ত্রিশতরান করেও বাদ পড়ার সময় করুণ ছিলেন ছাব্বিশ বছরের তরুণ। এখন বয়স দাঁড়িয়েছে তেত্রিশে। হাল ছাড়েননি। ময়দান? উঁহু, সেটাও নয়। শুধু ক্রিকেট-দেবতার কাছে দ্বিতীয় সুযোগের আর্জি রেখেছিলেন। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।

করুণ নায়ার
শেষ আপডেট: 26 May 2025 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতীক্ষাপূরণের স্বাদ সবসময় মিঠে। আর বঞ্চনায় ভরা প্রতীক্ষা মেটার স্বাদ? এর উত্তর বোধ হয় সবচেয়ে ভাল জানেন করুণ নায়ার (Karun Nair)।
কেন জানবেন না? সাত বছর বাদে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন। ত্রিশতরান করেছিলেন যে সিরিজে, সেই সিরিজ খতম হতেই জায়গা ছেড়ে দিতে হয় অজিঙ্কা রাহানেকে (Ajinkya Rahane)। নাইট অধিনায়কের কুর্সিতেই তো দলে আসা! তারপর মাস যায়, বছর ঘোরে। না টেস্ট টিম, না টি-২০ টিম—কোথাও জায়গা জোটেনি!
জায়গা জুটল সাত বছর বাদে। আর ইতিহাসের কী অমোঘ বিধান! যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের বাইরে যান, কামব্যাক করছেন সেই ইংল্যান্ডেরই বিরুদ্ধে (England Series)। ফারাক একটাই। ২০১৭ সালে নেমেছিলেন ঘরের মাঠে। এবার পরীক্ষা বিদেশের জমিতে। জলহাওয়া আলাদা। চালেঞ্জ আলাদা। সময় বদলে গিয়েছে। সতীর্থদের মুখ? তাও গিয়েছে পালটে। কিন্তু এখনও আগের মতো করুণ নায়ার। আগের মতোই লক্ষ্যে অবিচল, আগের মতোই পারফরম্যান্সে প্রতিস্পর্ধী, স্বভাবে বিনয়ী।
আর এই বিরোধাভাস ফুটে উঠল করুণের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায়। দলে ফিরে কেমন লাগছে? সাংবাদিকদের প্রশ্নটা ছিল ছকে বাঁধা। জবাবে বিদর্ভের হয়ে ঘরোয়া মরশুমে মুঠো মুঠো রান কুড়োনো করুণ যা বললেন, তা আসলে তাঁর আকাঁড়া স্বভাবেরই প্রতিধ্বনি। এতটুকু খাদ নেই, নেই সিকি ভাগ ভেজাল। মনের কথাই ভাগ করে নিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন ‘কামব্যাক কিং’। অকপট স্বীকারোক্তির ঢঙে জবাব দিলেন, ‘ফিরে আসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আনন্দিত, গর্বিত ও ভাগ্যবান। আর পাঁচজনের মতোই দলে জায়গা পাওয়ার খবর জেনেছি। ডাক পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। অনেক কাছের মানুষ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন।‘
কোনও তোষামোদ নেই। পিআরের দাপাদাপি নেই। নেই নিজের বঞ্চনার কথা রাষ্ট্র করে বেরানোর ইচ্ছেও। সাত বছর ধরে করুণের শপথমন্ত্র শুধু একটাই শব্দ—পরিশ্রম, পরিশ্রম… আরও পরিশ্রম! নিংড়ে দিয়েছেন। নিজের রাজ্য মুখ ফিরিয়েছে। বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্যের হয়ে নেমেছেন। কিন্তু কখনও এতটুকু আওয়াজ তোলেননি। বদলে সরব হয়েছেন ব্যাটে। যার ফসল এবারের ঘরোয়া ক্রিকেটের রেকর্ড বুকে ধরা। রঞ্জিতে ৮৬৩ রান, চারখানা সেঞ্চুরি। বিজয় হাজারে ট্রফিতে পাঁচটি শতরান সমেত তুলেছেন ৭৭৯ রান। লাল বলের ক্রিকেটে প্রশ্নাতীত দক্ষতা নির্বাচকদের সামনে মেলে ধরেছেন করুণ। তাঁকে এবারও দলে না নিলে শুধু যে বঞ্চনার আরেক অধ্যায় লেখা হত তাই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটও তার কৌলীন্য ও যৌক্তিকতা হারাত।
প্রস্তুতি নিয়ে তিনি নিজে কী বলছেন? করুণের কথায়, ‘আমি সত্যি খুশি ও গর্বিত। গত ১২ মাস, ১৬ মাস ধরে তো এরই জন্য অপেক্ষা করে গিয়েছি। যেভাবে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে অনুশীলন করেছি, এবার সময় তাকে একইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার!’
ত্রিশতরান করেও বাদ পড়ার সময় করুণ ছিলেন ছাব্বিশ বছরের তরুণ। এখন বয়স দাঁড়িয়েছে তেত্রিশে। হাল ছাড়েননি। ময়দান? উঁহু, সেটাও নয়। শুধু ক্রিকেট-দেবতার কাছে দ্বিতীয় সুযোগের আর্জি রেখেছিলেন। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজের ক্লাসের জাদু ছড়িয়ে দিতে পারবেন ‘একলব্য’ করুণ? পারবেন হাল-না-ছাড়া, হেরে যাওয়ার আগে শেষ দেখতে চাওয়া লাখো মানুষদের মান রাখতে?
উত্তরটা জানা যাবে জুন মাসে।