চ্যাপেল একটু বেশিই আগ্রাসী ছিলেন। তিনি যে কাউকেই বলে দিতে পারতেন, পারফর্ম করতে না পারলে বসিয়ে দেওয়া হবে।

ইরফান পাঠান ও গ্রেগ চ্যাপেল
শেষ আপডেট: 18 August 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক অজানা কাহিনি প্রকাশ্যে আনছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইরফান পাঠান। ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। বাঁহাতি এই পেসারের সুইংয়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়তেন বাঘা বাঘা ব্যাটাররা (Irfan Pathan)। কিন্তু প্রতিভা অনুযায়ী তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার দীর্ঘায়িত হয়নি। দু’দিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, ২০০৯ সালে তিনি বাদ পড়েছিলেন তৎকালীন জাতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি চাননি বলেই।
এবার পাঠান তোপ দাগলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের (Greg Chappel) বিরুদ্ধে। অনেকেই বলে থাকেন, প্রাক্তন এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের হাতে পড়ার পরই ইরফান পাঠানের হাত থেকে বেরিয়ে আসত রামধনুর মতো বাঁকানো বিষাক্ত সুইং। পাশাপাশি চ্যাপেল জমানাতেই ব্যাটিংয়ে প্রভূত উন্নতি করে হয়ে উঠেছিলেন আদর্শ অলরাউন্ডার। তবে পাঠান এবার চ্যাপেলের আমলের কালো অধ্যায় প্রকাশ্যে এনেছেন।
লালনটপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঠান বলেছেন, সিনিয়র ও জুনিয়র ক্রিকেটারদের সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে চ্যাপেলের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। সবাইকে একই চোখে দেখতেন। সিনিয়র ক্রিকেটারদের কখনওই আলাদা গুরুত্ব দিতেন না। ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, “চ্যাপেল একটু বেশিই আগ্রাসী ছিলেন। তিনি যে কাউকেই বলে দিতে পারতেন, পারফর্ম করতে না পারলে বসিয়ে দেওয়া হবে। আর এটা তিনি সবার সামনেই বলতেন। আমার মনে হতো, এটা কিছুটা বাড়াবাড়ি ছিল।”
ইরফান পাঠান এই প্রসঙ্গে একবার চ্যাপেলের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। পাঠান এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি তাঁকে বলেছিলাম, বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপনার মনোভাব আমরা জেনে গিয়েছি। এর ফলে ক্রিকেটাররা কিন্তু নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে। এরপর তিনি আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন, কিছুটা হয়তো বিরক্তও হয়েছিলেন। তবে, পরে বুঝতে পেরেছিলেন, আমিই ঠিক ছিলাম।”
ইরফানের মতে চ্যাপেল ভারতীয় সংস্কৃতিকে (Indian Culture) সম্মান করতেন না। তিনি ভারতীয় দলের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি ঢোকাতে চেয়েছিলেন। যা কখনওই সম্ভব নয়। পাঠান বলেন, “আমি যদি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা বা ইংল্যান্ডে কোচিং করাতে যাই এবং তাদের সংস্কৃতি মেনে না চলি, তবে কি তারা আমাকে গ্রহণ করবে? তাঁর (চ্যাপেল) উদ্দেশ্য হয়তো সঠিক ছিল। তিনি চেয়েছিলেন আমরা হার্ড ক্রিকেট খেলি। কিন্তু ক্রিকেটারররা কে কোন পটভূমি থেকে এসেছে, সে সব নিয়ে তিনি কোনও পরোয়াই করতেন না।”
এই প্রসঙ্গে ইরফান পাঠান তাঁর কাউন্টি খেলার প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ সেরা এই ক্রিকেটার বলেন, “আমি যখন মিডলসেক্স কাউন্টির হয়ে খেলতাম, তখন ম্যাচের চারদিন শেষ হওয়ার পর পঞ্চম দিন মাঠে নামার আগে একটি পানশালায় জড়ো হতাম। আমি মদ্যপান না করলেও তাদের সংস্কৃতি মেনে নিয়েছিলাম। তুমি দলের একটা অংশ, তোমাকে মিশে যেতেই হবে। চ্যাপেল যদি সেটা করতেন, তবে তিনি সেরা কোচ হয়ে উঠতে পারতেন।”