কোহলির সঙ্গে তুলনার বোঝা বয়ে চলা বাবরের পারফরম্যান্সে এর স্পষ্ট ছাপ পড়েছে। শুধু ফর্ম নয়, জায়গাও হারিয়েছেন। টি২০ দলে আপাতত তাঁর নাম নেই।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 August 2025 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যতদিন নিজের মেজাজে খেলেছেন, চাপমুক্ত ছিলেন। যবে থেকে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) সঙ্গে তাঁর তুলনা শুরু হল, তবে থেকেই অধঃপাতে বাবর আজম (Babar Azam)। পাকিস্তান দলের প্রাক্তন ওপেনার আহমেদ শেহজাদ (Ahmed Shehzad) সরাসরি জানিয়েছেন, কোহলির সঙ্গে অযথা বিচার করাই বাবর আজমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই তুলনা বাবরের উপর তৈরি করেছে অস্বাভাবিক চাপ। যার নিট ফল ধারাবাহিক ব্যর্থতা।
গত দু’বছর ধরে একটানা ব্যাটে যেন রান নেই বাবরের। শেষ শতরান এসেছিল ২০২৩ সালের এশিয়া কাপে, নেপালের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচে ১৩১ বলে করেছিলেন ১৫১। তারপর থেকে সব মিলিয়ে ৭২ ইনিংসে সেঞ্চুরির খরা। এই সময় তিনি করেছেন ২১৩৯ রান, গড় ৩১.৪৫। এসেছে ১৮টি অর্ধশতরান। টেস্টে অবস্থা আরও খারাপ। শেষ সেঞ্চুরি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তারপর ২৫ ইনিংসে ৫৯০ রান, গড় মাত্র ২৩.৬০।
শেহজাদ পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমকে এই ইস্যু নিয়ে বলেন, ‘যখন সব ঠিকঠাক চলছিল, তখন খেলোয়াড়দের তুলনা করে প্রচার চালানো হয়। এখন পারফরম্যান্স নেই, তাই বলা হচ্ছে—‘দুই খেলোয়াড়ের এভাবে বিচার কোরো না!’ কেন নয়? বিরাট কোহলির সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। তিনি এই প্রজন্মের কিংবদন্তি, রোল মডেল। এমএস ধোনির সঙ্গেও তাঁকে একাসনে বসানো চলে না। ধোনি হয়তো দুর্দান্ত অধিনায়ক। কিন্তু ব্যাটার, ক্রিকেটার, অ্যাথলিট হিসেবে কোহলি একেবারেই অনন্য। কারও সঙ্গে কারও তুলনা করা উচিত নয়, কারণ এটা অন্যায় এবং অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। বাবরের ক্ষেত্রেই আমরা এখন সেটা দেখছি!’
কোহলির সঙ্গে তুলনার বোঝা বয়ে চলা বাবরের পারফরম্যান্সে এর স্পষ্ট ছাপ পড়েছে। শুধু ফর্ম নয়, জায়গাও হারিয়েছেন। টি২০ দলে আপাতত তাঁর নাম নেই। চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি২০-তে করেছেন মাত্র ০ ও ৯ রান। ২০২২ সালে আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতার পর থেকে বাবরের কেরিয়ার নিম্নমুখী। এখন এশিয়া কাপের আগে তিনি মরিয়া হয়ে ফিরতে চাইছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন—সব ঠিকঠাক থাকলে হয়তো সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটেও তাঁর প্রত্যাবর্তন দেখা যেতে পারে।