শুধুমাত্র আবেগঘন বার্তায় দায়বদ্ধতা শেষ হয় না। প্রশ্ন থাকবেই—ভিড় নিয়ন্ত্রণে এত বড় ফাঁক রইল কেন? সমর্থকদের নিরাপত্তা কী কারণে অগ্রাধিকার পেল না?

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 3 September 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪ জুন। বেঙ্গালুরুর মাঠ হয়ে উঠতে পারত উৎসবের মঞ্চ। সবে বহু প্রতীক্ষিত আইপিএল ট্রফি প্রথমবারের জন্য জিতেছে আরসিবি। সেই উপলক্ষ্যেই জয়ী টিমের বিরাট সমাবেশ! বিরাট–ফাফদের হাতে শিরোপা, শহরজুড়ে উল্লাস। কিন্তু ভিড় সামলাতে ব্যর্থ আয়োজকদের উদাসীনতায় নিয়ন্ত্রণহীন হুড়োহুড়ির জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই উৎসব ভেসে গেল রক্তে-কান্নায়। জয়ধ্বনির বদলে আর্তনাদ-চিৎকারে। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন বহু সমর্থক। আনন্দের রাত এক লহমায় শোকের কালরাত্রি!
এরপর কেটে গেছে তিন মাস। কিছু বলেননি আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এতদিন বাদে অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। আরসিবি-র অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রকাশিত হল তাঁর বার্তা—‘জীবন কাউকে ৪ জুনের বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত রাখে না। আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তই পরিণত হল ট্র্যাজেডিতে। যাঁদের হারিয়েছি, তাঁদের পরিবারের জন্য ভাবছি, প্রার্থনা করছি। আহত সমর্থকদের কথাও স্মরণে আছে। আপনাদের এই ক্ষতি এখন আমাদের ইতিহাসেরই অংশ। একসঙ্গে আমরা এগোব, যত্ন, শ্রদ্ধা আর দায়িত্ব নিয়ে।’
এই প্রথম প্রকাশ্যে শোক প্রকাশ করলেন বিরাট। তাঁর কথায় দায়বোধের ছাপ স্পষ্ট। দীর্ঘ ৮৪ দিন আরসিবি নীরব ছিল। সমর্থকদের মনে প্রশ্ন দানা বাঁধে—কেন কোনও প্রতিক্রিয়া নেই? অবশেষে চুপ থাকার ব্যাখ্যা মেলে ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে। ‘আরসিবি কেয়ার্স’ নামে নয়া উদ্যোগ চালু করে তারা বলে, ‘এই নীরবতা অনুপস্থিতি নয়, ছিল শোক। জুনের চার তারিখ সব বদলে দেয়।’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিশ্রুতি—এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই দায়িত্ব তারা বুঝে নেবে।
এখানেই উঠেছে আসল বিতর্ক। শুধুমাত্র আবেগঘন বার্তায় দায়বদ্ধতা শেষ হয় না। প্রশ্ন থাকবেই—ভিড় নিয়ন্ত্রণে এত বড় ফাঁক রইল কেন? সমর্থকদের নিরাপত্তা কী কারণে অগ্রাধিকার পেল না? ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে বারবার দেখা যায়, দর্শকসংখ্যা অনুমানের বাইরে চলে গেলেই সুরক্ষা শতচ্ছিদ্র। বেঙ্গালুরুর সেই রাত যেন তার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মানে শুধু ব্যবসা বা বিনোদন নয়—সামাজিক দায়বদ্ধতাও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। মাঠের ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি—সবটাই অঙ্গীকারের অংশ হওয়া উচিত। কোহলির বার্তা নিঃসন্দেহে সৎ। তবু বড় শিক্ষা হল—কোনও জয়, কোনও ট্রফি, কোনও উল্লাস দর্শকের জীবনের চেয়ে বড় নয়। সেই কারণে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা ইউরোপীয় লিগগুলির মতো ভারতেও প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার আওয়াজ উঠেছে। মাঠে ঢোকা থেকে শুরু করে বেরনো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা জরুরি। ‘এখান থেকে নতুন পথে হাঁটতে হবে!’—বিরাটের এই প্রতিশ্রুতির মধ্যেই কি বদলের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত?