিকতম সংযোজন দিব্যা দেশমুখ। একমাস আগেও যাঁর নাম হাতেগোনা জনতা জানত, এখন দেশের ঘরে-ঘরে নাগপুরের অষ্টাদশীর বন্দনা। গ্র্যান্ডমাস্টার না হয়েই যিনি দুনিয়ার তাবড় দাবাড়ুদের কিস্তিমাত দিয়ে ফিডে মহিলা দাবা বিশ্বকাপ জিতেছেন। ফাইনালে পরাস্ত করেছেন ভারতেরই কোনেরু হাম্পিকে। পোড়খাওয়া প্রতিপক্ষ। সদ্য মহিলা র্যাপিড বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছেন। তবু বিন্দুমাত্র সমীহ না করে টাইব্রেকার পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চিপে লড়ার পর লড়াইয়ের অন্তিম ধাপে স্নায়ুযুদ্ধে ছিনিয়ে নেন সেরার শিরোপা!
গত ডিসেম্বরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডি. গুকেশ। বারবার পরাজিত করেছেন বিশ্বের পয়লা নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনকে। শুধু গুকেশ নন, প্রজ্ঞানন্দের মতো প্রতিভারাও দাপট দেখাচ্ছেন। কারও বয়স আঠারো, কেউ পা রেখেছেন উনিশে। এবার সেই ধারাবাহিকতাকে আরও কিছুটা উজ্জ্বল করলেন দিব্যা। দেশের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে নাগপুরের বছর আঠারোর কিশোরী জিতে নিলেন মহিলা বিশ্বকাপ। একইভাবে ফাইনালে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিশ্চিত করে ফেললেন পরের বছর ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতাও।
প্রধানমন্ত্রীর তরফে শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে। ঘরের মেয়েকে সাদরে বরণ করে নিয়েছে নাগপুরের জনতা। দিব্যার এই কৃতিত্বে এবার উচ্ছ্বাস জানালেন গুকেশও। একদা একই গুরুকুলে দাবাশিক্ষা। সে অর্থে দিব্যা তাঁর সতীর্থ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্মৃতিতে ডুব দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমরা দু’জনেই প্রায় একসঙ্গে বড় হয়েছি। আট-নয় বছর বয়স থেকেই টুর্নামেন্ট খেলেছি। ও যেভাবে বিশ্বকাপ জিতল, তা সত্যি অনুপ্রেরণাদায়ক। এই প্রতিযোগিতা জেতা সহজ নয়। টানা এক মাস খেলতে হয়। আমি নিজে দু’বার বিশ্বকাপে খেলেছি। তাই জানি, জেতা কতটা কঠিন!’
গুকেশ আরও বলেন, ‘দিব্যা আর হাম্পি দু’জনেই অসাধারণ খেলেছে। পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই ভালো ফল আসাটা ভারতীয় দাবার জন্য খুব জরুরি।’
আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর ভারতে বসছে পুরুষদের বিশ্বকাপ। এই আয়োজন নিয়ে আশাবাদী গুকেশ। তাঁর কথায়, ‘নিশ্চয়ই খেলব। ভীষণ রোমাঞ্চিত আমি। বিশ্বকাপ নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। দাবায় নকআউট প্রতিযোগিতা খুব কম হয়। তা ছাড়া এটা সবচেয়ে বড় নকআউট টুর্নামেন্ট। ২০২২ সালের দাবা অলিম্পিয়াডের পর দেশে আবার বড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে, এটা ভারতীয় দাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ!’