টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট না খেলার ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। যে কারণে নির্বাচন কমিটি ও বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের মনে সংশয় দানা বেঁধেছে।

রোহিত ও বিরাট
শেষ আপডেট: 10 August 2025 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড সিরিজে (England Series) জায়গা না পাওয়া থেকে বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা—বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) ভাগ্যাকাশ কতটা ঘুটঘুটে, তা ফের সামনে এল একটি রিপোর্টে। জানা যাচ্ছে, দুই মহাতারকাই নাকি অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে (Anderson-Tendulker Trophy) নামতে উদগ্রীব ছিলেন। কিন্তু নির্বাচকরা সটান জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত বাছাই তালিকায় তাঁদের নাম থাকার সুযোগ কম। যে কারণে দুজনই বাধ্য হয়ে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান। সিদ্ধান্তটা বাকিদের কাছে অপ্রত্যাশিত হলেও এমনটাই হওয়ার ছিল বলে সংবাদপত্র ‘দৈনিক জাগরণে’র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
টেস্টের অবসর-বিতর্ককে যদি আড়ালেও রাখি, তাহলেও দুই মহারথীর দুর্ভাবনা কমার এতটুকু লক্ষণ নেই। টার্গেট যদি সাতাশের বিশ্বকাপ হয়, সেখানেও বিরাট কিংবা রোহিত—কারও জায়গা পাকা নয়—এই খবর ক’দিন আগেই সামনে এসেছিল। এবার একধাপ এগিয়ে বিসিসিআইয়ের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, নিজেদের ফর্ম ও ফিটনেসের পরীক্ষা দিতে দুজনকেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে নামতে হবে। নয়তো দলে জায়গা মিলবে না। ওই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বিচার করে তাঁদের রাখা হবে বলে প্রতিবেদকের দাবি।
অর্থাৎ, বিষয়টা দাঁড়াল এই, বিরাট ও রোহিতের পক্ষে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়া মোটেও সহজ হবে না। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট না খেলার ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। যে কারণে নির্বাচন কমিটি ও বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের মনে সংশয় দানা বেঁধেছে। আর তাই বিশ্বকাপের দৌড়ে থাকতে হলে দুই তারকাকে ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিজয় হজারে ট্রফি—দেশের ঘরোয়া একদিনের প্রতিযোগিতায়—খেলতেই হবে। টুর্নামেন্টে ভাগ না নিলে দরজা খুলবে না। কিন্তু সেখানে ভাল খেললেও কতটা সু্যোগ পাবেন, তাও যথেষ্ট সংশয়ের। কারণ বোর্ডের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা আমাদের ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নেই!’ সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ড সফরে নামতে চেয়েছিলেন কোহলি ও রোহিত। কিন্তু নির্বাচকরা নাকি জানিয়ে দেন, তাঁদের জায়গালাভের সম্ভাবনা নেই। যে কারণে দুই তারকা নাকি টেস্ট ক্রিকেটকে আলবিদা জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের পরবর্তী একদিনের সিরিজ। প্রতিবেদন মতে, সেই সিরিজই হয়তো কোহলি-রোহিতের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, এই বয়সে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনের কারও ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য।
এই আবহে ইংল্যান্ডে সদ্যসমাপ্ত টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক শুভমান গিলের সাফল্যও নির্বাচকদের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করেছে। ভবিষ্যতের সব ধরনের ফরম্যাটের অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে অনেকেই দেখতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া, দলে একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারদের লাগাতার ভাল পারফরম্যান্স রোহিত-বিরাটের শূন্যতা মুছে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচকরা আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে তাঁদের উপরই ভরসা রেখে খেতাবজয়ের ব্লু-প্রিন্ট ছকে ফেলতে চাইছেন। দুই মহাতারকা আপাতত সেই ছকে বেমানান!