যদিও বিতর্ক এড়াতে বোর্ডের তরফে তাঁদের উপর কোনও জোর খাটানো হবে না। বাধ্য করা হবে না অবসর নিতে।

বিরাট-রোহিত
শেষ আপডেট: 6 August 2025 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই সামনে এসেছিল একটি রিপোর্ট—ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) নাকি রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলির (Virat Kohli) সঙ্গে আগামী পরিকল্পনা ও তাঁদের কেরিয়ার নিয়ে ‘সৎ’ (Honest), ‘পেশাদার’ (Professional) আলোচনা করতে ইচ্ছুক।
এর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে সামনে এল বড় আপডেট। শোনা যাচ্ছে, দুই তারকা ক্রিকেটারকেই নাকি সাফ সাফ জানিয়ে দেওয়া হবে, আগামী বিশ্বেকাপে (World Cup 2027) তাঁদের জায়গা পাকা নয়। পারফর্ম করতে হবে, প্রমাণ দিতে হবে, বাকিদের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটেও অংশ নিতে হবে। তারপর ফর্ম ও ফিটনেস বিবেচনা করে স্কোয়াডে রাখা-না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা!
ইংল্যান্ড সিরিজ ড্র করেও প্রশংসা কুড়িয়েছে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ভারতীয় দল। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নজর এখন পরের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের দিকে। আর সেই পরিকল্পনাই নির্ধারণ করতে পারে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ক্রিকেট-ভবিষ্যৎ।
দু’জনই ইতিমধ্যে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। সাধারণ ধারণা, রোহিত-বিরাট একদিনের ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন। লক্ষ্য সাতাশের বিশ্বকাপ। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বয়স, ফিটনেস আর ম্যাচ খেলার সুযোগ।
পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, আফ্রিকায় পরের বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও দু’বছরের বেশি সময় বাকি। একে কাজে লাগিয়ে বোর্ড তরুণদের সুযোগ দিতে চায়। লক্ষ্য, ২০১১ সালের পর ফের ট্রফি ঘরে আনা।
রোহিতের বয়স এখন ৩৮ বছর। কোহলির ৩৬। সবকিছু ঠিক থাকলে দেশের জার্সিতে পরের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন অক্টোবরে, অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের সিরিজে। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে, দেশের মাটিতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে আরও ছ’টি ওয়ান ডে ম্যাচ। এই ক’টি টুর্নামেন্ট কি বিশ্বকাপের জন্য সজীব ও উজ্জীবিত রাখার জন্য যথেষ্ট? প্রশ্ন উঠছে।
বোর্ডের এক সূত্রের বক্তব্য, ‘বিষয়টা নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আলোচনা হবে। বিশ্বকাপ নভেম্বর ২০২৭-এ। তখন কোহলি আর রোহিত প্রায় ৪০ ছুঁয়ে ফেলবেন। তাই এখন থেকেই স্পষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। শেষবার আমরা ২০১১-তে জিতেছিলাম। এই সময়পর্বে কয়েকজন তরুণকেও খেলিয়ে দেখতে হবে!’
যদিও বিতর্ক এড়াতে বোর্ডের তরফে তাঁদের উপর কোনও জোর খাটানো হবে না। বাধ্য করা হবে না অবসর নিতে। কোহলি ও রোহিত টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছেন বিশ্বকাপ জিতে। টেস্ট থেকে নিঃশব্দ অবসর। কিন্তু সেই ঘিরে ঘনিয়েছে বিতর্ক। পর্দার আড়ালে কি এমন কিছু ঘটেছিল, যে কারণে আগাম কোনও ইঙ্গিত ছাড়াই আচমকা সরে গেলেন দুই তারকা? ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সূত্রের সংযোজন, ‘দেখুন, সাদা বলের ক্রিকেটে দলের জন্য ও ক্রিকেটের স্বার্থে ওঁদের অসাধারণ অবদান। প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছেন। তাই জোর করে কাউকে সরানো হবে না। তবে পরের ওয়ান ডে চক্র শুরু হওয়ার আগে মানসিক ও শারীরিকভাবে তাঁরা কোথায় দাঁড়িয়ে, সেটা নিয়েই হবে খোলামেলা পেশাদার আলোচনা!’
যদিও আসল সমস্যা হল ফিট থাকার জন্য মাঠে নামা, ম্যাচের সুযোগ পাওয়া। রোহিত-কোহলি শেষ একদিনের ক্রিকেট খেলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে (২০২৫)। তার পর স্রেফ আইপিএল। এখন যেহেতু তাঁরা একটাই ফরম্যাট খেলবেন, তাই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ বিরতি অবশ্যম্ভাবী।
তাহলে কি নিজেদের ঝালিয়ে নিতে দেশীয় ক্রিকেটে নামতে হতে পারে? বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট না খেললে ঘরোয়া ম্যাচ নামতেই হবে। কিন্তু এখানেও ‘সময়ে’র বাধা। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাদা বলের মরশুম শুরু হয় নভেম্বর থেকে। আগে সৈয়দ মুস্তাক আলি (টি-টোয়েন্টি), তারপর ডিসেম্বরে বিজয় হজারে ট্রফি (ওয়ান ডে)।
তাই উঠেছে সঙ্গত প্রশ্ন—দু’জনের শরীর ও মন কি টানতে পারবে আরও তিন বছরের ম্যারাথন? বোর্ডের পরিকল্পনা কোন দিকে এগোয়, আপাতত সেটাই বড় কৌতূহলের বিষয়।